, শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
নাটোরের লালপুরে ৫২৫ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার দুই প্রতিটি পূজা মণ্ডপের জন্য ৬০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ। পূজামণ্ডপে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াচ্ছে এসআরবি-১৫ কাউনিয়ায় বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন রংপুরের জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কাউনিয়ায় ৭৫ পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গা উৎসব।থাকছে কঠোর নিরাপত্তা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা দেবীগঞ্জে ১০০ পিস ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ যুবক আটক লালপুরে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় সাইকেল আরোহী নিহত শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে ফুলবাড়ীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রস্তুতিমূলক বৈঠক উখিয়ায় ডুবন্ত কাঠের ক্যারিয়ার উদ্ধার,ইয়াবা পাচারে অভিনব কৌশল

কাউনিয়ায় আমনের বাম্পার ফলনের আশা, শেষ বেলায় পোকার শঙ্কা

কাউনিয়ায় আমনের বাম্পার ফলনের আশা, শেষ বেলায় পোকার শঙ্কা

৭৪

সবুজে ছেয়ে গেছে রংপুরের কাউনিয়ার বিস্তীর্ণ আমনখেত। কোনো কোনো জমিতে ধানের শিষ বের হয়েছে, আবার কোথাও শিষের দানা পুষ্ট হতে শুরু করেছে। আগাম জাতসহ বিভিন্ন জাতের আমন ধান এখন পরিপক্বতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো পরিচর্যা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করায় এবার ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষকেরা। তবে ধান ঘরে তোলার আগমুহূর্তে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িংসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণের শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমনখেতের ধানগাছ সতেজ ও সবল। অনেক জমিতে ভালো শিষ এসেছে। কোনো কোনো জমিতে ধানের দানা পুষ্ট হওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ছে। মাঠজুড়ে ধানের সবুজের সঙ্গে কোথাও কোথাও ফুটে উঠেছে সোনালি আভা। কৃষকেরা বলছেন, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ও ধানের অবস্থা অনুকূলে থাকায় আশানুরূপ ফলনের আশা করছেন তাঁরা। তবে ধান কাটার আগ পর্যন্ত রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ কাটছে না।

কৃষকদের আশঙ্কা, শেষ সময়ে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িং বা অন্য কোনো ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ হলে এত দিনের শ্রম ও বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়তে পারে। এতে শুধু ফলন কমার আশঙ্কাই নয়, বাড়তে পারে বালাইনাশক ও অতিরিক্ত পরিচর্যার খরচও।
কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, সেচ, আগাছা দমনসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যায় তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন। উপজেলা কৃষি দপ্তরের পরামর্শ অনুসরণ করে অনেক কৃষক সময়মতো বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। ফলে অনুকূল আবহাওয়ার সঙ্গে যথাযথ পরিচর্যার সমন্বয়ে অধিকাংশ জমিতেই ধানের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে।

বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিশ্বর গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন, “গত বছর ধানের অবস্থা শুরুতে খুব ভালো ছিল। কিন্তু শেষের দিকে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িংসহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণে খেতের ক্ষতি হয়েছিল। এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে ধান আবাদ করেছি। এখন ধানের অবস্থা ভালো। ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি। তবে শেষ সময়ে পোকার আক্রমণ নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। এত দিনের পরিশ্রম যেন নষ্ট না হয়।”
একই গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “গত বছর প্রথম দিকে খেত খুব ভালো হয়েছিল। কিন্তু শেষের দিকে পোকার আক্রমণের কারণে পুরো খেত নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার ধানের অবস্থা ভালো। তারপরও ধান ঘরে না তোলা পর্যন্ত ভয় কাটছে না। শেষ সময়ে কোনো পোকা বা রোগ হলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সালাহউদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে আগাম আমনসহ উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৪৭০ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কমরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন কৃষককে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন এছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক কৃষকের পাশে রয়েছে । তিনি আরও বলেন কোনো জমিতে রোগবালাই বা পোকার সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের অথবা উপজেলা কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সমস্যার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। কৃষকদের অতিরিক্ত বালাইনাশক প্রয়োগই পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় নয়। নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ, সঠিক সময়ে পোকার উপস্থিতি শনাক্ত করা এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করাই কার্যকর পদ্ধতি। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে কৃষিজমির উপকারী জীববৈচিত্র্যও সুরক্ষিত থাকবে।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

