ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ: সার্চ কমিটির বৈঠক আজ মৃত্যুদণ্ড থেকে ‘আমৃত্যু’ কারাবাস: চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আপিল বিভাগ গ্রাহকদের রেমিট্যান্স সুবিধা আরও সহজ করতে চুক্তিবদ্ধ হলো নগদ ও রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশে নতুন ‘শাইন ১০০ ডিএক্স’ নিয়ে এলো হোন্ডা ঘুমাচ্ছেন নাকি ক্লান্ত হচ্ছেন? স্বপ্ন দেখার পেছনে লুকিয়ে থাকা আসল বিজ্ঞানটি জানুন আগোরাতে অ্যাকাউন্টস বিভাগে নিয়োগ নিটোল-নিলয় গ্রুপে চমত্কার ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ; সাথে থাকছে নিশ্চিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট! বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদনের শেষ সময় ৯ জুলাই মরক্কোর বিপক্ষে ড্র ব্রাজিলের নবীনগরে দেড় লাখ টাকার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে দর্শকদের ঢল
নোটিশ :
যেকোনো প্রিমিয়াম থিম ও প্লাগইন, লারাভেল স্ক্রিপ্ট ক্রয় করতে আমাদের কল করুন 01711-872335। ভিজিট করুন www.ThemeBikroy.com

শোলার তৈরি ফুলেই সংসার চলছে রেখা বিশ্বাসের

  • থিম বিক্রয়
  • আপডেট সময় ০৬:২৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬৯ বার পড়া হয়েছে

বিলের খুব পরিচিত আগাছা হচ্ছে শোলা। হ্যাঁ, এটা সবার কাছে আগাছা বা অপ্রয়োজনীয় হলেও কারো কারো কাছে শিল্পের উপকরণ, আয়ের ব্যবস্থা। শোলা গাছ সংগ্রহ করে তার ভেতরের সাদা অংশ দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের ফুল ও মালা। হস্ত শিল্পীরা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে শোলা কেটে বিভিন্ন আকার দেন এবং পরে তাতে রং ও সুতা দিয়ে আকৃতি দেন। তাতে তৈরি হয় নানা ধরনের ফুল, মালা, বাচ্চাদের খেলনা এবং ঘর সাজানোর উপকরণ।

মাগুরা জেলের ১নং পৌরসভার কাদিরাবাদ গ্রামে শোলার তৈরি ফুল দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এগুলো বিক্রি করে সংসার চলছে অনেকগুলো পরিবারের। এলাকার নারী-পুরুষ সবাই মিলে শিল্পের ছোঁয়ায় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে শোলা কেটে বিভিন্ন আকার দেন এবং পরে তাতে রং ও সুতা দিয়ে আকৃতি প্রদান করেন। শোলার তৈরি ফুলগুলো নষ্ট হয় না, রং উজ্জ্বল থাকে এবং অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এই ফুল ও মালা নানা পূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হয়।

ফুল তৈরির প্রধান কারিগর রেখা বিশ্বাস বলেন, ‘মাঘ মাসে বিলের পানি শুকিয়ে গেলে ফুল শোলা কুড়িয়ে এনে ফুল, মালা তৈরি করে হাটে বাজারে বিক্রি করি। শোলার তৈরি চাঁদমালা, মুকুট, কদম কিংবা ঝোরা ফুল তৈরি করি। একই সঙ্গে শুভ কাজ বা মানতের জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়। আমাদের অনেক প্রতিবেশী হাতের কাজে সহযোগিতা করেন বলে আমরা ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ফুল-মালা বিক্রি করে আমাদের সারাবছর সংসার চলে। আমরা যদি সরকারি কোনো সাহায্য পাই তাহলে একটা কারখানা করতাম, এতে আমাদের কাজ আরও বেশি হতো, আয়ও বাড়ত।’

কারিগর রেখার স্বামী রনজীত বিশ্বাস বলেন, ‘কাঁচা শোলার সংকট আছে, মাঠে পানি কম হওয়ায় শোলা কম হয়। বছরে ২টা মৌসুম শ্রাবণ ও মাঘ মাসে আমরা এই কাজ বেশি করি। এই দুই সিজনেই ১ লাখ টাকা উপার্জন হয়। শত কষ্টের মধ্যেও এখনো বাপ-দাদার এই হস্তশিল্প পেশাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছি। এই গ্রামের ১২ থেকে ১৫টি পরিবার এ পেশায় নিয়োজিত আছে। আমরা সরকারি সহযোগিতা পেলে হয়তো আরও বড় পরিসরে ফুল তৈরির কারখানা করতাম।’

এলাকার যুবক সিজান বলেন, ‘রেখা দিদিকে ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি তিনি ও তার স্বামী মিলে এই শোলার তৈরি কদম ফুল, ঝোরা ফুল তৈরির মাধ্যমেই এ শিল্পকর্মটি বাঁচিয়ে রেখেছেন। বংশ পরম্পরায় তারা এ পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাদেরকে যদি সরকারি সহায়তা বা কোনো সংস্থা সহযোগিতা করতো তাহলে তারা এই শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারতো। একদিন হয়তো রেখা দিদি সফল নারী উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারবে, পাশাপাশি এলাকার অনেক নারী কর্মীরাও তার সঙ্গে কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করতে পারবে।’

