ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নোটিশ :
যেকোনো প্রিমিয়াম থিম ও প্লাগইন, লারাভেল স্ক্রিপ্ট ক্রয় করতে আমাদের কল করুন 01711-872335। ভিজিট করুন www.ThemeBikroy.com

১২ বছরের মাদরাসাছাত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, জীবন ঝুঁকিতে

সংগৃহীত ছবি

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় শিক্ষকের ধর্ষণে ১২ বছরের এক মাদরাসাছাত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মদন থানায় মেয়েটির মা মামলা দায়ের করেন। জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আমান উল্লাহ সাগর। তিনি উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে এবং গ্রামের হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। একই মাদরাসায় তার স্ত্রীও প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকার বাসিন্দা এক বিধবা নারীর একমাত্র মেয়ে। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় লেখাপড়া করতো।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখান। এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে ওই শিক্ষক ছুটি নেন। এরপর থেকে তিনি আর মাদরাসায় আসেননি বলে জানিয়েছেন ওই মাদরাসার আরেক শিক্ষক।

এদিকে ভুক্তভোগী শিশুটিও শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে গত পাঁচ মাস ধরে মাদরাসায় যায়নি। পরবর্তীতে সময়ে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে তার মা সিলেট থেকে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি জানতে পারে। শিশুটি মাদরাসার শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে বলে জানায়। এরপর শিশুটিকে নিয়ে তার পরিবার মদন ‍উপজেলার হাসপাতাল রোডে অবস্থিত স্বদেশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারের চেম্বারে যান।

চিকিৎসকের মতে, এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ডেলিভারি প্রায় অসম্ভব। শুধুমাত্র ‘ক্র্যানিওটমি’ (বাচ্চার মাথা কেটে বের করা) পদ্ধতির মাধ্যমে স্বাভাবিক ডেলিভারি করা যেতে পারে, যা একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। ১১ বছরের এই ছোট বাচ্চার শরীরে সিজারিয়ান সেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যানেস্থেসিয়া বা ওষুধের ডোজ নির্ধারণ করা চিকিৎসকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ডা. সায়মা আক্তার বলেন, ‘শিশুটি বর্তমানে প্রচণ্ড ভয়ের মধ্যে রয়েছে। যখন সে প্রথম চেম্বারে আসে, তখন কথা বলার সাহস পাচ্ছিল না। অনেকক্ষণ নিজের সমস্যার কথা বুঝিয়ে বলতে পারেনি। শিশুটি এবং তার পুরো পরিবার এই ঘটনায় ট্রমাটাইজড হয়ে পড়েছে। শিশুটি এখনও পুরোপুরি বুঝতে পারছে না যে তার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে বা ভবিষ্যতে তার জন্য কী অপেক্ষা করছে।’ তিনি বলেন, ‘১১ বছর বয়সী এই শিশুটির আসলে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে গাইনোকোলজিস্টের কাছে আসতে হয়েছে এমন একটি সমস্যা নিয়ে। মেয়েরা জন্মের সময় থেকেই ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু নিয়ে জন্মায়। সাধারণত ১১-১২ বছর বয়সে এই ডিম্বাণুগুলো পূর্ণতা পায় এবং প্রথম মাসিকের মাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। শিশুটি তার জীবনের প্রথম মাসিক হওয়ার অভিজ্ঞতা পাওয়ার আগেই গর্ভবতী হয়ে পড়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে শিশুটি এবং তার পরিবার বর্তমানে ভয়াবহ বিপদে পড়েছে।’

ওই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তা ও শিক্ষক মো. ছোটন জানান, এ বিষয়ে বলতে গেলে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবার কিছু জানায়নি। আর পাঁচ মাস আগে ওই মেয়ে চলে গেছে, তখনো আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। তারা দুই পরিবার প্রতিবেশী। অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর তো ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে না। তিনি স্ত্রী সন্তানসহ পলাতক রয়েছেন। এমনকি গ্রামের কোনো মানুষের সঙ্গে বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমি একটি মামলা সংক্রান্ত কাজে একবারে প্রত্যন্ত এলাকায় রয়েছি, পরে বিস্তারিত জানাতে পারব। আমি এখানে নতুন যোগদান করায় এখনো বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না। তবে আইন তার নিজস্ব প্রক্রিয়া মেনে এগিয়ে যাবে।’ উপরের লিখাটি নিজের ভাষায় লিখে দাও

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

১২ বছরের মাদরাসাছাত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, জীবন ঝুঁকিতে

আপডেট সময় ০২:২৪:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

নেত্রকোণার মদন উপজেলায় শিক্ষকের ধর্ষণে ১২ বছরের এক মাদরাসাছাত্রী ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা করেছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মদন থানায় মেয়েটির মা মামলা দায়ের করেন। জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম আমান উল্লাহ সাগর। তিনি উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের মৃত শামসুদ্দিন মিয়ার ছেলে এবং গ্রামের হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক।

মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর মদন উপজেলার পাঁচহার গ্রামে ২০২২ সালে হযরত ফাতেমাতুজ জোহুরা মহিলা কওমি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। একই মাদরাসায় তার স্ত্রীও প্রধান শিক্ষিকা হিসেবে কর্মরত আছেন। ভুক্তভোগী শিশুটি একই এলাকার বাসিন্দা এক বিধবা নারীর একমাত্র মেয়ে। জীবিকার তাগিদে শিশুটির মা সিলেটে গৃহ পরিচারিকার কাজ করেন। শিশুটি তার নানির কাছে থেকে ওই মাদরাসায় লেখাপড়া করতো।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই মেয়েটিকে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে প্রাণনাশের ভয় দেখান। এপ্রিল মাসের ১৮ তারিখে ওই শিক্ষক ছুটি নেন। এরপর থেকে তিনি আর মাদরাসায় আসেননি বলে জানিয়েছেন ওই মাদরাসার আরেক শিক্ষক।

এদিকে ভুক্তভোগী শিশুটিও শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে গত পাঁচ মাস ধরে মাদরাসায় যায়নি। পরবর্তীতে সময়ে শিশুটির শারীরিক পরিবর্তন ঘটলে তার মা সিলেট থেকে এসে মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদ করে বিষয়টি জানতে পারে। শিশুটি মাদরাসার শিক্ষকের দ্বারা ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে বলে জানায়। এরপর শিশুটিকে নিয়ে তার পরিবার মদন ‍উপজেলার হাসপাতাল রোডে অবস্থিত স্বদেশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের গাইনি বিশেষজ্ঞ ডা. সায়মা আক্তারের চেম্বারে যান।

চিকিৎসকের মতে, এই পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক ডেলিভারি প্রায় অসম্ভব। শুধুমাত্র ‘ক্র্যানিওটমি’ (বাচ্চার মাথা কেটে বের করা) পদ্ধতির মাধ্যমে স্বাভাবিক ডেলিভারি করা যেতে পারে, যা একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া। ১১ বছরের এই ছোট বাচ্চার শরীরে সিজারিয়ান সেকশনের জন্য প্রয়োজনীয় অ্যানেস্থেসিয়া বা ওষুধের ডোজ নির্ধারণ করা চিকিৎসকদের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ডা. সায়মা আক্তার বলেন, ‘শিশুটি বর্তমানে প্রচণ্ড ভয়ের মধ্যে রয়েছে। যখন সে প্রথম চেম্বারে আসে, তখন কথা বলার সাহস পাচ্ছিল না। অনেকক্ষণ নিজের সমস্যার কথা বুঝিয়ে বলতে পারেনি। শিশুটি এবং তার পুরো পরিবার এই ঘটনায় ট্রমাটাইজড হয়ে পড়েছে। শিশুটি এখনও পুরোপুরি বুঝতে পারছে না যে তার সঙ্গে ঠিক কী ঘটেছে বা ভবিষ্যতে তার জন্য কী অপেক্ষা করছে।’ তিনি বলেন, ‘১১ বছর বয়সী এই শিশুটির আসলে একজন শিশু বিশেষজ্ঞের কাছে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে গাইনোকোলজিস্টের কাছে আসতে হয়েছে এমন একটি সমস্যা নিয়ে। মেয়েরা জন্মের সময় থেকেই ডিম্বাশয়ে ডিম্বাণু নিয়ে জন্মায়। সাধারণত ১১-১২ বছর বয়সে এই ডিম্বাণুগুলো পূর্ণতা পায় এবং প্রথম মাসিকের মাধ্যমে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। শিশুটি তার জীবনের প্রথম মাসিক হওয়ার অভিজ্ঞতা পাওয়ার আগেই গর্ভবতী হয়ে পড়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে শিশুটি এবং তার পরিবার বর্তমানে ভয়াবহ বিপদে পড়েছে।’

ওই মাদরাসার প্রতিষ্ঠাকালীন উদ্যোক্তা ও শিক্ষক মো. ছোটন জানান, এ বিষয়ে বলতে গেলে এখন পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবার কিছু জানায়নি। আর পাঁচ মাস আগে ওই মেয়ে চলে গেছে, তখনো আমি এ বিষয়ে কিছু জানি না। তারা দুই পরিবার প্রতিবেশী। অভিযুক্ত আমান উল্লাহ সাগর তো ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে না। তিনি স্ত্রী সন্তানসহ পলাতক রয়েছেন। এমনকি গ্রামের কোনো মানুষের সঙ্গে বা আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করছে না।

মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এ ধরনের একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আমি একটি মামলা সংক্রান্ত কাজে একবারে প্রত্যন্ত এলাকায় রয়েছি, পরে বিস্তারিত জানাতে পারব। আমি এখানে নতুন যোগদান করায় এখনো বিস্তারিত কিছু বলতে পারছি না। তবে আইন তার নিজস্ব প্রক্রিয়া মেনে এগিয়ে যাবে।’ উপরের লিখাটি নিজের ভাষায় লিখে দাও