গোপালগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবন নির্মাণের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে জেলা আইনজীবী সমিতি চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভবনটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্লা, গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানি এবং গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর।
অনুষ্ঠানে গোপালগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. সামছুল হক, গোপালগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রাফিকুজ্জামান, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী আবুল খায়ের, সাধারণ সম্পাদক এম এ আলম সেলিমসহ সমিতির বিভিন্ন পর্যায়ের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বিচারপ্রার্থীদের আইনি সহায়তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রক্রিয়ায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে তাঁদের পেশাগত কাজের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো থাকা জরুরি। নতুন ভবন নির্মাণের ফলে আইনজীবীদের কর্মপরিবেশ উন্নত হওয়ার পাশাপাশি আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীরাও আরও ভালো সেবা পাবেন বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান মোল্লা বলেন, আইনজীবী সমিতির নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগটি দীর্ঘদিনের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। বিচারব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে আইনজীবীদের দায়িত্ব পালনের জন্য আধুনিক ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ কর্মপরিবেশ থাকা দরকার। নতুন ভবন সেই প্রয়োজন পূরণে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা করেন।
সংসদ সদস্য এস এম জিলানি বলেন, আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের দাবির বিষয়টি বিবেচনা করেই নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ভবন হলে আইনজীবীদের পাশাপাশি আদালতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও উপকৃত হবেন। নির্মাণকাজ সুষ্ঠু ও নির্ধারিত সময়ে শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেন, একটি জেলার আইন ও বিচারব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়নের সঙ্গে অবকাঠামোগত সুবিধার বিষয়টিও জড়িত। নতুন ভবন নির্মাণের মাধ্যমে আইনজীবীদের জন্য আরও কার্যকর কর্মপরিবেশ তৈরি হবে। এর সুফল বিচারপ্রার্থীদের সেবাতেও প্রতিফলিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. সামছুল হক বলেন, বিচারিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার আইনজীবীরা। তাঁদের কর্মপরিবেশ যত উন্নত হবে, বিচারপ্রার্থীদের সেবার মানও তত বাড়বে। এ বিবেচনায় জেলা আইনজীবী সমিতির নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফ রাফিকুজ্জামান বলেন, আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রয়োজন পূরণে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ প্রশংসনীয়। আধুনিক সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা থাকলে আইনজীবীরা আরও দক্ষতার সঙ্গে তাঁদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এর প্রভাব পুরো জেলার আইন অঙ্গনেও পড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি কাজী আবুল খায়ের বলেন, নতুন ভবনটি সমিতির আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা। বিদ্যমান অবকাঠামোর নানা সীমাবদ্ধতার কারণে পেশাগত কাজ পরিচালনায় বিভিন্ন ধরনের অসুবিধা তৈরি হয়। নতুন ভবন নির্মাণ শেষ হলে এসব সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে।
সমিতির সাধারণ সম্পাদক এম এ আলম সেলিম বলেন, প্রস্তাবিত ভবনে আইনজীবীদের প্রয়োজনীয় সুবিধার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের জন্যও উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা পেলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা করেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা নতুন ভবনের নির্মাণকাজ সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এ সময় জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

























