, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
কাউনিয়ায় কলাগাছের বর্জ্য থেকে সম্পদ তৈরির প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সভা ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ভাঙ্গুড়ায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প শেরপুরে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল ভাঙ্গুড়ায় ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া নেছারাবাদে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ছারছীনা দরবারের বিশাল আনন্দ মিছিল গোবিপ্রবিতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত বরিশালে যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র ঈদ-ই-মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন কাউনিয়ায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় বৃদ্ধার মৃত্যু ঈশ্বরগঞ্জ ও সোহাগী রেলস্টেশন চালুর দাবিতে জনদুর্ভোগ

৩ মাসে বাংলাদেশের ১ কোটি ৩২ লাখ ভিডিও সরিয়ে দিল টিকটক

  • MD KAMRUL HASAN, NEWS EDITOR, DAINIK AMAR PATRIKA
  • আপডেট সময় ০২:১৮:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • 83

৩ মাসে বাংলাদেশের ১ কোটি ৩২ লাখ ভিডিও সরিয়ে দিল টিকটক

৯৫

টিকটকের ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) সর্বশেষ ‘কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট’ থেকে জানা গেছে, এই তিন মাসে বাংলাদেশ থেকে নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে ১ কোটি ৩২ লাখ ১৮ হাজার ৪টি ভিডিও অপসারণ করেছে জনপ্রিয় এই শর্ট-ভিডিও প্ল্যাটফর্ম। এটি ওই সময়ে দেশে আপলোড হওয়া মোট ভিডিওর আনুমানিক ০.৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে সরিয়ে ফেলা ভিডিওগুলোর ৯৯.৬ শতাংশই সাধারণ ব্যবহারকারীদের কোনো অভিযোগ বা রিপোর্ট করার আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে মুছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪.৪ শতাংশ ভিডিও পোস্ট করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে যথাযথ আপিল ও পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে ৩ লাখ ২০ হাজার ৫৯৩টি ভিডিও আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: একই প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে টিকটক মোট ১৮ কোটি ৪০ লাখ ১২ হাজার ৫৭৬টি ভিডিও অপসারণ করেছে, যা বিশ্বব্যাপী আপলোড করা মোট কনটেন্টের প্রায় ০.৫ শতাংশ। এর মধ্যে ১৭ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজার ১৫৪টি ভিডিও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে সরানো হয়। পরবর্তী সময়ে রিভিউ শেষে ৮৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭১০টি ভিডিও পুনরায় সচল করা হয়।

টিকটক জানিয়েছে যে, তাদের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত মডারেশন সিস্টেমের কারণে যেকোনো ভিডিওতে ভিউ বা দর্শক পাওয়ার আগেই এবং পুরোনো নীতিমালা ভঙ্গকারী কনটেন্টগুলো অত্যন্ত দ্রুততার সাথে শনাক্ত করে মুছে ফেলা সম্ভব হচ্ছে। ভিডিওর পাশাপাশি আপত্তিকর মন্তব্য নিয়ন্ত্রণেও কঠোর ভূমিকা রাখছে প্ল্যাটফর্মটি। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে ২৩ কোটি ৭৫ লাখ ১৭ হাজার ১২৮টি আপত্তিকর কমেন্ট বা মন্তব্য ডিলিট করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী প্রান্তিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি।

অ্যাকাউন্ট ও কমেন্ট অপসারণ: বিশ্বব্যাপী কনটেন্ট সরানোর ক্ষেত্রে টিকটকের সক্রিয়তার হার ছিল ৯৯.৩ শতাংশ এবং শনাক্ত হওয়া কনটেন্টের ৯৪.৪ শতাংশই পোস্ট হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুছে ফেলা হয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এ সময় ৮ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৫টি ভুয়া (Fake) অ্যাকাউন্ট এবং ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীর সন্দেহে আরও ২ কোটি ৫৭ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭২টি অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হয়েছে।

নীতিমালা লঙ্ঘনের ধরন: অপসারণ করা ভিডিওগুলোর মধ্যে ১৮.৬ শতাংশ ছিল সংবেদনশীল বা স্পর্শকাতর বিষয়বস্তুর, ১৬.৫ শতাংশ বিপজ্জনক কার্যকলাপ ও ক্ষতিকর চ্যালেঞ্জ, ১২.৯ শতাংশ অশালীন বা অশোভন আচরণ এবং ১২.৬ শতাংশ নিরাপত্তা ও সামাজিক আচরণবিষয়ক নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে সরানো হয়েছে। এছাড়া ২.১ শতাংশ ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি (AIGC) বা সম্পাদিত (Edited) মিডিয়া হিসেবে চিহ্নিত করে অপসারণ করা হয়।

