ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে পঞ্চগড়ের সীমান্ত এলাকায় অবস্থানকালে চার রোহিঙ্গাকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার সকালে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মাগুরমারী সীমান্তের টিটিহিপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই রোহিঙ্গা দম্পতিকে আটক করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্যে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পঞ্চগড় সীমান্ত পর্যন্ত একটি মানবপাচারকারী চক্রের সংশ্লিষ্টতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
আটক চারজন হলেন—কক্সবাজারের ৭ নম্বর কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা এনায়েতুল্লাহ (২৩) ও তার স্ত্রী জাইনুব বিবি (২১)। অপর দম্পতি হলেন ১৫ নম্বর জামতলী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের এনামুল হাসান (২৩) ও তার স্ত্রী নুর কলিমা (২০)।
বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী টিটিহিপাড়া এলাকায় চারজনকে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে টহলরত বিজিবি সদস্যরা তাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এ সময় তাদের কথাবার্তা ও পরিচয় নিয়ে সন্দেহ হলে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তারা নিজেদের কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা বলে পরিচয় দেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানান, কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে একটি মানবপাচারকারী চক্র তাদের পঞ্চগড়ে নিয়ে আসে। এরপর সীমান্তপথে অবৈধভাবে ভারতে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল। তবে তাদের পঞ্চগড়ে কারা নিয়ে এসেছে, কার সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এবং সীমান্ত পার করে দেওয়ার পরিকল্পনায় কারা জড়িত—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনাটি শুধু চার রোহিঙ্গার আটকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং দেশের এক প্রান্তের শরণার্থী ক্যাম্প থেকে উত্তর সীমান্ত পর্যন্ত তাদের কীভাবে পৌঁছে দেওয়া হলো, সেই প্রশ্নও সামনে এসেছে। মানবপাচারকারী চক্রের রুট, সহযোগী ও স্থানীয় যোগাযোগকারীদের শনাক্ত করা গেলে এই নেটওয়ার্কের বিস্তৃত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আটকের পর বিজিবি চারজনকে পঞ্চগড় সদর থানায় হস্তান্তর করে। তাদের পরিচয়, সীমান্ত এলাকায় আসার উদ্দেশ্য এবং ভারতে যাওয়ার পরিকল্পনার সঙ্গে কারা জড়িত—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেসুর রহমান জানান, সীমান্ত এলাকা থেকে বিজিবি চার রোহিঙ্গাকে আটক করে থানায় দিয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।