সিরাজগঞ্জের, শাহজাদপুরে ,রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কিবরিয়ার বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের আর্থিক হিসাব-নিকাশে অনিয়ম এবং গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সড়িয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন বিদ্যালয়ের জমিদাতা পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

অভিযোগের ভিত্তিতে শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জানা গেছে, গত ৩১ আগস্ট—যা ছিল প্রধান শিক্ষক মো. গোলাম কিবরিয়ার চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস—তদন্ত কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে হিসাব-নিকাশ ও নথিপত্র পর্যালোচনা করেন। তবে তৎকালীন প্রধান শিক্ষক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও হিসাব জমা দেওয়ার জন্য ১০ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করেছেন।

অভিযোগকারীদের দাবি, বিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অসংগতি রয়েছে। পাশাপাশি অবসরে যাওয়ার সময় বা এর পরপরই প্রধান শিক্ষক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সাথে করে নিয়ে গেছেন।

বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. সাদিকুল ইসলাম জানান, শিক্ষক সভার সুযোগ নিয়ে গোলাম কিবরিয়া, তার ছেলে ও অন্য এক ব্যক্তির সহায়তায় বিদ্যালয়ের নথিপত্র নিয়ে গেছেন বলে তারা জানতে পেরেছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম জানান, “অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। হিসাব-নিকাশ দাখিলের জন্য তিনি ১০ দিন সময় নিয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক হিসাব বুঝিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত তাকে দায়িত্ব থেকে চূড়ান্ত ছাড়পত্র (অব্যাহতি) দেওয়া হয়নি।”

​তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, তিনি দ্রুতই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন। বিদ্যালয় থেকে কোনো নথি সরিয়ে নেওয়ার খবরটি সত্য নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

উল্লেখ্য, মো. গোলাম কিবরিয়া ২০১৩ সালে রতনকান্দি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন এবং গত ৩১ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে তার কর্মজীবন শেষ হয়।

প্রতিষ্ঠানপ্রধানের অবসরের সময়েই এমন অনিয়ম ও নথি গায়েবের অভিযোগে পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য প্রকাশের জোর দাবি জানিয়েছেন।