নাটোরের লালপুরে ৫২৫ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার দুই

কাউনিয়ায় আমনের বাম্পার ফলনের আশা, শেষ বেলায় পোকার শঙ্কা

আপডেট সময় ০৮:০৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৭৪

সবুজে ছেয়ে গেছে রংপুরের কাউনিয়ার বিস্তীর্ণ আমনখেত। কোনো কোনো জমিতে ধানের শিষ বের হয়েছে, আবার কোথাও শিষের দানা পুষ্ট হতে শুরু করেছে। আগাম জাতসহ বিভিন্ন জাতের আমন ধান এখন পরিপক্বতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো পরিচর্যা ও কৃষি বিভাগের পরামর্শ মেনে চাষাবাদ করায় এবার ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষকেরা। তবে ধান ঘরে তোলার আগমুহূর্তে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িংসহ বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকার আক্রমণের শঙ্কায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ আমনখেতের ধানগাছ সতেজ ও সবল। অনেক জমিতে ভালো শিষ এসেছে। কোনো কোনো জমিতে ধানের দানা পুষ্ট হওয়ার দৃশ্যও চোখে পড়ছে। মাঠজুড়ে ধানের সবুজের সঙ্গে কোথাও কোথাও ফুটে উঠেছে সোনালি আভা। কৃষকেরা বলছেন, এখন পর্যন্ত আবহাওয়া ও ধানের অবস্থা অনুকূলে থাকায় আশানুরূপ ফলনের আশা করছেন তাঁরা। তবে ধান কাটার আগ পর্যন্ত রোগবালাই ও পোকার আক্রমণ নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ কাটছে না।

কৃষকদের আশঙ্কা, শেষ সময়ে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িং বা অন্য কোনো ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ হলে এত দিনের শ্রম ও বিনিয়োগ হুমকির মুখে পড়তে পারে। এতে শুধু ফলন কমার আশঙ্কাই নয়, বাড়তে পারে বালাইনাশক ও অতিরিক্ত পরিচর্যার খরচও।
কৃষকেরা জানান, মৌসুমের শুরু থেকেই জমি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, সেচ, আগাছা দমনসহ প্রয়োজনীয় পরিচর্যায় তাঁরা গুরুত্ব দিয়েছেন। উপজেলা কৃষি দপ্তরের পরামর্শ অনুসরণ করে অনেক কৃষক সময়মতো বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন। ফলে অনুকূল আবহাওয়ার সঙ্গে যথাযথ পরিচর্যার সমন্বয়ে অধিকাংশ জমিতেই ধানের বৃদ্ধি ভালো হয়েছে।

বালাপাড়া ইউনিয়নের হরিশ্বর গ্রামের কৃষক আফসার আলী বলেন, “গত বছর ধানের অবস্থা শুরুতে খুব ভালো ছিল। কিন্তু শেষের দিকে মাজরা পোকা, বাদামি গাছফড়িংসহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণে খেতের ক্ষতি হয়েছিল। এবার কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে ধান আবাদ করেছি। এখন ধানের অবস্থা ভালো। ফলনও ভালো হবে বলে আশা করছি। তবে শেষ সময়ে পোকার আক্রমণ নিয়ে চিন্তা হচ্ছে। এত দিনের পরিশ্রম যেন নষ্ট না হয়।”
একই গ্রামের কৃষক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “গত বছর প্রথম দিকে খেত খুব ভালো হয়েছিল। কিন্তু শেষের দিকে পোকার আক্রমণের কারণে পুরো খেত নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। এবার ধানের অবস্থা ভালো। তারপরও ধান ঘরে না তোলা পর্যন্ত ভয় কাটছে না। শেষ সময়ে কোনো পোকা বা রোগ হলে বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সালাহউদ্দিন জানান, চলতি মৌসুমে আগাম আমনসহ উপজেলায় আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১১ হাজার ৪৭০ হেক্টর। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ১১ হাজার ৪৬০ হেক্টর জমিতে। মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কমরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাগন কৃষককে নিয়মিত পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন এছাড়াও উপজেলা কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক কৃষকের পাশে রয়েছে । তিনি আরও বলেন কোনো জমিতে রোগবালাই বা পোকার সমস্যা দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের অথবা উপজেলা কৃষি অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে। সমস্যার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। কৃষকদের অতিরিক্ত বালাইনাশক প্রয়োগই পোকার আক্রমণ নিয়ন্ত্রণের একমাত্র উপায় নয়। নিয়মিত মাঠ পর্যবেক্ষণ, সঠিক সময়ে পোকার উপস্থিতি শনাক্ত করা এবং সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা অনুসরণ করাই কার্যকর পদ্ধতি। এতে একদিকে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে, অন্যদিকে কৃষিজমির উপকারী জীববৈচিত্র্যও সুরক্ষিত থাকবে।