মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চঁর বাজার সংলগ্ন এলাকায় টানা বর্ষণে তৈরি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। এতে প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের একটি বড় অংশই হতদরিদ্র ও দিনমজুর হওয়ায় এই দুর্যোগে তাদের দুর্ভোগ এখন চরমে পৌঁছেছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সামান্য বৃষ্টি হলেই এলাকার ঘরবাড়ির ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে যে, ঘরের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে যাতায়াতের জন্য ইট, কংক্রিট বা কাঠের টুকরো বিছিয়ে পথ তৈরি করতে হচ্ছে। পানি বাড়ার সাথে সাথে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে রান্নাবান্না। সবচেয়ে বিপদে পড়েছেন নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা।
শৌচাগারগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেই সঙ্গে যোগ হয়েছে বিষধর সাপের উপদ্রব। ছোট ছোট সন্তানদের নিয়ে প্রতি মুহূর্ত আতঙ্কের মধ্যে পার করছেন অভিভাবকেরা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গ্রামের চারপাশ দিয়ে বিভিন্ন সময় পরিকল্পিত-অপরিকল্পিতভাবে সড়ক নির্মাণ করা হলেও পানি নিষ্কাশনের জন্য কোনো ড্রেনেজ বা কালভার্টের ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি আটকে যায় এবং বছরের প্রায় ছয় মাসই তাদের এই স্থায়ী জলাবদ্ধতার অভিশাপ সইতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে নোংরা ও দূষিত পানিতে চলাচলের কারণে এলাকার অনেকেই ইতোমধ্যে ডায়রিয়া, চর্মরোগসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। জলাবদ্ধতার তীব্রতায় ঘরের বাইরে বের হওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে, এমনকি প্রতিবেশীদের খোঁজখবর নিতে হচ্ছে জানালার মাধ্যমে।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, “আমরা বছরের পর বছর এই কষ্টে আছি। রাস্তা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু পানি যাওয়ার পথ বন্ধ। আমরা ত্রাণ চাই না, আমরা এই স্থায়ী জলবদ্ধতা থেকে মুক্তি চাই। স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শিবচর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং জনদুর্ভোগের। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রয়োজনীয় ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।”
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী অনতিবিলম্বে এই জলজট নিরসন করে স্বাভাবিক জীবনযাপনের পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন।

মোঃ শামীম আহমেদ 























