‘উনত্রিশের আহ্বান, রক্তদানে বাঁচুক প্রাণ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) রক্তদাতা সংগঠন বাঁধনের ২৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকালে বাঁধন বাকৃবি জোনাল পরিষদ দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে আনন্দ র‌্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে। র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ নজরুল ইসলাম সম্মেলন কক্ষের সামনে থেকে শুরু হয়। প‌রে কামাল রঞ্জিত( কেআর) মার্কেট প্রদক্ষিণ করে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে হয়ে বাঁধনের কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এরপর বাকৃবির ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্র( টিএসসি) সংলগ্ন মিনি কনফারেন্স রুমে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। আলোচনা শেষে সংগঠনের ২৯ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেক কাটা হয়।

আলোচনা সভায় সংগঠনটির সভাপতি মো. রিদুয়ান হাসান সাব্বিরের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. নাঈমুল ইসলাম শিমুলের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলীম, সহযোগী ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহিদুল ইসলাম, সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক ড. সোনিয়া সেহেলি। এ ছাড়া সংগঠনটির প্রায় শতাধিক সদস্য অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

বাঁধন বাকৃবি জোনাল পরিষদের সভাপতি মো. রিদুয়ান হাসান সাব্বির বলেন, ময়মনসিংহের এই থ্যালাসেমিয়াপ্রবণ এলাকায় বাঁধন বাকৃবি জোনাল পরিষদ ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ১৫৫১ ব্যাগ রক্তদান করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা বাঁধন সংগঠন মানবতার সেবায় স্বেচ্ছায় রক্তদান, বিনামূল্যে রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, রক্তদানে উদ্ভুদ্ধকরন করে থাকি। আমরা চাই সবাই স্বেচ্ছায় রক্তদান করুন, মানুষের পাশে দাড়ান, একজন মুমূর্ষু রোগীর সুস্থতার হাসির কারণ হোন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. জি. এম. মুজিবর রহমান বলেন, বাঁধন একটি ব্যতিক্রমী সামাজিক সংগঠন। যেখানে ছেলে-মেয়েরা স্বেচ্ছায় রক্তদান এবং সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত হতে এগিয়ে আসেন। রক্তদানের মাধ্যমে জীবন বাঁচিয়ে যে সন্তুষ্টি পাওয়া যায় সেই অনুভূতি আর অন্য কোথাও নেই। সৃষ্টিকর্তা এটার জন্য কি পুরষ্কার রেখেছেন এটা আমাদের কারোই জানা নেই।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সকলের রক্তদানের প্রতি আরও উৎসাহিত হতে হবে। এমন অনেক রুগী আছেন যাদের রক্তের গ্রুপ অনেক দুর্লভ। তাই আমাদের ওই সকল রক্তদাতাকেও প্রস্তুত রাখতে হবে। আত্মমানবতার সেবায় নিয়োজিত থাকতে হবে এবং মানুষের কষ্টে পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা গড়তে হবে।