পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ২০ নম্বর পূর্ব দেবীডুবা-১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সিনিয়র সহকারী শিক্ষক হাসিনাতুজ্জাকিয়া বানু (বিউটি) দীর্ঘ কর্মজীবন শেষে অবসরে যাওয়ায় তাঁকে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ সংবর্ধনার আয়োজন করেন বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীরা। এতে বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোছাঃ মার্জিনা পারভীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ ওবায়দুর রহমান এবং সাবেক শিক্ষার্থী মোঃ রাব্বুল আলম, মোঃ রবিউল ইসলাম, মোঃ রশিদুল ইসলাম, মোঃ আব্দুর রশিদ প্রধান, মোঃ হামিদার রহমান, মোঃ দুলাল হোসেন, শ্রী জগদীশ চন্দ্র রায় ও হামিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি মোঃ আতাউর রহমান।

বক্তারা বলেন, শিক্ষক হাসিনাতুজ্জাকিয়া বানু দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদানের পাশাপাশি তাঁদের প্রতি আন্তরিকতা, শৃঙ্খলা ও স্নেহশীল আচরণের কারণে তিনি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে আলাদা সম্মান অর্জন করেছেন।

তাঁরা আরও বলেন, একজন শিক্ষকের কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি হলো শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা। হাসিনাতুজ্জাকিয়া বানুর বিদায় অনুষ্ঠানে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনের প্রতি মানুষের ভালোবাসারই প্রতিফলন।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিদায়ী শিক্ষককে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে সাবেক শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী প্রদান করা হয়।

প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে অনুষ্ঠানে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অনেক সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থী তাঁর সঙ্গে কাটানো বিভিন্ন স্মৃতির কথা তুলে ধরেন। এ সময় অনেকের চোখে ছিল বিদায়ের বেদনা ও প্রিয় শিক্ষকের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

বিদায়ী শিক্ষক হাসিনাতুজ্জাকিয়া বানু (বিউটি) তাঁর বক্তব্যে কর্মজীবনে সহকর্মী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাবেক শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতা ও ভালোবাসার কথা স্মরণ করেন। তিনি সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে অবসরজীবনের জন্য সবার দোয়া ও শুভকামনা কামনা করেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে অতিথি, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাবেক শিক্ষার্থীরা তাঁর সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু এবং অবসরজীবন সুখ-শান্তিতে কাটুক—এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।