টাঙ্গাইলের ধনবাড়ীতে ছয় বছর বয়সী ছেলেকে ফেরত পেতে বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্ত্রী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সৌদি আরবে অবস্থানকালে পাঠানো প্রায় ১৫ লাখ টাকা আত্মসাতেরও অভিযোগ করেছেন ওই ব্যক্তি।

এ ঘটনায় ধনবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার বাঁশনিয়োগী গ্রামের মোঃ আকাশ (৩১)। অভিযোগে তিনি তার শাশুড়ি মোছাঃ মিনা বেগম (৪৭), সাবেক স্ত্রী ইয়াসমীন (২৫) ও শ্যালক রহমত (মেহেদী)(২২)-কে অভিযুক্ত করেছেন।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর আগে ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক ইয়াসমীনের সঙ্গে আকাশের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে ইয়াছিন (৬) নামে এক ছেলে রয়েছে। প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে আকাশ সৌদি আরবে গিয়ে কাজ শুরু করেন। সেখানে অবস্থানকালে তিনি স্ত্রী ইয়াসমীনের কাছে বিকাশের মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ টাকা পাঠান বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন।

আকাশের দাবি, কাগজপত্র না থাকায় সৌদি আরবে পুলিশের হাতে আটক হয়ে ১৪ দিন জেলে থাকার সময় স্ত্রীকে বিষয়টি জানান। এরপর গত ২১ জুলাই ২০২৬ তারিখে তাকে তালাক দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ২৪ জুলাই দেশে ফিরে স্ত্রী, সন্তান ও শ্যালককে বাড়িতে দেখতে পাননি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেন।

অভিযোগে আরও বলা হয়, দেশে ফেরার পর ঢাকার একটি নিরাপত্তাকর্মীর মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ছেলেকে ফেরত দেওয়ার জন্য পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ সময় তাকে হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন আকাশ।

আকাশের অভিযোগ, তার স্ত্রী ও সন্তানকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না এবং শাশুড়ি ও শ্যালক বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে সন্তান ও পাঠানো টাকা উদ্ধারের বিষয়ে তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি দাবি করেন।

এ বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ধনবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেছেন অভিযোগকারী।

অভিযুক্ত শ্যালক রহমত (মেহেদী)(২২) বলেন আকাশ আমার বিরুদ্ধে যা যা অভিযোগ করেছে সকল কিছুই মিথ্যা মানুষ বিপদে পড়লে অনেক কিছুই বলতে পারে। সে আমাদেরকে টাকা পাঠিয়েছে তবে ১৫ লক্ষ টাকার কথা বলছে এতো টাকা পাঠায় নাই।

অভিযোগ শাশুড়ি মোছাঃ মিনা বেগম (৪৭) এর সাথে কথা বলতে গেলে সে সাংবাদিকদের কে দেখে দৌড়ে পালিয়ে যায়।