কৃষকদের মধ্যে বালাইনাশকের নিরাপদ ও দায়িত্বশীল ব্যবহার প্রসার এবং কৃষিকাজে বালাইনাশকজনিত স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি কমাতে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রম পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। গত ১৬ থেকে ২০ আগস্ট ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় পাঁচ দিনব্যাপী এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। ক্যাবির সহযোগিতায় ‘বালাইনাশক ঝুঁকি হ্রাস-সামাজিক ও আচরণগত পরিবর্তনভিত্তিক যোগাযোগ মাঠ কার্যক্রম (পাইলট পর্যায়)’ শীর্ষক উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা হয়।

এতে ৩২টি কৃষক গ্রুপের ৬৪০ জন কৃষক অংশ নেন। প্রতিটি গ্রুপে প্রায় ২০ জন কৃষককে নিয়ে সরাসরি আলোচনা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পাশাপাশি আচরণ পরিবর্তনভিত্তিক যোগাযোগ কার্যক্রমও চালানো হয়। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রসারণ কেন্দ্রের সহায়তায় কার্যক্রমটি বাস্তবায়িত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ এর সমন্বয় করেন।

জানা যায়, মাঠ পর্যায়ের আলোচনায় বালাইনাশক ব্যবহারের সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত ও পরিবেশগত ঝুঁকি, নিরাপদ বালাই ব্যবস্থাপনা এবং ঝুঁকি কমানোর বাস্তবসম্মত কৌশল তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি কম ঝুঁকিপূর্ণ উদ্ভিদ সুরক্ষা পণ্য ব্যবহার, সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা (আইপিএম) এবং নিরাপদ বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বালাইনাশকের ওপর নির্ভরতা কমানোও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য ছিল।

কার্যক্রমে কৃষকেরা তাঁদের দৈনন্দিন বালাইনাশক ব্যবহারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ সময় বালাইনাশক প্রয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিকূলতা, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ এবং নিরাপদ পদ্ধতি গ্রহণে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি সরাসরি কথোপকথন ও অংশগ্রহণমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে কোন ধরনের বার্তা ও যোগাযোগ পদ্ধতি বেশি গ্রহণযোগ্য, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হয়।

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, এই পাইলট উদ্যোগের লক্ষ্য কেবল তথ্য দেওয়া নয়; নিরাপদ কৃষি অনুশীলনে কৃষকদের মধ্যে স্থায়ী আচরণগত পরিবর্তন আনা। মাঠ থেকে পাওয়া প্রতিক্রিয়া ও অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে কার্যক্রমকে আরও কৌশলগত ও কৃষকবান্ধব করে তুলতে সহায়ক হবে।

পাইলট কার্যক্রমে ৩২টি গ্রুপের ৬৪০ জন কৃষকের সরাসরি অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদ বালাইনাশক ব্যবহার ও টেকসই বালাই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে কৃষকদের অভিজ্ঞতা, ঝুঁকিবোধ এবং আচরণগত প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্য ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে কৃষককেন্দ্রিক আচরণ পরিবর্তনমূলক যোগাযোগ কার্যক্রম পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে কাজে লাগবে।