পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার শ্রীরামকাঠি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের নৈলতলা–পাগলবাড়ী এলাকায় দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘবে এক প্রশংসনীয় ও অনুকরণীয় উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট মোঃ ইসমাইল শেখের ব্যক্তিগত উদ্যোগ, এলাকাবাসীর স্বতঃস্ফূর্ত সহযোগিতা এবং ২০১০ সালের এসএসসি ব্যাচের আর্থিক অনুদানে নির্মিত হয়েছে প্রায় ৮০০ ফুট দীর্ঘ গ্রামীণ রাস্তা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে এই কাঁচা রাস্তাটি কর্দমাক্ত ও চলাচলের চরম অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও রোগীদের যাতায়াতে পোহাতে হতো সীমাহীন দুর্ভোগ। এলাকাবাসীর এই দীর্ঘদিনের কষ্ট দূর করতে এগিয়ে আসেন মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট মোঃ ইসমাইল শেখ। তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টা ও উদ্দীপনায় রাস্তাটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
এই জনকল্যাণমূলক কাজে শুধু ইসমাইল শেখই নন, এলাকার সাধারণ মানুষও নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ, শারীরিক শ্রম ও সময় দিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন। পাশাপাশি ইসমাইল শেখের ২০১০ সালের এসএসসি ব্যাচের বন্ধুরা আর্থিক অনুদান ও মানসিক উৎসাহ দিয়ে এই উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। সবার যৌথ প্রচেষ্টায় অবসান ঘটে গ্রামের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যার।
এ বিষয়ে ২০১০ সালের এসএসসি ব্যাচের বন্ধুরা জানান, “বন্ধুত্ব শুধু পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন কিংবা আড্ডায় সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের প্রয়োজনে ও সামাজিক সংকটে পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত বন্ধুত্বের প্রকাশ। ইসমাইল শেখের এই উদ্যোগে শরিক হতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
এলাকাবাসীর মতে, একটি পথ শুধু চলাচলের মাধ্যম নয়, বরং তা এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের প্রতীক। নৈলতলা–পাগলবাড়ী এলাকার সার্বিক চিত্রে পরিবর্তন আনায় স্থানীয়রা মোঃ ইসমাইল শেখ, তাঁর বন্ধু মহলে এবং শ্রম ও অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করা সকল মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও শুভকামনা জানিয়েছেন।
মানবিকতা, প্রীতি ও সামাজিক দায়বদ্ধতার এমন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত দেশের প্রতিটি প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ুক—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় বাসিন্দাদের।