পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার শরৎনগর বাজারে একটি কীটনাশকের দোকান থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক কিনে জমিতে ব্যবহার করার পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন কৃষক মো. আশরাফ আলী। তাঁর অভিযোগ, কীটনাশকের সংস্পর্শে আসার পর হাতের কয়েকটি আঙুলে সংক্রমণ দেখা দেয়। দীর্ঘ তিন মাস রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েও আঙুলগুলো স্বাভাবিক হয়নি। এ ঘটনায় শরৎনগর বাজারের জাকিয়া এন্টারপ্রাইজ নামের দোকানটির মালিক আব্দুল জব্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী আশরাফ আলী উপজেলার বেতুয়ান গ্রামের পশ্চিমপাড়ার বাসিন্দা। তিনি মো. সোরাপ প্রামাণিকের ছেলে। কৃষকের অভিযোগ, প্রায় দুই থেকে তিন মাস আগে জমিতে কীটনাশক ব্যবহারের সময় সেটির সংস্পর্শে এসে তাঁর হাতে সংক্রমণ দেখা দেয়। পরে সংক্রমণ কয়েকটি আঙুলে ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেতে হয়। সেখানে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিয়েও কাঙ্ক্ষিত সুস্থতা পাননি বলে দাবি করেন তিনি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ বিষয়ে অভিযোগ জানাতে আশরাফ আলী শরৎনগর বাজারের জাকিয়া এন্টারপ্রাইজে গেলে দোকানমালিক আব্দুল জব্বারের সঙ্গে তাঁর বাদানুবাদ হয়। এ সময় দোকানমালিক ক্ষতিপূরণ হিসেবে তাঁকে ১০ হাজার টাকা দিতে চান বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিক ও স্থানীয় লোকজন উপস্থিত হলে দোকানে বিভিন্ন ধরনের মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক দেখতে পান বলে দাবি করেন তাঁরা। পরে বিষয়টি ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নজরে আনা হলে তিনি পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। তবে তিনি পৌঁছানোর আগেই দোকানমালিক আব্দুল জব্বার সেখান থেকে সরে যান বলে জানা গেছে।
অভিযুক্ত দোকানমালিককে ঘটনাস্থলে না পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভুক্তভোগী কৃষককে থানায় গিয়ে নিয়মিত মামলা করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে উপস্থিত ব্যক্তিদের সামনে ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) বিষয়টি নিয়ে মামলা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এদিকে, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দাখিলের খবর পাওয়া যায়নি। ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আযম বলেন, “ভুক্তভোগী এখনো থানায় আসেননি। তিনি থানায় এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশক ব্যবহারের সঙ্গে কৃষকের আঙুলে সংক্রমণের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।