, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় গাঁ/জা সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারা/দণ্ড পিরোজপুর জেলা প্রশাসনে নতুন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে জনাব জহুরুল ইসলামের যোগদান নেশা করে পার পাওয়ার সুযোগ নেই—ঈশ্বরগঞ্জে ৩ জনের কারা/দণ্ড কাউখালীতে নৌ পুলিশের ওপর হা/ম/লা, গ্রেফ/তার ১ লালপুরে মামলা তুলে নিতে বাদীকে হু/মকি: নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি ধামইরহাটে নারী হ/ত্যার রহস্য উদঘাটন, ১২ ঘণ্টায় গ্রে/প্তার ২ মাগুরা শ্রীপুর গ্রীন গার্ডেন ফুড পার্ক এর শুভ উদ্বোধন ৫নং বিলমারিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদ প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান চিলমারীতে ভুক্তভোগীকে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করে ভিডিও ধারণের অভিযোগ, জনমনে ক্ষোভ ছাত্রীদের সঙ্গে আপত্তিকর আলাপের অভিযোগে লাকসাম সরকারি কলেজের শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি

সিরাজগঞ্জে সুজন হ/ত্যার রায়ের প্রতিবাদে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

সিরাজগঞ্জে সুজন হ/ত্যার রায়ের প্রতিবাদে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজন হত্যা মামলায় স্ত্রী সহ দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এবং অন্য দুইজনকে দোষী প্রমাণ না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেয় আদালত। এই খালাস দেওয়ার রায়ের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহত সুজনের পরিবারেরা। এর সাথে ওই খালাসপ্রাপ্ত আসামীদের কঠিন শাস্তি ও মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার।

বুধবার (১৯) আগস্ট ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব হল রুমে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে নিহত সুজনের মা মাজদা খাতুন লিখিত বক্তব্য দেয়,
এই সময় সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন সুজনের চাচাতো ভাই ওয়ালিদ শেখ তার ভাই আরিফ শেখ, ও ছোট ভাই মোঃ হিমেল শেখ।

এই লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সুজন ছিলেন পরিবারের সবার বড় ভাই পরে পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ন্যায় বিচার এর অপেক্ষায় ছিল। ১১ বছর পরে এই মামলার রায় হলেও ২ আসামী বেকসুর খালাস পাওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবার।
নিহতের পরিবারের স্বজনেরা বলেন এই হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এবং বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত ২ আসামীর রায় বিবেচনা করে তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান নিহতের পরিবার।

গত মঙ্গলবার( ১৮) আগস্ট সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এই রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবলিক প্রসিকিউটর ( এপিপি) শামসুজ্জোহা।

এই রায় এ পাবনা সদর উপজেলার আটুয়া হাউস পাড়া গ্রামের উম্মে জামিলা তিথি( ৩৭) অন্যজন শাহজাদপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মনিরুল ফকির( ৩৪) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।
এই মামলায় শাহজাদপুর উপজেলার দারিয়া পুর গ্রামের সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলামের ছেলে রাশেদুল ইসলাম (৪৪)এবং তিথির ছোট ভাই পিয়াস হোসেন( ৩৫) কে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

এই মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় ২০১৫ সালের ১ জুন সুজনের স্ত্রী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে জবাই করে পালিয়ে যায়। পরে লাশ উদ্ধার করে সুজনের মা মাজেদা খাতুন বাদী হয়ে তিথির ও তার ভাই ও পরিচিত কয়েকজনের নামে মামলা করে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার দিন সুজন গোসল করতে বাড়ির পেছনে পুকুরে যায়। পরে সুজনের স্ত্রী সরবত সুজনকে দিলে পরে শরবত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে তার স্ত্রীর তিথি তাকে জবাই করে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়া চেষ্টা করলে চিকিৎ থাকে মৃত ঘোষণা করে। এই মামলার এজাহারে রক্তমাখা একটি চাপাতি উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহত সুজনের মায়ের অভিযোগ ছিল তিথির সঙ্গে অন্য এক ব্যক্তির পরকীয়া সম্পর্ক কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ চলছিল এরই ভিত্তিতে সুজনকে হত্যা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল।
এই মামলার পরে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। মামলার বাদি পক্ষের দাবি পরবর্তীতে আরো দুই ব্যক্তির জেলখানায় দেখা করতে গেলে সন্দেহজনক মনে হওয়াতে পুলিশ তাদের কেও গ্রেফতার করে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বলে বাদী পক্ষ দাবি করে।

