, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
বকশীগঞ্জে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন শ্রীপুর গোয়ালদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নবগঠিত ব্যবস্থাপনা কমিটির পরিচিত সভা অনুষ্ঠিত কক্সবাজারে ই-য়া-বাসহ দুইজন গ্রে-প্তার, মোটরসাইকেল জ-ব্দ ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাকৃবি রোভার স্কাউটের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি মাগুরা শ্রীপুরে স্বাক্ষর জা-ল ও মিথ্যা মা-ম-লার প্রতিবাদে শিমু খাতুনের সংবাদ সম্মেলন রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান আর নেই রাবি শিক্ষার্থীর ওপর হা-ম-লার অভিযোগে রেল স্টেশনে ভা-ঙ-চু-র, যাত্রীদের মালামাল লুটের অভিযোগ কাউনিয়া উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে অবৈধভাবে পাচারকালে ১৫ বস্তা সার জব্দ বড়লেখায় বোনের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল তরুণে

মাদারীপুরের শিবচর ইকবালের লিবিয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যু: মুক্তিপণের ২২ লাখ টাকা দিয়েও মিলল না মুক্তি!

৭০

ইতালিতে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন মাদারীপুরের শিবচরের যুবক ইকবাল হোসেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন তো পূরণ হলোই না, বরং দালাল চক্র ও লিবিয়ার মাফিয়া চক্রের অকথ্য নির্যাতন আর কারাবাসের শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে হলো তাকে। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার মুক্তিপণ দিয়েও বাঁচানো যায়নি তরুণ এই ইকবালকে।

ইতালিতে ভালো জীবনের আশায় দেশ ছেড়েছিলেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোতালেব মাতবরের ছেলে ইকবাল হোসেন (২৬)। কিন্তু দালালের লোভ আর মানবপাচারকারীদের নির্মম নিষ্ঠুরতা কেড়ে নিয়েছে তার প্রাণ।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতালি পাঠানোর কথা বলে দালাল সাগরের সঙ্গে ২২ লাখ টাকায় চুক্তি করেছিলেন ইকবাল। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে প্রথমে নেপালে নেওয়া হয়। সেখানে ১৭ দিন রাখার পর পাঠানো হয় মিশরে এবং সবশেষে লিবিয়ায়।

শুরুতে ১৭ লাখ টাকায় চুক্তি হলেও নেপালে নেওয়ার পর নানা চাপ সৃষ্টি করে পুরো ২২ লাখ টাকাই অগ্রিম আদায় করে নেয় দালাল চক্র। প্রায় পাঁচ মাস পর লিবিয়া থেকে ইতালি পাঠানোর চেষ্টার সময় লিবিয়া পুলিশের হাতে আটক হন ইকবাল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সশস্ত্র মাফিয়া চক্র তাকে জিম্মি করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। স্বজনরা বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ করে এবং সর্বস্বান্ত হয়ে আরও ১৪ লাখ টাকা পাঠিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন।

কিন্তু নরপিশাচ দালাল সাগরের লোভ থামেনি। এরপর ইতালি নেওয়ার কথা বলে সে আরও ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। চলতি বছরের ১ জুলাই সেই টাকা দেওয়ার পরও ইকবালকে ইতালি পাঠানো হয়নি; বরং তাকে আবারও লিবিয়ার একটি মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। নতুন করে ওই চক্র ইকবালের পরিবারের কাছে ২৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না পেলে হত্যার হুমকি দেয়। কিন্তু গরিব পরিবারের পক্ষে অত টাকা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। নির্ধারিত সময়ে মুক্তিপণ দিতে না পারায় মাফিয়া চক্র ইকবালকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

ইকবালের সঙ্গে লিবিয়ায় বন্দি থাকা অন্য ভুক্তভোগীরা ফোনে এই মৃত্যুর সংবাদ তার পরিবারকে নিশ্চিত করেছেন।
স্বজনরা জানান, ইকবালের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার জানাজা পড়ানো হলেও আজ পর্যন্ত তার মরদেহের কোনো খোঁজ মেলেনি। হাসিখুশি ও ভদ্র স্বভাবের এই তরুণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

পরিবারের এখন একটাই দাবি—এই মানবপাচারকারী দালাল চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। একই সঙ্গে লিবিয়া হয়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ইউরোপগামী রুট বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

বকশীগঞ্জে সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে সাংবাদিকদের মানববন্ধন

মাদারীপুরের শিবচর ইকবালের লিবিয়ায় মর্মান্তিক মৃত্যু: মুক্তিপণের ২২ লাখ টাকা দিয়েও মিলল না মুক্তি!

