পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় স্বেচ্ছায় কবরস্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করলেন অর্ধ শতাধিক তরুণ যুবক। ভাঙ্গুড়া পৌরসভার চৌবাড়ীয়া কলেজ পাড়া যুব সমাজের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিছন্নতার কার্যক্রম করা হয়েছে।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে ভাঙ্গুড়া পৌরসভার মন্ডল মোড়ে অবস্থিত চৌবাড়ীয়া সওদাগর পাড়া জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে এ পরিষ্কার-পরিছন্নতা অভিযান পরিচালিত হয়। কয়েক মাস পরপরই স্থানীয় যুবকরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে কবরস্থান পরিষ্কার অভিযানে অংশ নেন।
সপ্তাহজুড়ে কেউ ব্যস্ত স্কুল-কলেজে, কেউ চাকরিতে, আবার কেউ ব্যবসায়। কিন্তু মাঝে মধ্যেই বদলে যায় দৃশ্যপট। দা, কোদাল, ঝাড়ু আর আগাছা পরিষ্কারের সরঞ্জাম হাতে নিয়ে কিশোর ও যুবকরা একত্রিত হন এই কবরস্থান পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে। কয়েক ঘণ্টার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগাছায় ঢেকে থাকা কবরস্থান ফিরে পায় তার হারানো সৌন্দর্য ও সম্মান। কারণ এখানে শায়িত আছেন তাদের বাবা-মা, দাদা-দাদী, নানা-নানীসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও প্রিয়জন।
ভাঙ্গুড়া পৌরসভার চৌবাড়ীয়া কলেজ পাড়া এলাকার আতিকুর রহমান আতিক, তানভীর ইসলাম, রাতুল, রাব্বি, মারুফ হোসেন, রহিত, আমানুল্লাহসহ স্থানীয় অর্ধ শতাধিক যুবক পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেন। কবরস্থান তাদের শেষ গন্তব্য মনে করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেন তারা। স্থানীয়রা এ ধরনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ভবিষ্যতেও এমন কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন।
তানভীর ইসলাম নামের এক যুবক বলেন, আমরা চাই গ্রামের তরুণরা ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকুক। আমাদের পূর্ব পুরুষরা এই কবরস্থানে শায়িত আছেন। তাই এটি পরিষ্কার রাখা আমাদের দায়িত্ব। পাশাপাশি ছোটদের মধ্যেও সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তুলতে আমরা সবাই একসাথে কাজ করছি।
কবি, সাংবাদিক ও সমাজকর্মী এস এম নাহিদ হাসান বলেন, ইসলামে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকে ঈমানের অংশ বলা হয়েছে। বর্তমানে তরুণদের এমন উদ্যোগ খুব কম দেখা যায়। তরুণদের এমন ইতিবাচক কর্মকাণ্ড সমাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা শুধু পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে না, বরং সমাজে মানবিক মূল্যবোধও ছড়িয়ে দিচ্ছে। তরুণদের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার।