গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে স্থানীয় আধিপত্য ও একটি মসজিদের সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ অন্তত ১৭ জন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার খলিশাখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এডভোকেট মওলা ও গোরা খাঁর অনুসারীদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে মসজিদের সভাপতি নির্বাচন নিয়ে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।

গোরা খাঁ পক্ষের দাবি, মওলা পক্ষের লোকজন অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানোর পর সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় তাদের পক্ষের ১৩ জন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

অপরদিকে মওলা পক্ষের চারজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে মওলা পক্ষের কোনো প্রতিনিধির বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে সানজিদা খানম, আলেয়া বেগম, সবুর খান, ওবায়দুল খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা লিয়াকত আলী খান, রানা খান, শাকিল খান, লিখন খান, মস্ত খান ও রাজ্জাক খান রয়েছেন। এছাড়া আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় এবং চারজনকে গোপালগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

কাশিয়ানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান জানান, সংঘর্ষের পর বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে পুনরায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে না ঘটে, সেজন্য এলাকায় পুলিশের নজরদারি ও সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।