আপডেট সময় ০২:১৮:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
৭০

ইতালিতে যাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন মাদারীপুরের শিবচরের যুবক ইকবাল হোসেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন তো পূরণ হলোই না, বরং দালাল চক্র ও লিবিয়ার মাফিয়া চক্রের অকথ্য নির্যাতন আর কারাবাসের শিকার হয়ে প্রাণ হারাতে হলো তাকে। পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার মুক্তিপণ দিয়েও বাঁচানো যায়নি তরুণ এই ইকবালকে।

ইতালিতে ভালো জীবনের আশায় দেশ ছেড়েছিলেন মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মোতালেব মাতবরের ছেলে ইকবাল হোসেন (২৬)। কিন্তু দালালের লোভ আর মানবপাচারকারীদের নির্মম নিষ্ঠুরতা কেড়ে নিয়েছে তার প্রাণ।

পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইতালি পাঠানোর কথা বলে দালাল সাগরের সঙ্গে ২২ লাখ টাকায় চুক্তি করেছিলেন ইকবাল। গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে প্রথমে নেপালে নেওয়া হয়। সেখানে ১৭ দিন রাখার পর পাঠানো হয় মিশরে এবং সবশেষে লিবিয়ায়।

শুরুতে ১৭ লাখ টাকায় চুক্তি হলেও নেপালে নেওয়ার পর নানা চাপ সৃষ্টি করে পুরো ২২ লাখ টাকাই অগ্রিম আদায় করে নেয় দালাল চক্র। প্রায় পাঁচ মাস পর লিবিয়া থেকে ইতালি পাঠানোর চেষ্টার সময় লিবিয়া পুলিশের হাতে আটক হন ইকবাল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি সশস্ত্র মাফিয়া চক্র তাকে জিম্মি করে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। স্বজনরা বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ করে এবং সর্বস্বান্ত হয়ে আরও ১৪ লাখ টাকা পাঠিয়ে তাকে ছাড়িয়ে আনেন।

কিন্তু নরপিশাচ দালাল সাগরের লোভ থামেনি। এরপর ইতালি নেওয়ার কথা বলে সে আরও ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। চলতি বছরের ১ জুলাই সেই টাকা দেওয়ার পরও ইকবালকে ইতালি পাঠানো হয়নি; বরং তাকে আবারও লিবিয়ার একটি মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। নতুন করে ওই চক্র ইকবালের পরিবারের কাছে ২৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং টাকা না পেলে হত্যার হুমকি দেয়। কিন্তু গরিব পরিবারের পক্ষে অত টাকা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। নির্ধারিত সময়ে মুক্তিপণ দিতে না পারায় মাফিয়া চক্র ইকবালকে নির্মমভাবে হত্যা করে।

ইকবালের সঙ্গে লিবিয়ায় বন্দি থাকা অন্য ভুক্তভোগীরা ফোনে এই মৃত্যুর সংবাদ তার পরিবারকে নিশ্চিত করেছেন।
স্বজনরা জানান, ইকবালের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর তার জানাজা পড়ানো হলেও আজ পর্যন্ত তার মরদেহের কোনো খোঁজ মেলেনি। হাসিখুশি ও ভদ্র স্বভাবের এই তরুণের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

পরিবারের এখন একটাই দাবি—এই মানবপাচারকারী দালাল চক্রের মূল হোতাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। একই সঙ্গে লিবিয়া হয়ে অবৈধ ও ঝুঁকিপূর্ণ ইউরোপগামী রুট বন্ধে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।