ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্যান্টিনে চলন্ত অবস্থায় এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনায় দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাঁদের পাকশী রেলওয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে অধিকতর তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার দুপুর একটার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সান্তাহার রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুলাল উদ্দীন।

ওসি দুলাল উদ্দীন বলেন, ঘটনার সময় কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে দায়িত্বে থাকা চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পাকশী রেলওয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অধিকতর তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে, ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামগামী আন্তনগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের ক্যান্টিনে চলন্ত অবস্থায় ৪৪ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় ট্রেনের ক্যান্টিন বয় আবু বক্কর সিদ্দিককে (২২) গ্রেপ্তার করেছে সান্তাহার রেলওয়ে থানা-পুলিশ। তবে ঘটনার সঙ্গে দুই পুলিশ সদস্যসহ আরও কয়েকজন জড়িত থাকার অভিযোগ করেছেন ওই নারী।

সোমবার সকালে নাটোর এলাকায় চলন্ত ট্রেনে এ ঘটনা ঘটে। ট্রেনটি ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিল। মঙ্গলবার সকালে গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিককে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গ্রেপ্তার আবু বক্কর সিদ্দিক নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর গ্রামের মৃত মাসুদ রানার ছেলে।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে ওই নারী কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে ঢাকা থেকে কুড়িগ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, চলন্ত ট্রেনের ক্যান্টিনে নিয়ে তাঁকে আবু বক্কর সিদ্দিকসহ কয়েকজন ধর্ষণ করেন।

ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে ট্রেনের অন্য যাত্রীরা এগিয়ে আসেন। পরে তাঁরা আবু বক্কর সিদ্দিককে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী নিজেই বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। মামলায় মোট পাঁচজনকে আসামি করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তাঁদের মধ্যে দুই পুলিশ সদস্যের নামও উল্লেখ রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওসি দুলাল উদ্দীন বলেন, ভুক্তভোগী নারীর অভিযোগ অনুযায়ী ঘটনার সঙ্গে পুলিশ সদস্যও জড়িত থাকতে পারেন। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার পর আবু বক্কর সিদ্দিককে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য অভিযুক্তদের সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।

মিরু হাসান, বগুড়া প্রতিনিধি