ঢাকা , বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম ::
দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ: সার্চ কমিটির বৈঠক আজ মৃত্যুদণ্ড থেকে ‘আমৃত্যু’ কারাবাস: চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আপিল বিভাগ গ্রাহকদের রেমিট্যান্স সুবিধা আরও সহজ করতে চুক্তিবদ্ধ হলো নগদ ও রূপালী ব্যাংক বাংলাদেশে নতুন ‘শাইন ১০০ ডিএক্স’ নিয়ে এলো হোন্ডা ঘুমাচ্ছেন নাকি ক্লান্ত হচ্ছেন? স্বপ্ন দেখার পেছনে লুকিয়ে থাকা আসল বিজ্ঞানটি জানুন আগোরাতে অ্যাকাউন্টস বিভাগে নিয়োগ নিটোল-নিলয় গ্রুপে চমত্কার ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ; সাথে থাকছে নিশ্চিত বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট! বেসরকারি ব্যাংকে চাকরির সুযোগ, আবেদনের শেষ সময় ৯ জুলাই মরক্কোর বিপক্ষে ড্র ব্রাজিলের নবীনগরে দেড় লাখ টাকার ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনালে দর্শকদের ঢল
নোটিশ :
সাইটের রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে। তাই সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত।

কথায় ও কাজে ‘ইনশাআল্লাহ’ কেন বলবেন?

  • Reporter Name
  • আপডেট সময় ০৫:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭১ বার পড়া হয়েছে

মানুষ প্রতিদিনই ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলে— ‘কাল আসব’, ‘এটা অবশ্যই করব’, ‘এই কাজটা শেষ করেই ফেলব।’ কিন্তু একটি ছোট্ট শব্দ— ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতে আমরা অনেক সময় ভুলে যাই। এই শব্দটি শুধু ভদ্রতার বাক্য নয়, এটি একজন মুমিনের ইমানি ঘোষণা। কারণ ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে নয়; ভবিষ্যৎ একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছার অধীন। ‘ইনশাআল্লাহ’ না বলা মানে অজান্তেই নিজের শক্তির ওপর নির্ভর করা— আর সেটিই ইসলামের দৃষ্টিতে বড় ধরনের আত্মপ্রবঞ্চনা।

‘ইনশাআল্লাহ’—এর অর্থ ও তাৎপর্য

إِنْ شَاءَ اللَّهُ (ইনশাআল্লাহ) অর্থ— ‘আল্লাহ চাইলে’ বা ‘যদি আল্লাহ চান’।

এ শব্দটি (إِنْ شَاءَ اللَّهُ – ইনশাআল্লাহ) উচ্চারণের মাধ্যমে একজন মুসলিম স্বীকার করে নেয়— ‘আমার পরিকল্পনা আছে, আমার চেষ্টা থাকবে, কিন্তু ফলাফল আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া সম্ভব নয়।’ কুরআনুল কারিমের নির্দেশনাও এমনই।

কুরআনের নির্দেশ: ভবিষ্যৎ বলার সময় ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা

আল্লাহ তাআলা সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন—

وَلَا تَقُولَنَّ لِشَيْءٍ إِنِّي فَاعِلٌ ذَٰلِكَ غَدًا ۝ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ

‘কোনো কাজ সম্পর্কে কখনো বলো না—‘আমি এটা আগামীকাল করব’, বরং বলবে—‘আল্লাহ চাইলে’।’ (সুরা আল-কাহফ: আয়াত ২৩–২৪)

এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল নবী মুহাম্মদ (সা.)–এর জীবনের এক ঘটনার পর, যেখানে তিনি ভবিষ্যৎ বিষয়ে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতে ভুলে গিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে পুরো উম্মাহকে শিক্ষা দেওয়া হলো—ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার শিষ্টাচার কী হওয়া উচিত। সে ঘটনাটি তাফসিরে আহসানুল বয়ান এভাবে উল্লেখ করেছেন—

মুফাসসিরগণ বলেন যে, ইহুদিরা নবী (সা.)-কে তিনটি কথা জিজ্ঞাসা করেছিল। আত্মার স্বরূপ কি এবং গুহার অধিবাসী ও যুল-কারনাইন কে ছিল? তারা বলেন যে, এই প্রশ্নগুলোই ছিল এই সুরা (কাহফ) অবতীর্ণ হওয়ার কারণ। নবী (সা.) বললেন, আমি তোমাদেরকে আগামী কাল উত্তর দেব। কিন্তু এর পর ১৫ দিন পর্যন্ত জিবরিল (আ.) ওহি নিয়ে এলেন না। এরপর যখন এলেন, তখন মহান আল্লাহ ‘ইনশাআল্লাহ’ বলার নির্দেশ দিলেন। আয়াতে غَدًا (আগামী কাল) বলতে ভবিষ্যৎ বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, অদূর ভবিষ্যতে বা দূর ভবিষ্যতে কোন কাজ করার সংকল্প করলে, ‘ইনশাআল্লাহ’ অবশ্যই বলে নিও। কেননা, মানুষ তো জানেই না যে, যা করার সে সংকল্প করে, তা করার তৌফিক সে আল্লাহর ইচ্ছা থেকে পাবে, না পাবে না?

এখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তার উম্মতকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতকালে কোনো কাজ করার ওয়াদা বা স্বীকারোক্তি করলে এর সঙ্গে ‘ইনশাআল্লাহ’ বাক্যটি যুক্ত করতে হবে। কেননা, ভবিষ্যতে জীবিত থাকবে কিনা তা কারও জানা নেই। জীবিত থাকলেও কাজটি করতে পারবে কিনা, তারও নিশ্চয়তা নেই। কাজেই মুমিনের উচিত, মনে মনে এবং মুখে স্বীকারোক্তির মাধ্যমে আল্লাহর ওপর ভরসা করা। ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার কথা বললে এভাবে বলা দরকার— ‘যদি আল্লাহ চান, তবে আমি এ কাজটি আগামী কাল করব। ইনশাআল্লাহ বাক্যের অর্থ তাই।’

ট্যাগস

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

দুদক চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ: সার্চ কমিটির বৈঠক আজ

কথায় ও কাজে ‘ইনশাআল্লাহ’ কেন বলবেন?

আপডেট সময় ০৫:০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মানুষ প্রতিদিনই ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলে— ‘কাল আসব’, ‘এটা অবশ্যই করব’, ‘এই কাজটা শেষ করেই ফেলব।’ কিন্তু একটি ছোট্ট শব্দ— ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতে আমরা অনেক সময় ভুলে যাই। এই শব্দটি শুধু ভদ্রতার বাক্য নয়, এটি একজন মুমিনের ইমানি ঘোষণা। কারণ ভবিষ্যৎ আমাদের হাতে নয়; ভবিষ্যৎ একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছার অধীন। ‘ইনশাআল্লাহ’ না বলা মানে অজান্তেই নিজের শক্তির ওপর নির্ভর করা— আর সেটিই ইসলামের দৃষ্টিতে বড় ধরনের আত্মপ্রবঞ্চনা।

‘ইনশাআল্লাহ’—এর অর্থ ও তাৎপর্য

إِنْ شَاءَ اللَّهُ (ইনশাআল্লাহ) অর্থ— ‘আল্লাহ চাইলে’ বা ‘যদি আল্লাহ চান’।

এ শব্দটি (إِنْ شَاءَ اللَّهُ – ইনশাআল্লাহ) উচ্চারণের মাধ্যমে একজন মুসলিম স্বীকার করে নেয়— ‘আমার পরিকল্পনা আছে, আমার চেষ্টা থাকবে, কিন্তু ফলাফল আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া সম্ভব নয়।’ কুরআনুল কারিমের নির্দেশনাও এমনই।

কুরআনের নির্দেশ: ভবিষ্যৎ বলার সময় ‘ইনশাআল্লাহ’ বলা

আল্লাহ তাআলা সরাসরি নির্দেশ দিয়েছেন—

وَلَا تَقُولَنَّ لِشَيْءٍ إِنِّي فَاعِلٌ ذَٰلِكَ غَدًا ۝ إِلَّا أَنْ يَشَاءَ اللَّهُ

‘কোনো কাজ সম্পর্কে কখনো বলো না—‘আমি এটা আগামীকাল করব’, বরং বলবে—‘আল্লাহ চাইলে’।’ (সুরা আল-কাহফ: আয়াত ২৩–২৪)

এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছিল নবী মুহাম্মদ (সা.)–এর জীবনের এক ঘটনার পর, যেখানে তিনি ভবিষ্যৎ বিষয়ে ‘ইনশাআল্লাহ’ বলতে ভুলে গিয়েছিলেন। এর মাধ্যমে পুরো উম্মাহকে শিক্ষা দেওয়া হলো—ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলার শিষ্টাচার কী হওয়া উচিত। সে ঘটনাটি তাফসিরে আহসানুল বয়ান এভাবে উল্লেখ করেছেন—

মুফাসসিরগণ বলেন যে, ইহুদিরা নবী (সা.)-কে তিনটি কথা জিজ্ঞাসা করেছিল। আত্মার স্বরূপ কি এবং গুহার অধিবাসী ও যুল-কারনাইন কে ছিল? তারা বলেন যে, এই প্রশ্নগুলোই ছিল এই সুরা (কাহফ) অবতীর্ণ হওয়ার কারণ। নবী (সা.) বললেন, আমি তোমাদেরকে আগামী কাল উত্তর দেব। কিন্তু এর পর ১৫ দিন পর্যন্ত জিবরিল (আ.) ওহি নিয়ে এলেন না। এরপর যখন এলেন, তখন মহান আল্লাহ ‘ইনশাআল্লাহ’ বলার নির্দেশ দিলেন। আয়াতে غَدًا (আগামী কাল) বলতে ভবিষ্যৎ বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ, অদূর ভবিষ্যতে বা দূর ভবিষ্যতে কোন কাজ করার সংকল্প করলে, ‘ইনশাআল্লাহ’ অবশ্যই বলে নিও। কেননা, মানুষ তো জানেই না যে, যা করার সে সংকল্প করে, তা করার তৌফিক সে আল্লাহর ইচ্ছা থেকে পাবে, না পাবে না?

এখানে রাসুলুল্লাহ (সা.) ও তার উম্মতকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতকালে কোনো কাজ করার ওয়াদা বা স্বীকারোক্তি করলে এর সঙ্গে ‘ইনশাআল্লাহ’ বাক্যটি যুক্ত করতে হবে। কেননা, ভবিষ্যতে জীবিত থাকবে কিনা তা কারও জানা নেই। জীবিত থাকলেও কাজটি করতে পারবে কিনা, তারও নিশ্চয়তা নেই। কাজেই মুমিনের উচিত, মনে মনে এবং মুখে স্বীকারোক্তির মাধ্যমে আল্লাহর ওপর ভরসা করা। ভবিষ্যতে কোনো কাজ করার কথা বললে এভাবে বলা দরকার— ‘যদি আল্লাহ চান, তবে আমি এ কাজটি আগামী কাল করব। ইনশাআল্লাহ বাক্যের অর্থ তাই।’