গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার পাটগাতি ইউনিয়নের বাঘিয়ার বিলে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাছ ধরার জাল উদ্ধার করেছে উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) পরিচালিত অভিযানে ৪৯টি চায়না দুয়ারী জাল জব্দ করা হয়। জব্দ করা জালের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ১ হাজার ২৫০ মিটার এবং বাজারমূল্য আনুমানিক ২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বিলে অবৈধ ও ক্ষতিকর জালের ব্যবহার বন্ধের পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ পরিবেশ রক্ষায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানের সময় বাঘিয়ার বিলের বিভিন্ন স্থান থেকে নিষিদ্ধ জালগুলো সংগ্রহ করা হয়।
পরে জব্দ করা সব জাল ঘটনাস্থলেই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ দিদারুল আলম। এ সময় টুঙ্গিপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা দেবাশীষ বাছাড় এবং পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মৎস্য বিভাগের সংশ্লিষ্টরা বলেন, চায়না দুয়ারী জালের ফাঁস অত্যন্ত ছোট হওয়ায় এতে বড় মাছের পাশাপাশি মাছের পোনা ও বিভিন্ন ধরনের জলজ প্রাণীও আটকা পড়ে। এর ফলে জলাশয়ে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি দেশীয় মাছের বৈচিত্র্যও হুমকির মুখে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে কিছু ব্যক্তি নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে বিল থেকে ছোট মাছ ও পোনা আহরণ করছেন। এতে ধীরে ধীরে দেশীয় মাছের উপস্থিতি কমে যাচ্ছে। মাছের প্রজনন ও জলজ পরিবেশের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে তারা নিয়মিত অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শুধু বাঘিয়ার বিল নয়, উপজেলার বিভিন্ন জলাশয়ে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করে মাছ শিকার বন্ধে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে মৎস্য আইন মেনে চলতে জেলে ও মাছ শিকারের সঙ্গে জড়িতদের সচেতন করা হচ্ছে।
প্রশাসনের এমন পদক্ষেপের ফলে বাঘিয়ার বিল ও আশপাশের জলাশয়ে ক্ষতিকর জালের ব্যবহার কমার পাশাপাশি দেশীয় মাছের প্রজনন ও জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।