, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
মাগুরা শ্রীপুরে স্বাক্ষর জা-ল ও মিথ্যা মা-ম-লার প্রতিবাদে শিমু খাতুনের সংবাদ সম্মেলন রাজশাহী প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক সাইদুর রহমান আর নেই রাবি শিক্ষার্থীর ওপর হা-ম-লার অভিযোগে রেল স্টেশনে ভা-ঙ-চু-র, যাত্রীদের মালামাল লুটের অভিযোগ কাউনিয়া উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত বকশীগঞ্জে অবৈধভাবে পাচারকালে ১৫ বস্তা সার জব্দ বড়লেখায় বোনের বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে প্রাণ গেল তরুণে টেকনাফে নাফ নদী থেকে ১৪ হাজার ইয়াবা জব্দ কক্সবাজারে হত্যা মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার বাকৃবিতে মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের ইন্টার্নশিপ প্রোগ্রামের সমাপনী, সনদ পেলেন ১০৮ শিক্ষার্থী মিয়ানমারের পাচার কালে বিপুল পরিমান সিমেন্ট জব্দ করেন কোস্ট গার্ড

রাজশাহীতে অনিয়মের জেরে কৃষি কর্মকর্তা বদলী সারের খোঁজে দ্বারে দ্বারে কৃষক

রাজশাহীতে অনিয়মের জেরে কৃষি কর্মকর্তা বদলী সারের খোঁজে দ্বারে দ্বারে কৃষক

৫০

রাজশাহীতে রোপা আমন ধানের ভরা মৌসুমে সারের চরম সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষকেরা।

ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সার না পেয়ে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটতে হচ্ছে তাঁদের। কৃষকদের অভিযোগ, নিয়মিত দোকান না খুলে ডিলার ও কর্মচারীরা নানা অজুহাতে তাঁদের ঘোরাচ্ছেন, ফলে সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ ব্যাহত হচ্ছে।

সার নিয়ে অনিয়মের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে।

তাঁর জায়গায় নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন শরীয়তপুরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন। এছাড়া অবৈধ সার মজুতের ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে তাদের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিল করেছে।

সরেজমিনে রোববার সকালে জেলার পবা উপজেলার আলীমগঞ্জ এলাকায় বিসিআইসির সার ডিলার আবদুল গাফফারের বিক্রয়কেন্দ্র ‘মেসার্স মুনলাইট কৃষি বিতানে’ গিয়ে দেখা যায় তালা ঝুলছে। সার কিনতে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ফিরে যেতে হয় অনেক কৃষককে। পবার নতুন কসবা গ্রামের কৃষক গোলাম পাঞ্জাতন জানান, তিনি ১১ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করলেও এখন পর্যন্ত সার দিতে পারেননি।

তিন দিন ঘুরেও ওই ডিলারের দোকান খোলা পাননি তিনি। একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান গোদাগাড়ীর চাপাল গ্রাম থেকে আসা কৃষক আতাউল হোসেনসহ আরও অনেকে।

পরবর্তীতে দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্থানীয় অন্য ডিলারের কাছ থেকে কৃষকেরা সীমিত পরিসরে ইউরিয়া সংগ্রহ করেন।

সম্প্রতি সার বিক্রিতে বাড়তি দাম রাখা ও চাহিদামতো সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর মাঠে নামে স্থানীয় প্রশাসন। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে চারটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই প্রায় ১০ লাখ টাকার অবৈধ সার জব্দ করা হয়।

এ ঘটনার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মো. খালেদুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যা ইতিমধ্যে তাদের তদন্ত কাজ শেষ করেছে।

সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য জড়িতদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ডসহ কঠোর নজরদারি চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সারের কোনো ঘাটতি যেন না থাকে, সে লক্ষ্যে রাজশাহীর জন্য বাড়তি সারের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বাবু, বিভাগীয় প্রধান

জনপ্রিয় সংবাদ
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা
আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিন- দৈনিক আমার পত্রিকা

মাগুরা শ্রীপুরে স্বাক্ষর জা-ল ও মিথ্যা মা-ম-লার প্রতিবাদে শিমু খাতুনের সংবাদ সম্মেলন

রাজশাহীতে অনিয়মের জেরে কৃষি কর্মকর্তা বদলী সারের খোঁজে দ্বারে দ্বারে কৃষক

আপডেট সময় ০৬:৪৮:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬
৫০

রাজশাহীতে রোপা আমন ধানের ভরা মৌসুমে সারের চরম সংকটে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সাধারণ কৃষকেরা।

ডিলারের বিক্রয়কেন্দ্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও সার না পেয়ে এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ছুটতে হচ্ছে তাঁদের। কৃষকদের অভিযোগ, নিয়মিত দোকান না খুলে ডিলার ও কর্মচারীরা নানা অজুহাতে তাঁদের ঘোরাচ্ছেন, ফলে সময়মতো জমিতে সার প্রয়োগ ব্যাহত হচ্ছে।

সার নিয়ে অনিয়মের তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ডিডি) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনকে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সঙ্গনিরোধ কেন্দ্রে বদলি করা হয়েছে।

তাঁর জায়গায় নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন শরীয়তপুরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন। এছাড়া অবৈধ সার মজুতের ঘটনায় গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি ইতিমধ্যে তাদের প্রতিবেদন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিল করেছে।

সরেজমিনে রোববার সকালে জেলার পবা উপজেলার আলীমগঞ্জ এলাকায় বিসিআইসির সার ডিলার আবদুল গাফফারের বিক্রয়কেন্দ্র ‘মেসার্স মুনলাইট কৃষি বিতানে’ গিয়ে দেখা যায় তালা ঝুলছে। সার কিনতে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পর ফিরে যেতে হয় অনেক কৃষককে। পবার নতুন কসবা গ্রামের কৃষক গোলাম পাঞ্জাতন জানান, তিনি ১১ বিঘা জমিতে আমন ধান রোপণ করলেও এখন পর্যন্ত সার দিতে পারেননি।

তিন দিন ঘুরেও ওই ডিলারের দোকান খোলা পাননি তিনি। একই ধরনের ভোগান্তির কথা জানান গোদাগাড়ীর চাপাল গ্রাম থেকে আসা কৃষক আতাউল হোসেনসহ আরও অনেকে।

পরবর্তীতে দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্থানীয় অন্য ডিলারের কাছ থেকে কৃষকেরা সীমিত পরিসরে ইউরিয়া সংগ্রহ করেন।

সম্প্রতি সার বিক্রিতে বাড়তি দাম রাখা ও চাহিদামতো সরবরাহ না পাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর মাঠে নামে স্থানীয় প্রশাসন। ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে চারটি প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকেই প্রায় ১০ লাখ টাকার অবৈধ সার জব্দ করা হয়।

এ ঘটনার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক মো. খালেদুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যা ইতিমধ্যে তাদের তদন্ত কাজ শেষ করেছে।

সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি এবং রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম জানান, অসাধু ব্যবসায়ীরা যাতে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে, সেজন্য জড়িতদের বিরুদ্ধে অর্থদণ্ডসহ কঠোর নজরদারি চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে সারের কোনো ঘাটতি যেন না থাকে, সে লক্ষ্যে রাজশাহীর জন্য বাড়তি সারের বরাদ্দ চাওয়া হয়েছে।

মোঃ সিদ্দিকুর রহমান বাবু, বিভাগীয় প্রধান