কক্সবাজারের টেকনাফে ১৬ এপিবিএনের নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ অভিযানে মানবপাচার চক্রের অন্যতম হোতা হিসেবে অভিযুক্ত কবির ওরফে ডাক্তার কবির, তাঁর সহযোগী ইলিয়াস ওরফে ইলিয়াস মেম্বার এবং হত্যা ও অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত এক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ছয়জনকে কারাদণ্ড এবং চারজনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটা থেকে সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত ১৬ এপিবিএনের আওতাধীন টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
১৬ এপিবিএনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের লক্ষ্যে পরিচালিত এ অভিযানে ১৬ এপিবিএন, জেলা পুলিশ, জেলা প্রশাসন, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও ব্যাটালিয়ন আনসারের মোট ১০৫ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।
মানবপাচার মামলার আসামি গ্রেপ্তার
অভিযানে লেদার ২৪ নম্বর ক্যাম্প থেকে মানবপাচার মামলার আসামি মো. কবির ওরফে ডাক্তার কবির (৬৫) এবং তাঁর সহযোগী মো. ইলিয়াস ওরফে ইলিয়াস মেম্বারকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়।
১৬ এপিবিএনের দাবি, তাঁরা টেকনাফের মানবপাচার চক্রের অন্যতম প্রধান ব্যক্তি। গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশি ও রোহিঙ্গাদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে মালয়েশিয়ায় পাচারের সময় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জের কাছে একটি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনায় তাঁদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য রয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই ঘটনায় ড্রাম ও কাঠের টুকরো ধরে ভাসতে থাকা কয়েকজনকে কোস্ট গার্ড উদ্ধার করেছিল।
হত্যা ও অস্ত্র মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি গ্রেপ্তার
অন্য একটি অভিযানে হত্যা ও অস্ত্র মামলার তিনটি ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি আবু তৈয়বকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি নয়াপাড়া নিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। ১৬ এপিবিএনের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলায় চার বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের সাজা রয়েছে।
ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ড ১০ জনের
অভিযানকালে সরকারি আদেশ অমান্য, মাদক সেবন, মা-বাবাকে মারধর এবং ক্যাম্পে অবৈধ অনুপ্রবেশসহ বিভিন্ন অপরাধে ১০ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দণ্ড দেওয়া হয়।
এর মধ্যে ছয়জনকে তিন থেকে ছয় মাস পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং চারজনকে ৫০০ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া রিকল মূলে একটি ওয়ারেন্ট নিষ্পত্তি করা হয়। সব মিলিয়ে অভিযানে ১৩ জনকে আইনানুগ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে ১৬ এপিবিএন সূত্রে জানা গেছে।