কাদিরাবাদ গ্রামের প্রবীণ রাজকুমার বলেন, ‘রেখা ও রনজীত দীর্ঘদিন ধরে এই ফুল, মালা, মুকুট তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তারা অনেক কষ্ট করেন, এই কাজের ভেতর দিয়ে সংসার চালাতে হিমসিম খায়। আমি আশীর্বাদ করি তারা যেন ভালো কিছু করতে পারে, তাদের যেন ভালো হয়।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ: সার্চ কমিটির বৈঠক আজ

শোলার তৈরি ফুলেই সংসার চলছে রেখা বিশ্বাসের

আপডেট সময় ০৬:২৫:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বিলের খুব পরিচিত আগাছা হচ্ছে শোলা। হ্যাঁ, এটা সবার কাছে আগাছা বা অপ্রয়োজনীয় হলেও কারো কারো কাছে শিল্পের উপকরণ, আয়ের ব্যবস্থা। শোলা গাছ সংগ্রহ করে তার ভেতরের সাদা অংশ দিয়ে তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের ফুল ও মালা। হস্ত শিল্পীরা অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে শোলা কেটে বিভিন্ন আকার দেন এবং পরে তাতে রং ও সুতা দিয়ে আকৃতি দেন। তাতে তৈরি হয় নানা ধরনের ফুল, মালা, বাচ্চাদের খেলনা এবং ঘর সাজানোর উপকরণ।

মাগুরা জেলের ১নং পৌরসভার কাদিরাবাদ গ্রামে শোলার তৈরি ফুল দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এগুলো বিক্রি করে সংসার চলছে অনেকগুলো পরিবারের। এলাকার নারী-পুরুষ সবাই মিলে শিল্পের ছোঁয়ায় অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে শোলা কেটে বিভিন্ন আকার দেন এবং পরে তাতে রং ও সুতা দিয়ে আকৃতি প্রদান করেন। শোলার তৈরি ফুলগুলো নষ্ট হয় না, রং উজ্জ্বল থাকে এবং অনেক দিন পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। এই ফুল ও মালা নানা পূজার উপকরণ হিসেবে ব্যবহার হয়।

ফুল তৈরির প্রধান কারিগর রেখা বিশ্বাস বলেন, ‘মাঘ মাসে বিলের পানি শুকিয়ে গেলে ফুল শোলা কুড়িয়ে এনে ফুল, মালা তৈরি করে হাটে বাজারে বিক্রি করি। শোলার তৈরি চাঁদমালা, মুকুট, কদম কিংবা ঝোরা ফুল তৈরি করি। একই সঙ্গে শুভ কাজ বা মানতের জন্য এগুলো ব্যবহার করা হয়। আমাদের অনেক প্রতিবেশী হাতের কাজে সহযোগিতা করেন বলে আমরা ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই ফুল-মালা বিক্রি করে আমাদের সারাবছর সংসার চলে। আমরা যদি সরকারি কোনো সাহায্য পাই তাহলে একটা কারখানা করতাম, এতে আমাদের কাজ আরও বেশি হতো, আয়ও বাড়ত।’

কারিগর রেখার স্বামী রনজীত বিশ্বাস বলেন, ‘কাঁচা শোলার সংকট আছে, মাঠে পানি কম হওয়ায় শোলা কম হয়। বছরে ২টা মৌসুম শ্রাবণ ও মাঘ মাসে আমরা এই কাজ বেশি করি। এই দুই সিজনেই ১ লাখ টাকা উপার্জন হয়। শত কষ্টের মধ্যেও এখনো বাপ-দাদার এই হস্তশিল্প পেশাকে আঁকড়ে ধরে রেখেছি। এই গ্রামের ১২ থেকে ১৫টি পরিবার এ পেশায় নিয়োজিত আছে। আমরা সরকারি সহযোগিতা পেলে হয়তো আরও বড় পরিসরে ফুল তৈরির কারখানা করতাম।’

এলাকার যুবক সিজান বলেন, ‘রেখা দিদিকে ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি তিনি ও তার স্বামী মিলে এই শোলার তৈরি কদম ফুল, ঝোরা ফুল তৈরির মাধ্যমেই এ শিল্পকর্মটি বাঁচিয়ে রেখেছেন। বংশ পরম্পরায় তারা এ পেশার সঙ্গে যুক্ত আছেন। তাদেরকে যদি সরকারি সহায়তা বা কোনো সংস্থা সহযোগিতা করতো তাহলে তারা এই শিল্পটাকে বাঁচিয়ে রাখতে পারতো। একদিন হয়তো রেখা দিদি সফল নারী উদ্যোক্তা হয়ে উঠতে পারবে, পাশাপাশি এলাকার অনেক নারী কর্মীরাও তার সঙ্গে কাজ করে জীবীকা নির্বাহ করতে পারবে।’

কাদিরাবাদ গ্রামের প্রবীণ রাজকুমার বলেন, ‘রেখা ও রনজীত দীর্ঘদিন ধরে এই ফুল, মালা, মুকুট তৈরির কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন। তারা অনেক কষ্ট করেন, এই কাজের ভেতর দিয়ে সংসার চালাতে হিমসিম খায়। আমি আশীর্বাদ করি তারা যেন ভালো কিছু করতে পারে, তাদের যেন ভালো হয়।’