এই রায় ঘোষণার পরে আদালত চত্বর এলাকায় বাদী পক্ষের লোকজন বিক্ষোভ করেন। তারা খালাস প্রাপ্ত আসামিদের সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার। সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সুজন হত্যা মামলায় রায় নিয়ে পরিবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং খালাস প্রাপ্তদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় গাঁ/জা সেবনের দায়ে যুবকের ৬ মাসের কারা/দণ্ড

সিরাজগঞ্জে সুজন হ/ত্যার রায়ের প্রতিবাদে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় ০৩:২৪:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

সিরাজগঞ্জ পৌর যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজন হত্যা মামলায় স্ত্রী সহ দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। এবং অন্য দুইজনকে দোষী প্রমাণ না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেয় আদালত। এই খালাস দেওয়ার রায়ের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে নিহত সুজনের পরিবারেরা। এর সাথে ওই খালাসপ্রাপ্ত আসামীদের কঠিন শাস্তি ও মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার।

বুধবার (১৯) আগস্ট ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ প্রেসক্লাব হল রুমে এই সংবাদ সম্মেলন হয়। সংবাদ সম্মেলনে নিহত সুজনের মা মাজদা খাতুন লিখিত বক্তব্য দেয়,
এই সময় সম্মেলনে উপস্থিতি ছিলেন সুজনের চাচাতো ভাই ওয়ালিদ শেখ তার ভাই আরিফ শেখ, ও ছোট ভাই মোঃ হিমেল শেখ।

এই লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, সুজন ছিলেন পরিবারের সবার বড় ভাই পরে পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ন্যায় বিচার এর অপেক্ষায় ছিল। ১১ বছর পরে এই মামলার রায় হলেও ২ আসামী বেকসুর খালাস পাওয়ায় ক্ষুব্ধ পরিবার।
নিহতের পরিবারের স্বজনেরা বলেন এই হত্যাকাণ্ডের জড়িতদের কঠিন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এবং বেকসুর খালাসপ্রাপ্ত ২ আসামীর রায় বিবেচনা করে তাদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান নিহতের পরিবার।

গত মঙ্গলবার( ১৮) আগস্ট সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এই রায় ঘোষণা করেন। এই রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে পাবলিক প্রসিকিউটর ( এপিপি) শামসুজ্জোহা।

এই রায় এ পাবনা সদর উপজেলার আটুয়া হাউস পাড়া গ্রামের উম্মে জামিলা তিথি( ৩৭) অন্যজন শাহজাদপুর উপজেলার মাদলা গ্রামের মনিরুল ফকির( ৩৪) কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।
এই মামলায় শাহজাদপুর উপজেলার দারিয়া পুর গ্রামের সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলামের ছেলে রাশেদুল ইসলাম (৪৪)এবং তিথির ছোট ভাই পিয়াস হোসেন( ৩৫) কে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

এই মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায় ২০১৫ সালের ১ জুন সুজনের স্ত্রী ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে জবাই করে পালিয়ে যায়। পরে লাশ উদ্ধার করে সুজনের মা মাজেদা খাতুন বাদী হয়ে তিথির ও তার ভাই ও পরিচিত কয়েকজনের নামে মামলা করে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ঘটনার দিন সুজন গোসল করতে বাড়ির পেছনে পুকুরে যায়। পরে সুজনের স্ত্রী সরবত সুজনকে দিলে পরে শরবত খেয়ে ঘুমিয়ে পড়লে তার স্ত্রীর তিথি তাকে জবাই করে পালিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়া চেষ্টা করলে চিকিৎ থাকে মৃত ঘোষণা করে। এই মামলার এজাহারে রক্তমাখা একটি চাপাতি উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

নিহত সুজনের মায়ের অভিযোগ ছিল তিথির সঙ্গে অন্য এক ব্যক্তির পরকীয়া সম্পর্ক কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধ চলছিল এরই ভিত্তিতে সুজনকে হত্যা করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল।
এই মামলার পরে আসামিদের গ্রেফতার করা হয়। মামলার বাদি পক্ষের দাবি পরবর্তীতে আরো দুই ব্যক্তির জেলখানায় দেখা করতে গেলে সন্দেহজনক মনে হওয়াতে পুলিশ তাদের কেও গ্রেফতার করে। পরে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বলে বাদী পক্ষ দাবি করে।

এই রায় ঘোষণার পরে আদালত চত্বর এলাকায় বাদী পক্ষের লোকজন বিক্ষোভ করেন। তারা খালাস প্রাপ্ত আসামিদের সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার। সংবাদ সম্মেলন থেকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা সুজন হত্যা মামলায় রায় নিয়ে পরিবার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং খালাস প্রাপ্তদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান ভুক্তভোগী পরিবার।