ময়মনসিংহের ভালুকা ও ত্রিশাল উপজেলায় তীব্র গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে এবং নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকরা। গতকাল সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে ভালুকায় এবং আজ বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকালে ত্রিশালে পর পর এই অবরোধের ঘটনা ঘটে। এতে মহাসড়কের উভয় পাশে শত শত যানবাহন আটকে পড়ে এবং যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।

ভালুকায় অবরোধ: ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে ভালুকা পৌর শহরের এসএনএস সিএনজি পাম্পের সামনে পর্যাপ্ত গ্যাস না পেয়ে চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তারা মহাসড়কের মাঝখানে সিএনজি আড়াআড়িভাবে দাঁড় করিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এর ফলে প্রায় আধা ঘণ্টা মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে।

ত্রিশালে বিক্ষোভ: ভালুকার রেশ কাটতে না কাটতেই ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত ত্রিশাল উপজেলার কাকচর রোডের মাথায় পুনরায় সড়ক অবরোধ করেন সিএনজি চালকেরা। চালকরা গাড়ি থামিয়ে অবস্থান নিলে মহাসড়কের পূর্ব পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।
সংকটের কারণ ও চালকদের ক্ষোভ
বিক্ষোভকারী চালকদের অভিযোগ, গত বেশ কিছুদিন ধরে ময়মনসিংহ অঞ্চলের সিএনজি স্টেশনগুলোতে গ্যাসের তীব্র চাপ (প্রেসার) সংকট চলছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও সিএনজিতে নামমাত্র গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, যা দিয়ে এক থেকে দুটি ট্রিপ মারার পরই গ্যাস শেষ হয়ে যায়।

এক বিক্ষুব্ধ চালক বলেন, একবার গ্যাস নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। পাম্পে গ্যাস থাকে না। গ্যাস না পেলে আমরা গাড়ির মালিকের দৈনিক জমা দেব কীভাবে আর পরিবারই বা চালাব কীভাবে? আমাদের এক বেলা খেয়ে অন্য বেলা না খেয়ে থাকতে হচ্ছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চালকদের বুঝিয়ে সড়ক থেকে সরিয়ে দেয় এবং যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

ভরাডোবা হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খোরশেদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানানভালুকা পৌর শহরের এসএনএস সিএনজি পাম্পে গ্যাস না পেয়ে সিএনজি চালকেরা ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করেছিলেন। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে মহাসড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।

ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাত ১০টার দিকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। ২০-২৫ জন চালক মহাসড়কের মাঝখানে গাড়ি রেখে অবরোধ তৈরি করেছিলেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সিএনজি সরিয়ে দিয়ে যান চলাচল সচল করি। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পাম্পটিতে গ্যাস শেষ হয়ে যাওয়ায় এই ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল ।

ত্রিশালের অবরোধ প্রসঙ্গে ত্রিশাল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. তালেব ও ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) সাইফুল ইসলাম জানান, সকালে কাকচর রোডের মাথায় চালকেরা কিছুক্ষণের জন্য যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিলেন। আমরা চালকদের বুঝিয়ে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছি এবং এখন রাস্তা পুরোপুরি ক্লিয়ার আছে।

মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি ও সরবরাহ ঘাটতির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে এই চাপ সংকট তৈরি হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন এলএনজি কার্গো আসার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই এই গ্যাস সংকট ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।