একাধিক বিয়ের তথ্য গোপন, অর্থ ও সম্পদ আত্মসাৎ এবং প্রতারণার অভিযোগ এনে ঠাকূরগাঁওয়ে স্ত্রী নারগিস খাতুনের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তার সাবেক স্বামী হুমায়ুন কবির। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষিকা।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হুমায়ুন কবির। তিনি জানান, নারগিস খাতুন পুরাতন ঠাকুরগাঁও টেকনিক্যাল অ্যান্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজের শিক্ষিকা এবং তিনি নিজে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সাবেক সদস্য।
লিখিত বক্তব্যে হুমায়ুন কবির দাবি করেন, ২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর তাদের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় কাবিননামায় নারগিস খাতুন তার পূর্ববর্তী বিয়ের তথ্য গোপন করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিয়ের পর স্ত্রীকে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ অর্থ, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী দেওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিন সংসারের ব্যয়, বাসাভাড়া, সন্তানদের লেখাপড়া এবং অন্যান্য খরচ বহন করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে নিয়মিত অর্থ নেওয়া হতো। পরবর্তীতে তিনি জানতে পারেন, নারগিস খাতুন পূর্বেও একাধিক বিয়ে করেছেন, যা তার কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছিল। পরিকল্পিতভাবে প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ও সম্পদ হাতিয়ে নেওয়ার পর একপর্যায়ে তাকে একতরফাভাবে তালাকনামা পাঠানো হয় বলে দাবি করেন তিনি। এতে তিনি সামাজিক, মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলেও উল্লেখ করেণ
।
হুমায়ুন কবির বলেন, বিয়ের তথ্য গোপন করে একাধিক বিয়ে, অর্থ ও সম্পদ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে তালাক দেওয়ার মতো ঘটনাগুলো রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। একই সঙ্গে তিনি অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নারগিস খাতুন মুঠোফোনে বলেন, হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে তার অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বিয়ে হয়েছিল। তবে তাকে পছন্দ না হওয়ায় এক বছরের মধ্যেই তিনি তালাক দেন। তিনি দাবি করেন, তাদের মধ্যে কোনো দাম্পত্য জীবন বা একসঙ্গে বসবাস ছিল না। তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, এ ঘটনায় উভয় পক্ষই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন। অভিযোগগুলোর সত্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

আরফান আলী 


















