মাদারীপুরের শিবচরে দুর্গাপূজামণ্ডপে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, শারীরিক লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত, জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং গণমাধ্যমকর্মীদের নিরাপত্তার নিশ্চিতকরণসহ ৭ দফা দাবি জানানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিজয় টেলিভিশনের শিবচর উপজেলা প্রতিনিধি অপূর্ব চৌধুরী জয়।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, গত ২২ অক্টোবর রাতে শিবচর উপজেলার পাঁচ্চর ইউনিয়নের ঠাকুরবাজার এলাকার একটি দুর্গাপূজামণ্ডপে বিশৃঙ্খলা ও মারামারির খবর পেয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে যান তিনি ও তাঁর দুই সহকর্মী। সেখানে পৌঁছালে পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুকুমার কর্মকারের ছেলে দুর্জয় কর্মকার তাঁদের ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তিন সাংবাদিককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও আঘাত করা হয় এবং পেশাগত কাজে বাধা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে আহত সাংবাদিকরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নেন।
সংবাদ সম্মেলনে পূজামণ্ডপে সরকারি নির্দেশনা অমান্য ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগ তুলে ধরে বলা হয়, নির্ধারিত সময়ের পরও মণ্ডপে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছিল। পাশাপাশি দেড় শতাধিক তরুণের উপস্থিতিতে ডিজে পার্টি ও মদ্যপানের আয়োজন করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ঘটনা চলাকালীন দায়িত্বপ্রাপ্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ, ছবি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর বাদল কর্মকার নামের এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, অশালীন মন্তব্য এবং ব্যবহৃত ক্যামেরা নদীতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেন। যা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ।
এছাড়া, শিবচরের ‘মা লক্ষ্মী জুয়েলার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের স্বর্ণালঙ্কার লেনদেনে অনিয়ম, গ্রাহক হয়রানি ও সম্পদের বৈধ উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানানো হয়।
গণমাধ্যমকর্মীদের উত্থাপিত ৭ দফা দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. ঠাকুরবাজার পূজামণ্ডপে সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শনাক্তকরণ।
২. পেশাগত কাজে বাধা ও শারীরিক আঘাতের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা।
৩. সাংবাদিকদের হুমকিদাতার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ।
৪. পূজামণ্ডপে সময়সূচি অমান্য, ডিজে পার্টি ও মদ্যপানের অভিযোগ যাচাই।
৫. মা লক্ষ্মী জুয়েলার্সের আর্থিক অনিয়ম ও আয়কর সংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত।
৬. সাংবাদিকদের ভয়ভীতিহীন স্বাধীন কাজের পরিবেশ ও পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ।
৭. পুরো প্রক্রিয়ায় প্রভাবমুক্ত ও স্বচ্ছ তদন্ত পরিচালনা করা।
বিজয় টিভির প্রতিনিধি অপূর্ব চৌধুরী জয় বলেন, সাংবাদিকতা কোনো ব্যক্তিগত বিরোধের জায়গা নয়; সত্য প্রকাশ ও জনস্বার্থ রক্ষাই আমাদের কাজ। সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও হুমকি মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমের ওপর সরাসরি আঘাত।
তিনি অবিলম্বে ঘটনাটির সঠিক তথ্য উন্মোচনে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুদক ও এনবিআরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।