ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ: সার্চ কমিটির বৈঠক আজ মৃত্যুদণ্ড থেকে ‘আমৃত্যু’ কারাবাস: চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আপিল বিভাগ গ্রাহকদের রেমিট্যান্স সুবিধা আরও সহজ করতে চুক্তিবদ্ধ হলো নগদ ও রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশে নতুন ‘শাইন ১০০ ডিএক্স’ নিয়ে এলো হোন্ডা ঘুমাচ্ছেন নাকি ক্লান্ত হচ্ছেন? স্বপ্ন দেখার পেছনে লুকিয়ে থাকা আসল বিজ্ঞানটি জানুন আগোরাতে অ্যাকাউন্টস বিভাগে নিয়োগ নিটোল-নিলয় গ্রুপে চমত্কার ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ; সাথে থাকছে নিশ্চিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট! বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদনের শেষ সময় ৯ জুলাই মরক্কোর বিপক্ষে ড্র ব্রাজিলের নবীনগরে দেড় লাখ টাকার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে দর্শকদের ঢল
নোটিশ :
সাইটের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। তাই সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত।

ঘুমের মধ্যে শিশুর হাসির কারণ জানাল বিজ্ঞান

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৪:৫৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৩৯ বার পড়া হয়েছে

ঘুমের মধ্যে শিশুর হেসে ওঠার দৃশ্য দেখলে যে কারও মন ভরে যায়। অনেকেই মনে করেন, শিশুরা নিশ্চয়ই কোনো আনন্দদায়ক স্বপ্ন দেখছে বলেই ঘুমের মাঝেও হাসে। আবার লোকমুখে প্রচলিত ধারণা আছে, শিশুর নিষ্পাপ মনেই নাকি এই হাসির রহস্য লুকিয়ে রয়েছে; কিন্তু এ বিষয়ে বিজ্ঞান কী বলছে?

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের মতো স্বপ্ন দেখে কিনা—এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন। তবে তারা নিশ্চিত যে শিশুর ঘুম কয়েকটি ধাপে বিভক্ত। এসব ধাপের মধ্যে রয়েছে কোয়ায়েট স্লিপ (শান্ত ঘুম), ইনডিটারমিনেট স্লিপ (মধ্যবর্তী অবস্থা) এবং অ্যাক্টিভ স্লিপ।

অ্যাক্টিভ স্লিপ ধাপটিকে প্রাপ্তবয়স্কদের র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট (আরইএম) পর্যায়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এই পর্যায়েই সাধারণত স্বপ্ন দেখা হয়। তবে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ঘুমের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের শরীর এ সময় প্রায় স্থির থাকে, কিন্তু শিশুরা তখন হাত-পা নাড়াতে পারে এবং মুখভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শিশুরা মূলত এই অ্যাক্টিভ স্লিপ অবস্থাতেই ঘুমের মধ্যে হাসে। এ সময় তারা হাত-পা নড়ানো, ঠোঁট চোষার মতো ভঙ্গি করা, ভ্রু কুঁচকানো কিংবা হালকা হাসিসহ নানা ধরনের আচরণ প্রকাশ করতে পারে।

গবেষকেরা লক্ষ্য করেছেন, অনেক নবজাতক শিশু ঘুমের মধ্যেই এমন জটিল মুখভঙ্গি করে, যা তারা জেগে থাকার সময় তখনো শেখেনি। এ কারণেই অনেক শিশুর জীবনের প্রথম হাসি দেখা যায় ঘুমের মধ্যেই।

আগের কিছু গবেষণায় ধারণা দেওয়া হয়েছিল, শিশুর ঘুমের এই হাসি একটি রিফ্লেক্স বা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া মাত্র। তবে আধুনিক গবেষণা বলছে, এই হাসির উৎস শিশুর মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্সের সেই অংশ, যা চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত।

বিজ্ঞানীদের মতে, ঘুমের মধ্যে শিশুর এই স্বতঃস্ফূর্ত হাসি মুখের পেশিগুলোকে সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি ধীরে ধীরে শিশুর সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ: সার্চ কমিটির বৈঠক আজ

ঘুমের মধ্যে শিশুর হাসির কারণ জানাল বিজ্ঞান

আপডেট সময় ০৪:৫৫:৪১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঘুমের মধ্যে শিশুর হেসে ওঠার দৃশ্য দেখলে যে কারও মন ভরে যায়। অনেকেই মনে করেন, শিশুরা নিশ্চয়ই কোনো আনন্দদায়ক স্বপ্ন দেখছে বলেই ঘুমের মাঝেও হাসে। আবার লোকমুখে প্রচলিত ধারণা আছে, শিশুর নিষ্পাপ মনেই নাকি এই হাসির রহস্য লুকিয়ে রয়েছে; কিন্তু এ বিষয়ে বিজ্ঞান কী বলছে?

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুরা প্রাপ্তবয়স্কদের মতো স্বপ্ন দেখে কিনা—এ বিষয়ে বিজ্ঞানীরা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নন। তবে তারা নিশ্চিত যে শিশুর ঘুম কয়েকটি ধাপে বিভক্ত। এসব ধাপের মধ্যে রয়েছে কোয়ায়েট স্লিপ (শান্ত ঘুম), ইনডিটারমিনেট স্লিপ (মধ্যবর্তী অবস্থা) এবং অ্যাক্টিভ স্লিপ।

অ্যাক্টিভ স্লিপ ধাপটিকে প্রাপ্তবয়স্কদের র‌্যাপিড আই মুভমেন্ট (আরইএম) পর্যায়ের সঙ্গে তুলনা করা হয়। এই পর্যায়েই সাধারণত স্বপ্ন দেখা হয়। তবে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের ঘুমের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের শরীর এ সময় প্রায় স্থির থাকে, কিন্তু শিশুরা তখন হাত-পা নাড়াতে পারে এবং মুখভঙ্গিতে পরিবর্তন আনতে পারে।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, শিশুরা মূলত এই অ্যাক্টিভ স্লিপ অবস্থাতেই ঘুমের মধ্যে হাসে। এ সময় তারা হাত-পা নড়ানো, ঠোঁট চোষার মতো ভঙ্গি করা, ভ্রু কুঁচকানো কিংবা হালকা হাসিসহ নানা ধরনের আচরণ প্রকাশ করতে পারে।

গবেষকেরা লক্ষ্য করেছেন, অনেক নবজাতক শিশু ঘুমের মধ্যেই এমন জটিল মুখভঙ্গি করে, যা তারা জেগে থাকার সময় তখনো শেখেনি। এ কারণেই অনেক শিশুর জীবনের প্রথম হাসি দেখা যায় ঘুমের মধ্যেই।

আগের কিছু গবেষণায় ধারণা দেওয়া হয়েছিল, শিশুর ঘুমের এই হাসি একটি রিফ্লেক্স বা স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া মাত্র। তবে আধুনিক গবেষণা বলছে, এই হাসির উৎস শিশুর মস্তিষ্কের সেরিব্রাল কর্টেক্সের সেই অংশ, যা চিন্তা, আবেগ ও অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত।

বিজ্ঞানীদের মতে, ঘুমের মধ্যে শিশুর এই স্বতঃস্ফূর্ত হাসি মুখের পেশিগুলোকে সক্রিয় ও শক্তিশালী করতে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি ধীরে ধীরে শিশুর সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।