ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ: সার্চ কমিটির বৈঠক আজ মৃত্যুদণ্ড থেকে ‘আমৃত্যু’ কারাবাস: চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আপিল বিভাগ গ্রাহকদের রেমিট্যান্স সুবিধা আরও সহজ করতে চুক্তিবদ্ধ হলো নগদ ও রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশে নতুন ‘শাইন ১০০ ডিএক্স’ নিয়ে এলো হোন্ডা ঘুমাচ্ছেন নাকি ক্লান্ত হচ্ছেন? স্বপ্ন দেখার পেছনে লুকিয়ে থাকা আসল বিজ্ঞানটি জানুন আগোরাতে অ্যাকাউন্টস বিভাগে নিয়োগ নিটোল-নিলয় গ্রুপে চমত্কার ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ; সাথে থাকছে নিশ্চিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট! বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদনের শেষ সময় ৯ জুলাই মরক্কোর বিপক্ষে ড্র ব্রাজিলের নবীনগরে দেড় লাখ টাকার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে দর্শকদের ঢল
নোটিশ :
সাইটের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। তাই সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত।

শবে বরাতে হালুয়া খাওয়ার রীতি কি ধর্মীয়? জানুন ইতিহাস

  • থিম বিক্রয়
  • আপডেট সময় ০৬:২০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৮৩ বার পড়া হয়েছে

শবে বরাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র রাত। এ রাতে নফল নামাজ, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের আশায় ইবাদতে মগ্ন থাকেন অনেকে। তবে শবে বরাতের সঙ্গে ঘরোয়া আয়োজন ও মিষ্টি খাওয়ার বিশেষ রেওয়াজও জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে হালুয়া ও রুটি বিতরণকে অনেকেই এই রাতের অঙ্গ হিসেবে মানেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, শবে বরাতে হালুয়া খাওয়ার রীতি কি ইসলামিক বিধান অনুসারে বাধ্যতামূলক, নাকি এটি কেবল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রেওয়াজের অংশ? ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলিয়ে আমরা এই রীতির উৎস ও বিবর্তনের গল্প জানতে পারি।

গবেষকদের মতে, শবে বরাতে হালুয়া-রুটি খাওয়া বা বিতরণ করার বিষয়টি ইসলামের কোনো ফরজ, ওয়াজিব বা নির্ধারিত আমলের অংশ নয়। এটি মূলত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ফল। পবিত্র রাতের আনন্দ ভাগাভাগি করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর মানসিকতা থেকেই এই রেওয়াজ গড়ে উঠেছে।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, উপমহাদেশে হালুয়া দীর্ঘদিন ধরেই মিষ্টি খাবারের সহজ ও জনপ্রিয় প্রতীক। বাংলাদেশ অঞ্চলে শবে বরাত পালনের প্রচলন জোরালো হয় উনিশ শতকের শেষদিকে। সে সময় ঢাকার নবাব পরিবার এই রাতকে কেন্দ্র করে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করতেন। আলোকসজ্জা, দান-খয়রাত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ ছিল সেই আয়োজনের উল্লেখযোগ্য অংশ। তখন দোকাননির্ভর মিষ্টির প্রচলন না থাকায় ঘরে তৈরি সহজ মিষ্টি হিসেবে হালুয়াই হয়ে ওঠে প্রধান আয়োজন।

ইতিহাসবিদদের মতে, নবাবি আমলে শবে বরাতের আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে ধর্মীয় অনুশাসন, অন্যদিকে মুসলমানদের সামাজিক প্রভাব ও শাসনব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটত। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে শবে বরাত উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষিত হলে এ দিনের আয়োজন আরও বিস্তৃত হয়। ধীরে ধীরে হালুয়া শবে বরাতের খাবারের তালিকায় স্থায়ী স্থান করে নেয়।

