জেলা প্রতিনিধি মাদারীপুর
বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের সংকট দূরীকরণে বর্তমান সরকারের গৃহীত পরিকল্পনা ও বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগ সম্পর্কে সাধারণ জনগণকে সচেতন করার লক্ষ্যে মাদারীপুরের শিবচরে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ শিবচর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে উপজেলার প্রধান কাঁচা বাজার, পৌর মার্কেট, ৭১ রোড, খলিফা পট্টিসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে এ সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।
প্রচারপত্রে বিগত দিনগুলোর অব্যবস্থাপনা এবং বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকটের মূল ভিত্তি তৈরি হয়েছিল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে। তৎকালীন সরকারের অপরিকল্পিত নীতি ও দুর্বল বাস্তবায়নের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিগত দেড় দশকে প্রয়োজনের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষমতার বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও জ্বালানি ও প্রয়োজনীয় অর্থের যোগানের বাস্তবসম্মত কোনো পরিকল্পনা ছিল না। ফলে সক্ষমতা পাঁচ গুণের বেশি বাড়লেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হয়নি। উল্টো বিশেষ কিছু গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ ক্যাপাসিটি চার্জের দায়ভার জনগণের ওপর চাপানো হয়েছে, যা ছিল তীব্র আর্থিক দুর্নীতির ফসল।
সংবাদপত্রে প্রকাশিত তথ্যের তথ্যসূত্র উল্লেখ করে লিফলেটে জানানো হয়, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পরবর্তীতে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ খাতের এ দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ডলারে টান পড়া, বকেয়া বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের অভাবে অনেক কেন্দ্র থাকা সত্ত্বেও উৎপাদন ব্যাহত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী মূল্য এবং অভ্যন্তরীণ গ্যাস উৎপাদন কমে যাওয়া সংকটের গভীরতা আরও বাড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে দায়িত্ব পালনকারী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও এ সংকট নিরসনে স্থায়ী সমাধান না এনে বিপুল পরিমাণ বকেয়া রেখে যায়, যা বিদ্যুৎ সরবরাহে অতিরিক্ত জটিলতা তৈরি করে।
এমতাবস্থায় বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এর নেতৃত্বে সরকার দেশব্যাপী বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনে একাধিক কার্যকর ও গঠনমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
লিফলেট ও প্রচারপত্র থেকে পাওয়া সরকারের উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপগুলো
সাধারণ গ্রাহক সুরক্ষা: দেশের মোট ৮৪% লাইফলাইন গ্রাহকদের ওপর চাপ কমাতে বিদ্যুৎ ট্যারিফ না বাড়ানোর উদ্যোগ গ্রহণ।
চুক্তি পুনর্মূল্যায়ন ও ব্যয় সংকোচন: ইতোমধ্যে ৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তি পর্যালোচনা করে বিদ্যুতের ক্রয়মূল্য কমানো হয়েছে এবং আরও ৫১টি বেসরকারি কেন্দ্রকে দরকষাকষির (নেগোসিয়েশন) আওতায় আনা হচ্ছে।
ক্যাপাসিটি চার্জ ছাড়া বিদ্যুৎ উৎপাদন: যেসকল বিদ্যুৎকেন্দ্রের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে, সেগুলোকে কোনো ক্যাপাসিটি চার্জ না দিয়ে কেবল উৎপাদিত বিদ্যুতের মূল্য পরিশোধের শর্তে পুনরায় চালু করা হচ্ছে।
জরুরি জ্বালানি আমদানি: শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে ভারসাম্য বজায় রাখতে এবং ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো সচল রাখতে ৬,০০০ কোটি টাকার ফার্নেস অয়েল আমদানির জরুরি ব্যবস্থা।
সবুজ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিশেষ জোর:
জাতীয় ‘রুফটপ সোলার প্রোগ্রাম’-এর বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের জন্য সরকার কর্তৃক ইউনিটপ্রতি ১০.৫০ টাকা প্রণোদনা ঘোষণা।
সৌর যন্ত্রপাতির ওপর আমদানি শুল্ক ৬৪% থেকে কমিয়ে মাত্র ১% এবং অগ্রিম আয়কর ১৫% থেকে ১%-এ নামিয়ে আনা।
রপ্তানিমুখী শিল্পখাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘মার্চেন্ট পাওয়ার পলিসি’র মাধ্যমে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি প্রদান।
অনুষ্ঠানে শিবচর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতৃবৃন্দ জানান, সরকারের এসব সময়োপযোগী ও বাস্তবমুখী পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়িত হলে দেশ শীঘ্রই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট থেকে রেহাই পাবে। সাধারণ মানুষকে ধৈর্য ধারণ ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারা এই সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।