নারী-পুরুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা, সামাজিক বৈষম্য কমানো এবং নারীর প্রতি সহিংসতা রোধে তরুণদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় অনুষ্ঠিত এক সচেতনতামূলক সভায়। বক্তারা বলেন, প্রচলিত সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন এবং সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর ২০২৬) টুঙ্গিপাড়ায় থ্রি স্টার অর্গানাইজেশনের কার্যালয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়। ‘SHOMOTAY TARUNNO PROJECT’-এর অংশ হিসেবে ‘জেন্ডার স্টেরিওটাইপ এবং নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে কমিউনিটি অ্যাকশন প্রজেক্ট’ শীর্ষক কর্মসূচিটি বাস্তবায়ন করছে সংগঠনটি।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা প্রকাশ চক্রবর্তী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সৌদুধ আহম্মেদ ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তার হোসেন মোল্লা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুশলী ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান ইশতিয়াক হোসেন।

কর্মসূচির উদ্যোক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থ্রি স্টার অর্গানাইজেশনের নির্বাহী প্রধান ইলিয়াস হোসেন। এ ছাড়া প্রশিক্ষক মওদুদ আহমেদ, মেহেরুন্নেসাসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সভায় অংশ নেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, নারী ও পুরুষের কাজ, যোগ্যতা এবং সামাজিক অবস্থান সম্পর্কে দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারণা অনেক সময় বৈষম্যের জন্ম দেয়। বিশেষ করে পরিবার ও সমাজে নারীর মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ সীমিত রাখা এবং নারীর জন্য নির্দিষ্ট কিছু ভূমিকা নির্ধারণ করে দেওয়ার প্রবণতা সমতা প্রতিষ্ঠার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়।

তাঁরা মনে করেন, এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে ছোটবেলা থেকেই পরিবারে সমতার চর্চা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং সামাজিক পর্যায়ে ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলা প্রয়োজন। একই সঙ্গে নারীর অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

সভায় নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে তরুণদের সম্পৃক্ত করার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, তরুণ সমাজ সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়া, বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া এবং মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। এ ক্ষেত্রে সামাজিক সংগঠনগুলোর উদ্যোগ স্থানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতেও সহায়ক হতে পারে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ‘SHOMOTAY TARUNNO PROJECT’-এর আওতায় পরিচালিত কমিউনিটি অ্যাকশন কার্যক্রম টুঙ্গিপাড়ায় জেন্ডার সমতা ও নারীর নিরাপত্তা নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি তরুণদের নেতৃত্বে স্থানীয় পর্যায়ে বৈষম্যবিরোধী উদ্যোগ আরও বিস্তৃত হবে।

নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ এবং নারী-পুরুষের সমান মর্যাদা প্রতিষ্ঠা কেবল কোনো একটি সংগঠন বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়। এ জন্য পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। সম্মিলিতভাবে কাজ করার মাধ্যমেই একটি সমতাভিত্তিক, নিরাপদ ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম হতে পারে।