ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের ৩৪ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভ উদ্বোধন রুয়েটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন রাসিক প্রশাসক দিনাজপুরে ৪ হাজার ২৫০ প্রান্তিক কৃষকের মাঝে বিনামূল্যে বীজ, সার ও গাছের চারা বিতরণ আওয়ামী লীগ নৈরাজ্যের প্রতিবাদে সিরাজগঞ্জে বিক্ষোভ মিছিল নাগরপুরে পাট ক্ষেত থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার, তদন্তে পুলিশ আত্রাইয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তার চাল বিতরণ চিরিরবন্দরে সন্ধ্যা নামলেই মাদকের বিষাক্ত ছোবলে জর্জরিত দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ: সার্চ কমিটির বৈঠক আজ মৃত্যুদণ্ড থেকে ‘আমৃত্যু’ কারাবাস: চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আপিল বিভাগ

অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন

  • থিমস বিক্রি
  • আপডেট সময় ০৬:৪৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৫ বার পড়া হয়েছে
৫১

শিশুদের স্নায়ু বিকাশজনিত সমস্যাই হচ্ছে অটিজম; যেখানে শিশুর ভাষার সমস্যা, অন্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশা এবং আচরণের সমস্যা থাকতে পারে। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর প্রথম দিকের উপসর্গ হলো- শিশু কোনো কারণ ছাড়াই নিজে নিজে ঘুরে, কোনো বস্তুকে ঘুরায়, বস্তুর প্রতি মনোযোগ কমিয়ে দেয়, সে নিজের মতো করে চলতে পছন্দ করে, কখনো কখনো ১৮-১৯ মাসের দিকে শিশুর পূর্বের কথাগুলো কমে যায়।

স্পেশাল শিশুর অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ হলো- চিকিৎসক যদি কোনো ওষুধের পরামর্শ দেন তাহলে নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খাওয়ান, নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ করবেন না। দিনে তিন থেকে চারবার থেরাপি দিন বা ব্যায়াম করান। দিনে তিন থেকে চারবার খাওয়ান। শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন, টিভি দেখা থেকে বিরত রাখুন। রাত্রের বেলায় পরিপূর্ণ ঘুম নিশ্চিত করুন। মনে রাখবেন, ঘুমের সমস্যা হলে কথা বলা এবং আচরণে সমস্যা দেখা দেয়।

বুধবার (৫ মার্চ) ইএমআই স্পেশাল স্কুল অ্যান্ড থেরাপি সেন্টার আয়োজিত এক জুম মিটিংয়ে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পূর্ণ শিশুদের অভিভাবকদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অটিজম অ্যান্ড এনডিডি সেলের সাবেক পরিচালক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু নিউরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. গোপেন কুমার কুন্ডু। দেশের নানা প্রান্ত থেকে অভিভাবকরা এবং স্পেশাল স্কুলের শিক্ষকরা এতে অংশ নেন। অভিভাবকরা তাদের শিশুদের নানা সমস্যার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সরাসরি পরামর্শ দেন।

অধ্যাপক গোপেন কুমার কুন্ডু বলেন, ঘুমের সমস্যা, খিঁচুনি, অতি চঞ্চলতা ও অমনোযোগিতা, দাঁত কিরমির করা, আচরণে সমস্যা, হজমের সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হলো অটিজম শিশুর আনুষঙ্গিক অসুবিধা। এগুলোর ব্যাপারে অভিভাবকদের খুব সচেতন থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অটিজম রয়েছে এমন শিশুদের ভাষা শিখতে সমস্যা হয়, শব্দ বা স্পর্শের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা বা সংবেদনহীনতা থাকতে পারে, পাশাপাশি কখনো কখনো আচরণের সমস্যা দেখা দেয়। অনেকে নাম ধরে ডাকলে সাড়া দেয় না, চোখে চোখ রেখে তাকায় না; কারও কারও অটিজমের সঙ্গে অতিচঞ্চল অমনোযোগিতা (এডিএইচডি) বা খিঁচুনি থাকতে পারে।

অটিজমের ব্যবস্থাপনা হিসেবে তিনি স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি প্রদান, খিঁচুনি ও চঞ্চলতার চিকিৎসা করা এবং কাউস্নেলিং হিসেবে স্পেশাল স্কুলিং, ইনক্লুসিভ স্কুলে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।

গোপেন কুমার কুন্ডু বলেন, একটি শিশুর জন্মের ৩ বছরের মধ্যে অটিজমের লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রথম ১৮ মাস বয়স পর্যন্ত এটা বোঝা যায় না। ১৮ মাসের পর থেকে ৩ বছর বয়সের মধ্যে একটা শিশুর মধ্যে কিছু লক্ষণ দেখা যায়। প্রথম তিন বছর পর্যন্ত খেয়াল রাখতে হবে, আপনার শিশুর খিঁচুনি, কথা বলতে কোনো অসুবিধা বা রাত্রে ঘুমের কোনো অসুবিধা হচ্ছে কিনা। এসব সমস্যায় তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে বেশ উন্নতি হয়।

