শিবচর উপজেলা প্রতিনিধি
একটি কলমের ব্যবহার শেষ হলে সেটির স্থান হয় ডাস্টবিন কিংবা বাড়ির কোণের ময়লার স্তূপে। প্লাস্টিকের তৈরি এসব পরিত্যক্ত কলম সহজে মাটিতে পচে না; বরং বছরের পর বছর জমে থেকে ত্বরান্বিত করে পরিবেশ দূষণ। প্লাস্টিকের এই ক্ষতিকর প্রভাব দূর করতে এবং বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর করতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাদারীপুরের শিবচরের তরুণ উদ্যোক্তা জামাল শিকদার। সাধারণ কাগজের সঙ্গে গঁদ মিশিয়ে তিনি তৈরি করছেন বিশেষ পরিবেশবান্ধব কলম, যার ভেতরে থাকছে বিভিন্ন ফলদ, সবজি ও ফুলের বীজ।
২০২২ সালে নিজের চাকরি ছেড়ে পরিবেশ রক্ষায় ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগ শুরু করেন জামাল শিকদার। বর্তমানে তার তৈরি কারখানায় প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১২ হাজার কাগজের কলম উৎপাদিত হচ্ছে। এই উদ্ভাবনী কলম বিক্রি করে তিনি মাসে লক্ষাধিক টাকা আয় করছেন। কেবল নিজের আত্মকর্মসংস্থানই নয়, শিবচরের বহু পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা এনে দিয়েছে তার এই ক্ষুদ্র উদ্যোগ। জামাল শিকদারের কারখানায় বর্তমানে ৩০ জন নারী ও ১৫ জন পুরুষ কর্মী কাজ করছেন।
এ প্রসঙ্গে উদ্যোক্তা জামাল শিকদার বলেন, “প্লাস্টিকের কলম পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি করে। তাই প্লাস্টিক বর্জ্য কমাতে কাগজের কলম তৈরির পরিকল্পনা করি। এতে ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছি। কাগজ মাটিতে সহজেই পচে যায়। তাছাড়া প্রতিটি কলমের ভেতরে আমরা একটি করে মরিচ, বেগুন, টমেটো বা অন্যান্য শাকসবজি ও ফুলের বীজ দিয়ে দিচ্ছি। লেখা শেষে কলমটি মাটিতে ফেলে দিলে বা পুঁতে দিলে কাগজ পচে গিয়ে সেখান থেকেই জন্ম নেয় একটি নতুন চারাগাছ। কারখানায় কর্মরত নারী কর্মী ও স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্যও এটি আয়ের পথ তৈরি করে দিয়েছে।
এক নারী কর্মী জানান, প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত কাজ করে তারা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় করছেন, যা দিয়ে স্বাচ্ছন্দে সংসার চলছে। কলেজ পড়ুয়া এক ছাত্র কর্মী জানায়, লেখাপড়ার পাশাপাশি এখানে পার্টটাইম কাজ করে তাদের কলেজের ফি ও নিজস্ব হাতখরচের টাকা উঠে যাচ্ছে, পরিবার থেকে আর কোনো আর্থিক সাহায্য নিতে হচ্ছে না।
শিবচর উপজেলা কৃষি অফিসার আলিমুজ্জামান বলেন: জামাল শিকদারের এই উদ্যোগকে চমৎকার ও পরিবেশবান্ধব বলে আখ্যায়িত করেছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “কাগজের তৈরি এই কলমটি একই সাথে পরিবেশ রক্ষা করছে এবং ভোক্তা ব্যবহার শেষে একটি সবজির চারা পাচ্ছে। এটি খুবই চমৎকার একটি ধারণা, যা মাদারীপুর ছাড়িয়ে পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়া উচিত। জামাল শিকদারের এই উদ্যোগে মানসম্মত বীজের কোনো অভাব হলে কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় বীজ সরবরাহসহ সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করা হবে।
সাধারণ প্লাস্টিক বর্জ্যের বিপরীতে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার এই প্রয়াসকে স্থানীয়রা গভীরভাবে প্রশংসা করেছেন। বর্জ্য থেকে সবুজ বৃক্ষ জন্ম দেওয়ার এই ধারা ভবিষ্যতে পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মোঃ শামীম আহমেদ শিবচর উপজেলা প্রতিনিধ
০১৭৩৪০৮৪১২২
৩০/০৯/২০২৬

