ব্যবহারকারীদের জন্য স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টিকটক নিয়মিত এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের এই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টটি টিকটকের অফিসিয়াল ট্রান্সপারেন্সি সেন্টারে বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় বিস্তারিত দেখা যাবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

কাউনিয়ায় কলাগাছের বর্জ্য থেকে সম্পদ তৈরির প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সভা

৩ মাসে বাংলাদেশের ১ কোটি ৩২ লাখ ভিডিও সরিয়ে দিল টিকটক

আপডেট সময় ০২:১৮:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
৯৫

টিকটকের ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) সর্বশেষ ‘কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট’ থেকে জানা গেছে, এই তিন মাসে বাংলাদেশ থেকে নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে ১ কোটি ৩২ লাখ ১৮ হাজার ৪টি ভিডিও অপসারণ করেছে জনপ্রিয় এই শর্ট-ভিডিও প্ল্যাটফর্ম। এটি ওই সময়ে দেশে আপলোড হওয়া মোট ভিডিওর আনুমানিক ০.৮ শতাংশ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে সরিয়ে ফেলা ভিডিওগুলোর ৯৯.৬ শতাংশই সাধারণ ব্যবহারকারীদের কোনো অভিযোগ বা রিপোর্ট করার আগেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করে মুছে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৯৪.৪ শতাংশ ভিডিও পোস্ট করার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তবে পরবর্তীতে যথাযথ আপিল ও পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই শেষে ৩ লাখ ২০ হাজার ৫৯৩টি ভিডিও আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট: একই প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে টিকটক মোট ১৮ কোটি ৪০ লাখ ১২ হাজার ৫৭৬টি ভিডিও অপসারণ করেছে, যা বিশ্বব্যাপী আপলোড করা মোট কনটেন্টের প্রায় ০.৫ শতাংশ। এর মধ্যে ১৭ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজার ১৫৪টি ভিডিও স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির মাধ্যমে শনাক্ত করে সরানো হয়। পরবর্তী সময়ে রিভিউ শেষে ৮৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭১০টি ভিডিও পুনরায় সচল করা হয়।

টিকটক জানিয়েছে যে, তাদের উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) চালিত মডারেশন সিস্টেমের কারণে যেকোনো ভিডিওতে ভিউ বা দর্শক পাওয়ার আগেই এবং পুরোনো নীতিমালা ভঙ্গকারী কনটেন্টগুলো অত্যন্ত দ্রুততার সাথে শনাক্ত করে মুছে ফেলা সম্ভব হচ্ছে। ভিডিওর পাশাপাশি আপত্তিকর মন্তব্য নিয়ন্ত্রণেও কঠোর ভূমিকা রাখছে প্ল্যাটফর্মটি। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে ২৩ কোটি ৭৫ লাখ ১৭ হাজার ১২৮টি আপত্তিকর কমেন্ট বা মন্তব্য ডিলিট করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী প্রান্তিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেশি।

অ্যাকাউন্ট ও কমেন্ট অপসারণ: বিশ্বব্যাপী কনটেন্ট সরানোর ক্ষেত্রে টিকটকের সক্রিয়তার হার ছিল ৯৯.৩ শতাংশ এবং শনাক্ত হওয়া কনটেন্টের ৯৪.৪ শতাংশই পোস্ট হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুছে ফেলা হয়েছে। এছাড়া প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এ সময় ৮ কোটি ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৫টি ভুয়া (Fake) অ্যাকাউন্ট এবং ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীর সন্দেহে আরও ২ কোটি ৫৭ লাখ ৬৪ হাজার ৩৭২টি অ্যাকাউন্ট স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হয়েছে।

নীতিমালা লঙ্ঘনের ধরন: অপসারণ করা ভিডিওগুলোর মধ্যে ১৮.৬ শতাংশ ছিল সংবেদনশীল বা স্পর্শকাতর বিষয়বস্তুর, ১৬.৫ শতাংশ বিপজ্জনক কার্যকলাপ ও ক্ষতিকর চ্যালেঞ্জ, ১২.৯ শতাংশ অশালীন বা অশোভন আচরণ এবং ১২.৬ শতাংশ নিরাপত্তা ও সামাজিক আচরণবিষয়ক নীতিমালা লঙ্ঘনের দায়ে সরানো হয়েছে। এছাড়া ২.১ শতাংশ ভিডিও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা তৈরি (AIGC) বা সম্পাদিত (Edited) মিডিয়া হিসেবে চিহ্নিত করে অপসারণ করা হয়।

ব্যবহারকারীদের জন্য স্বচ্ছতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে টিকটক নিয়মিত এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে থাকে। ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের এই পূর্ণাঙ্গ রিপোর্টটি টিকটকের অফিসিয়াল ট্রান্সপারেন্সি সেন্টারে বাংলা ও ইংরেজি—উভয় ভাষায় বিস্তারিত দেখা যাবে।