এ ছাড়া হাদিসে পাওয়া যায়, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মিষ্টি খাবার পছন্দ করতেন। তার অনুসারীদের মধ্যেও মিষ্টির প্রতি স্বাভাবিক অনুরাগ লক্ষ্য করা যায়। ইতিহাসবিদদের ধারণা, এই ধর্মীয় অনুপ্রেরণাও শবে বরাতের ইবাদতের সঙ্গে মিষ্টান্ন, বিশেষ করে হালুয়া খাওয়ার প্রচলনকে জনপ্রিয় করে তুলতে ভূমিকা রেখেছে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ: সার্চ কমিটির বৈঠক আজ

শবে বরাতে হালুয়া খাওয়ার রীতি কি ধর্মীয়? জানুন ইতিহাস

আপডেট সময় ০৬:২০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শবে বরাত মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত পবিত্র রাত। এ রাতে নফল নামাজ, দোয়া ও কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের আশায় ইবাদতে মগ্ন থাকেন অনেকে। তবে শবে বরাতের সঙ্গে ঘরোয়া আয়োজন ও মিষ্টি খাওয়ার বিশেষ রেওয়াজও জড়িয়ে আছে। বিশেষ করে হালুয়া ও রুটি বিতরণকে অনেকেই এই রাতের অঙ্গ হিসেবে মানেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, শবে বরাতে হালুয়া খাওয়ার রীতি কি ইসলামিক বিধান অনুসারে বাধ্যতামূলক, নাকি এটি কেবল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক রেওয়াজের অংশ? ইতিহাসের পাতায় চোখ বুলিয়ে আমরা এই রীতির উৎস ও বিবর্তনের গল্প জানতে পারি।

গবেষকদের মতে, শবে বরাতে হালুয়া-রুটি খাওয়া বা বিতরণ করার বিষয়টি ইসলামের কোনো ফরজ, ওয়াজিব বা নির্ধারিত আমলের অংশ নয়। এটি মূলত সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ফল। পবিত্র রাতের আনন্দ ভাগাভাগি করা এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়ানোর মানসিকতা থেকেই এই রেওয়াজ গড়ে উঠেছে।

ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, উপমহাদেশে হালুয়া দীর্ঘদিন ধরেই মিষ্টি খাবারের সহজ ও জনপ্রিয় প্রতীক। বাংলাদেশ অঞ্চলে শবে বরাত পালনের প্রচলন জোরালো হয় উনিশ শতকের শেষদিকে। সে সময় ঢাকার নবাব পরিবার এই রাতকে কেন্দ্র করে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন করতেন। আলোকসজ্জা, দান-খয়রাত এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ ছিল সেই আয়োজনের উল্লেখযোগ্য অংশ। তখন দোকাননির্ভর মিষ্টির প্রচলন না থাকায় ঘরে তৈরি সহজ মিষ্টি হিসেবে হালুয়াই হয়ে ওঠে প্রধান আয়োজন।

ইতিহাসবিদদের মতে, নবাবি আমলে শবে বরাতের আয়োজনের মধ্য দিয়ে একদিকে ধর্মীয় অনুশাসন, অন্যদিকে মুসলমানদের সামাজিক প্রভাব ও শাসনব্যবস্থার প্রতিফলন ঘটত। পরবর্তীতে পাকিস্তান আমলে শবে বরাত উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষিত হলে এ দিনের আয়োজন আরও বিস্তৃত হয়। ধীরে ধীরে হালুয়া শবে বরাতের খাবারের তালিকায় স্থায়ী স্থান করে নেয়।

এ ছাড়া হাদিসে পাওয়া যায়, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মিষ্টি খাবার পছন্দ করতেন। তার অনুসারীদের মধ্যেও মিষ্টির প্রতি স্বাভাবিক অনুরাগ লক্ষ্য করা যায়। ইতিহাসবিদদের ধারণা, এই ধর্মীয় অনুপ্রেরণাও শবে বরাতের ইবাদতের সঙ্গে মিষ্টান্ন, বিশেষ করে হালুয়া খাওয়ার প্রচলনকে জনপ্রিয় করে তুলতে ভূমিকা রেখেছে।