তিনি আরও বলেন, যদি কোন শিশুর মস্তিষ্কের অসুবিধা থাকে তাহলে চোখ এবং কানের অসুবিধাও হতে পারে। এজন্য চোখ এবং কানের চিকিৎসাও করা জরুরি।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস করছে শিক্ষার্থীরা

অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন

আপডেট সময় ০৬:৪৩:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
৫১

শিশুদের স্নায়ু বিকাশজনিত সমস্যাই হচ্ছে অটিজম; যেখানে শিশুর ভাষার সমস্যা, অন্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশা এবং আচরণের সমস্যা থাকতে পারে। অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন শিশুর প্রথম দিকের উপসর্গ হলো- শিশু কোনো কারণ ছাড়াই নিজে নিজে ঘুরে, কোনো বস্তুকে ঘুরায়, বস্তুর প্রতি মনোযোগ কমিয়ে দেয়, সে নিজের মতো করে চলতে পছন্দ করে, কখনো কখনো ১৮-১৯ মাসের দিকে শিশুর পূর্বের কথাগুলো কমে যায়।

স্পেশাল শিশুর অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ হলো- চিকিৎসক যদি কোনো ওষুধের পরামর্শ দেন তাহলে নিয়ম অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খাওয়ান, নিজে নিজে ওষুধ বন্ধ করবেন না। দিনে তিন থেকে চারবার থেরাপি দিন বা ব্যায়াম করান। দিনে তিন থেকে চারবার খাওয়ান। শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন, টিভি দেখা থেকে বিরত রাখুন। রাত্রের বেলায় পরিপূর্ণ ঘুম নিশ্চিত করুন। মনে রাখবেন, ঘুমের সমস্যা হলে কথা বলা এবং আচরণে সমস্যা দেখা দেয়।

বুধবার (৫ মার্চ) ইএমআই স্পেশাল স্কুল অ্যান্ড থেরাপি সেন্টার আয়োজিত এক জুম মিটিংয়ে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পূর্ণ শিশুদের অভিভাবকদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অটিজম অ্যান্ড এনডিডি সেলের সাবেক পরিচালক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিশু নিউরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. গোপেন কুমার কুন্ডু। দেশের নানা প্রান্ত থেকে অভিভাবকরা এবং স্পেশাল স্কুলের শিক্ষকরা এতে অংশ নেন। অভিভাবকরা তাদের শিশুদের নানা সমস্যার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি সরাসরি পরামর্শ দেন।

অধ্যাপক গোপেন কুমার কুন্ডু বলেন, ঘুমের সমস্যা, খিঁচুনি, অতি চঞ্চলতা ও অমনোযোগিতা, দাঁত কিরমির করা, আচরণে সমস্যা, হজমের সমস্যা বা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা হলো অটিজম শিশুর আনুষঙ্গিক অসুবিধা। এগুলোর ব্যাপারে অভিভাবকদের খুব সচেতন থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, অটিজম রয়েছে এমন শিশুদের ভাষা শিখতে সমস্যা হয়, শব্দ বা স্পর্শের প্রতি অতি সংবেদনশীলতা বা সংবেদনহীনতা থাকতে পারে, পাশাপাশি কখনো কখনো আচরণের সমস্যা দেখা দেয়। অনেকে নাম ধরে ডাকলে সাড়া দেয় না, চোখে চোখ রেখে তাকায় না; কারও কারও অটিজমের সঙ্গে অতিচঞ্চল অমনোযোগিতা (এডিএইচডি) বা খিঁচুনি থাকতে পারে।

অটিজমের ব্যবস্থাপনা হিসেবে তিনি স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি প্রদান, খিঁচুনি ও চঞ্চলতার চিকিৎসা করা এবং কাউস্নেলিং হিসেবে স্পেশাল স্কুলিং, ইনক্লুসিভ স্কুলে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।

গোপেন কুমার কুন্ডু বলেন, একটি শিশুর জন্মের ৩ বছরের মধ্যে অটিজমের লক্ষণ প্রকাশ পায়। প্রথম ১৮ মাস বয়স পর্যন্ত এটা বোঝা যায় না। ১৮ মাসের পর থেকে ৩ বছর বয়সের মধ্যে একটা শিশুর মধ্যে কিছু লক্ষণ দেখা যায়। প্রথম তিন বছর পর্যন্ত খেয়াল রাখতে হবে, আপনার শিশুর খিঁচুনি, কথা বলতে কোনো অসুবিধা বা রাত্রে ঘুমের কোনো অসুবিধা হচ্ছে কিনা। এসব সমস্যায় তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা নিলে বেশ উন্নতি হয়।

তিনি আরও বলেন, যদি কোন শিশুর মস্তিষ্কের অসুবিধা থাকে তাহলে চোখ এবং কানের অসুবিধাও হতে পারে। এজন্য চোখ এবং কানের চিকিৎসাও করা জরুরি।