গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে ছাত্রীদের সঙ্গে অসদাচরণ, অশোভন প্রস্তাব এবং অনাকাঙ্ক্ষিত শারীরিক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের পর অভিযুক্ত শিক্ষক ফারুকুজ্জামানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা। খবর পেয়ে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দিদারুল আলম সেখানে উপস্থিত হন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অভিযোগ ও দাবিগুলো শোনেন।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক ফারুকুজ্জামান তাদের সঙ্গে আপত্তিকর মন্তব্য ও প্রস্তাব দিতেন। পাশাপাশি অসৎ উদ্দেশ্যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে স্পর্শ করার অভিযোগও করেছেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বিষয়টি নিয়ে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অষ্টম শ্রেণিসহ বিভিন্ন শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিলকিস খানমের কাছে অভিযোগ করে। তাদের অভিযোগ, তখন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে না নিয়ে তাদের শান্ত করার চেষ্টা করা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে পরদিন মঙ্গলবার তারা আবারও বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের পদত্যাগের দাবি জানায়।
শিক্ষার্থীদের আরও দাবি, এ ধরনের আচরণ নিয়ে এর আগেও অভিযোগ উঠেছিল। সে সময় বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক এসএম সেলিমুজ্জামান অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়ার পাশাপাশি সতর্ক করেছিলেন।
পরিস্থিতি জানতে বিদ্যালয়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের বক্তব্য শোনেন ইউএনও মো. দিদারুল আলম। পরে অভিযোগ তদন্তে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম তালুকদারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ইউএনওর কাছে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি অভিযোগ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে শিক্ষক ফারুকুজ্জামান ফোনে বলেন, বিষয়টি গতকালই সমাধান হয়েছে এবং নিজের ভুলের জন্য তিনি সবার কাছে ক্ষমা চেয়েছেন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।