চিলমারীতে গভীর রাতে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় নারীর গর্ভস্খলন ও ঘর-বাড়িতে অগ্নিসংযোগের প্রতিবাদে ০৩/০৯/২০২৬ ইং বৃহস্পতিবার রমনা ইউনিয়নের নছদ্দির মোড়ে ন্যায় বিচারের দাবীতে এলাকাবাসী মানব বন্ধন করেছে। এসময় নির্যাতিত নারী ও তার স্বামী বিপ্লব এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে চিলমারী মডেল থানায় একাধিক অভিযোগ দাখিল করলেও পুলিশের ভুমিকা নিয়ে অভিযোগ করেছেন। বিপ্লব ও তার স্ত্রী আনু বেগম বলেন, থানায় আমাদের অভিযোগ না নিয়ে বারবার হয়রানী করাতে আদালতে যেতে বলেছেন। অপর দিকে তাদেরকে দীর্ঘ দিন ধরে অমানবিক উপায়ে ঘর-বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করার জন্য প্রতিপক্ষ শামীম, ছাইদুর ও তাদের সমর্থনকারীরা নানান নির্যাতন লুটপাট,ঘরে আগুন দেয়া এমনকি প্রাণনাশের পরিকল্পনা করে গভীর রাতে আমাদের উপর অত্যাচার চালিয়েছে। শুধুই তাতেই ক্ষান্ত হয়নি, সম্পূর্ণ মধ্যযুগীয় কায়দায় বিপ্লবের স্ত্রী আনুর তলেপেটে উপূর্যপূরী লাত্থিতে গর্ভপাতের মতো নিষ্ঠুরতম ঘটনাও ঘটেছে। মানব বন্ধনে বক্তরা বলেন, বিপ্লবের পরিবারের সাথে ঘটে যাওয়া অত্যাচারের বিরুদ্ধে পুলিশ একটি ঘটনাও আমলে না নিয়ে বরাবরই প্রতিপক্ষ প্রভাবশালীর পক্ষেই দাড়িয়েছেন।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বিপ্লব রাতে খাওয়া দাওয়া করে ১০ টার দিকে স্ত্রী ও ৫ বছরের ছেলেকে নিয়ে ঘরের বিছানায় শুয়ে পড়েন। রাত ২টা ৩০ মিনিটে বিপ্লব (হার্ট স্টোকের রোগী) হার্টের অসুখ ও ব্যাথায় অনুভব করায় তার স্ত্রী আনু বেগম তার মাথায় পানি ঢেলে সেবা করতে ছিলেন। রাত গভীরে মূখোস পরা কয়েকজন ঘরে প্রবেশ করে দূর্বৃত্তরা দেশীয় অস্ত্রের মুখে আনু (বিপ্লবের স্ত্রী)কে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। অসুস্থ বিপ্লবকে অস্ত্রের মুখে টেনে হেঁচড়ে ঘড় থেকে বের করে নিয়ে আসে। ঘড়ের বারান্দায় হাত, পা বেঁধে ফেলে, যাতে চিৎকার করতে না পারে সেজন্য মুখের ভিতর কাপড় দিয়ে বেঁধে সিঁড়ির সাথে বেঁধে রাখে। আনু (বিপ্লবের স্ত্রী) ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কে এলোপাথাড়ি লাথি ঘুসি দিয়ে বাহিরে নিয়ে আসে। অন্তঃসত্ত্বা আনুর তলপেটে লাথি ঘুসি লেগে রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী নুর আমিন (৫০), ফুলু (৫৬), জয়নালের স্ত্রী, নজরুল ইসলাম, মজনু সহ অনেকেই রাত ৩ টার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তারা ঘরের আগুন নেভাতে নলকুপ ও জমিতে থাকা পানি নিয়ে আগুনে ছিটাতে থাকলে এক সময আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। তারা হাত-পা ও মুখ বাধা অবস্থায় বিপ্লব ও তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে এবং হাত, পা, মুখের বাঁধন খুলে দেয়। স্থানীয়রা দ্রুত এগিয়ে আসতে শুর করলে দুষ্কৃতিকারীরা জমির ধান ক্ষেত দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যায়। পরে অসুস্থ আনু বেগমকে দ্রুত চিলমারী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনী বিভাগে ভর্তি করা হয় বলে জানা যায়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকগন আনু বেগমের পরীক্ষা নীরিক্ষা করে গর্ভপাতের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
মানব বন্ধনে দাবী করা হয় যে, এহেন মধ্যযুগীয় বর্বরতায় বিপ্লবের পরিবারকে প্রশাসন সহযোগিতা না করলে পরবর্তিতে এলাকাবাসী দূর্বার আন্দোরন গড়ে তুলবেন।