গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় জন্মনিবন্ধন সংশোধন ও ইংরেজি সংস্করণ তৈরির সেবা নিতে গিয়ে নানা জটিলতার মুখে পড়ার অভিযোগ করেছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়া, জাতীয় পরিচয়পত্র সত্যায়ন এবং জন্মতারিখ সংশোধনে অনুমতি নেওয়ার শর্ত ঘিরে তাঁদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাওসার আহমেদের ভূমিকা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নের জন্মনিবন্ধনসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল কর্মকর্তার কাছে আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। বিশেষ করে আগে থেকে নিবন্ধিত জন্মসনদে ইংরেজি তথ্য যুক্ত করা কিংবা ভুল জন্মতারিখ সংশোধনের মতো কাজেও তাঁদের একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে যেতে হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা।
সেবাগ্রহীতাদের কয়েকজন জানান, জন্মনিবন্ধনের বাংলা তথ্য সঠিক থাকা সত্ত্বেও ইংরেজি সংস্করণ তৈরির জন্য আবেদন করতে গেলে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হচ্ছে। পরিচয়পত্রে থাকা তথ্যের সঙ্গে আবেদনকারীর তথ্যের মিল থাকলেও এই শর্ত পূরণ করতে গিয়ে অতিরিক্ত সময় ও অর্থ ব্যয় হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
এক অভিভাবক জানান, তাঁর সন্তানের জন্মনিবন্ধন আগে থেকেই রয়েছে। সেটিতে ইংরেজি তথ্য যুক্ত করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে যোগাযোগ করলে তাঁকে সত্যায়িত কপি জমা দিতে বলা হয়। তাঁর প্রশ্ন, প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও সঠিক তথ্য থাকার পরও অতিরিক্ত আনুষ্ঠানিকতার কারণে কেন সেবা পেতে বিলম্ব হবে?
শুধু ইংরেজি সংস্করণ নয়, জন্মনিবন্ধনের সাধারণ কাজ এবং তথ্য সংশোধন নিয়েও ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো আবেদন নিষ্পত্তি হতে প্রায় দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগছে বলে দাবি করেছেন সেবাগ্রহীতারা। জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন নিয়ে একজনকে প্রায় পাঁচ দিন উপজেলা কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের আরও দাবি, জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন গ্রহণের আগে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাওসার আহমেদের অনুমতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মতে, এ ধরনের প্রক্রিয়ায় আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত ধাপ তৈরি হওয়ায় কাজের গতি কমছে এবং সাধারণ মানুষকে বারবার অফিসে যেতে হচ্ছে।
কয়েকজন সেবাগ্রহীতা জানান, ফোনে সমস্যার কথা জানালেও তাঁদের উপজেলা কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়। পরে সেখানে গিয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের। কারও কারও দাবি, একাধিকবার যোগাযোগের পরও কয়েক সপ্তাহ ধরে তাঁদের কাজ সম্পন্ন হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে জন্মনিবন্ধন সেবার নির্ধারিত প্রক্রিয়া, আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। তাঁদের প্রশ্ন, আবেদন জমা দেওয়ার পর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য কত সময় লাগার কথা এবং কোন ধরনের সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অনুমোদন প্রয়োজন, তা সেবাগ্রহীতাদের আগেই জানানো হচ্ছে কি না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা কাওসার আহমেদের বক্তব্য, জন্মনিবন্ধনের আবেদন জমা দেওয়ার সময় সত্যায়িত কাগজপত্র দিতে হবে। পাশাপাশি জন্মতারিখ সংশোধনের আবেদন করতে হলে তাঁর অনুমতি নিতে হবে বলেও তিনি জানান।
তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা, প্রযোজ্য বিধিমালা এবং আবেদন নিষ্পত্তিতে বিলম্বের কারণ যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন মহল। সত্যায়নের শর্ত ও অনুমোদন প্রক্রিয়া বিধিসম্মত কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নিয়ম পর্যালোচনা জরুরি।
ভুক্তভোগীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ঊর্ধ্বতন প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাঁদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখে জন্মনিবন্ধন সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করা হোক।
এক সেবাগ্রহীতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “জন্ম নেওয়ার চেয়ে জন্মনিবন্ধন করতে গিয়ে বেশি কষ্ট হচ্ছে।”
সাধারণ মানুষের গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা হিসেবে জন্মনিবন্ধন কার্যক্রমে অপ্রয়োজনীয় বিলম্ব ও হয়রানির অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি চান ভুক্তভোগীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই করে প্রযোজ্য বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে এবং সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া আরও জনবান্ধব করবে।