সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে আইনগত জ্ঞান, পেশাগত নৈতিকতা ও তথ্যের সত্যতা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মো. খায়রুল আলম রফিক। তিনি বলেছেন, সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে আইনি জটিলতা এড়াতে সাংবাদিকদের সংশ্লিষ্ট আইন সম্পর্কে ধারণা রাখার পাশাপাশি তথ্য ও প্রমাণ যাচাই করতে হবে। মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও যাচাইবিহীন তথ্য প্রকাশ থেকে বিরত থাকতে হবে।
কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদ মিলনায়তনে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ-কুড়িগ্রাম জেলা শাখার পরিচিতি পর্ব, প্রশিক্ষণ ও আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মো. খায়রুল আলম রফিক বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন সাংবাদিকের আইন সম্পর্কে প্রয়োজনীয় জ্ঞান থাকা জরুরি। কোনো অভিযোগ বা ঘটনা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য-প্রমাণ যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া উচিত। এতে সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে। একই সঙ্গে পুলিশ ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পেশাগত সহযোগিতা ও সমন্বয় বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনের প্রতিও দায়িত্বশীল হতে হবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত প্রশিক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তথ্য কর্মকর্তা সাংবাদিকদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি সাংবাদিকদের মাদক থেকে দূরে থাকা, ব্যক্তিগত ও পেশাগত জীবনে শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত বিরোধ বা কারও ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে ভুল ও মনগড়া তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন।
সভায় বক্তারা বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। এ পেশার সঙ্গে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব জড়িত। তাই সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্যের সত্যতা যাচাই, প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ, ব্যক্তিগত গোপনীয়তার প্রতি সম্মান এবং পেশাগত নৈতিকতা অনুসরণ করা অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানে কুড়িগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি (পিপিএম), মো. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন, মোহাম্মদ আলী আবির ও সিয়াম রশিদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথি ও সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম সানু।
সভায় জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিক, সম্পাদক ও সংবাদকর্মীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে সাংবাদিকদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, আইনগত সচেতনতা এবং সত্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।