জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক ও সদস্য সচিব গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও বাগবিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের ১৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তামজিদ সরোয়ার লাবিব গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে উগ্র আচরণের মুখোমুখি হতে হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরকে।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, গত ৩ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে ছাত্রদলের দুই গ্রুপের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে এ সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। ভুক্তভোগীর বন্ধু মোহাম্মাদ হাবিবুল্লাহর বিবৃতি অনুযায়ী, পূর্ব শত্রুতার ধারাবাহিকতায় ফোকলোর বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আছিমুল খানের নেতৃত্বে একটি গ্রুপ নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী লাবিব ও তার বন্ধুদের ওপর পরিকল্পিত হামলা চালায়। অতর্কিত এই হামলায় হাতুড়ি দিয়ে লাবিবের বুকে ও মাথায় আঘাত করে মারাত্মক জখম করা হয়।
গুরুতর আহত অবস্থায় লাবিবকে উদ্ধার করে দ্রুত ত্রিশাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তার মাথায় ৬টি সেলাই দেন। আঘাতের তীব্রতা বেশি হওয়ায় তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহ মেডিকেলে নিয়ে যাওয়ার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ও স্থানীয় যুবদলের বহিষ্কৃত নেতা শাহাবুল আলম বাধা দেন। তিনি জোরপূর্বক আহত লাবিবকে নিজের বাইকে তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেটের বাইরে নিজস্ব আড্ডাস্থলে নিয়ে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের চাপে লাবিবকে হলের সামনে ফেলে যাওয়া হয়। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে আহত শিক্ষার্থীকে ময়মনসিংহে পাঠাতে চাইলে অ্যাম্বুলেন্স চালক মনির হোসেনকেও হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা যায়।
গভীর রাতে পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রক্টরের উপস্থিতিতেই ছাত্রদল নেতাদের একটি গ্রুপ অত্যন্ত উগ্র আচরণ প্রদর্শন করে এবং তাকে নানাভাবে অবজ্ঞা করে কথা বলে। সম্প্রতি ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠিত হওয়ার পর থেকে কয়েকদিন পরপরই ক্যাম্পাসে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি, বারবার এমন সহিংসতা হলেও প্রক্টরিয়াল বডি কোনো বলিষ্ঠ পদক্ষেপ নিতে পারছে না।
এছাড়া বহিরাগত ওই যুবদল নেতা শাহ মো. সাহাবুল আলমের অব্যাহত হস্তক্ষেপে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন কাজে চাঁদা দাবি, নিয়োগে প্রভাব বিস্তার, সাবেক শিক্ষার্থীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া এবং সম্প্রতি ত্রিশাল বাজারে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, “ক্যাম্পাসে একটা ঝামেলা হয়েছিল। তবে আমরা আসার পর এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে।”
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সদস্য সচিব মামুন সরকার বলেন, “আমি ঘটনার শুরুতে ক্যাম্পাসে ছিলাম না, আমি আসার পর পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করি। এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। আমি চাই না ক্যাম্পাসে এমন মারামারি অরাজকতা তৈরি হোক। তারা হয়তো স্বার্থসিদ্ধির জন্য এমন ঘটনা তৈরি করছে।”
অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক হাবিব আহমেদ বলেন, “আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের যারা নৈরাজ্য তৈরি করছে তাদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ যেন কোনো অবস্থায়ই অনুপ্রবেশ করে নৈরাজ্য তৈরি করতে না পারে সে ব্যাপারে আমরা কার্যকর ভূমিকা পালন করব।”
ক্যাম্পাসে বারবার ঘটা এমন সহিংসতা, প্রশাসনিক পদক্ষেপের শিথিলতা এবং বহিরাগতদের প্রভাব নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা অনতিবিলম্বে হামলায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি এবং নিরাপদ ক্যাম্পাস নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।


























