জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌরসভার মার্কাজ মসজিদ সংলগ্ন গুলশান মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি হোটেলসহ আটটি দোকান ও দোকানে থাকা মালামাল পুড়ে গেছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছে ফায়ার সার্ভিস। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের দাবি, আগুনে প্রায় ১ থেকে দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।
রোববার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টা ১০ মিনিটের দিকে গুলশান মার্কেটের ইমন স্টোর নামের একটি মুদিখানা দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে বকশীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। এ সময় বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন, বকশীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় রাত আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে—হোটেল জমজম, ভাই ভাই বেডিং হাউজ ও তুলার দোকান, ইমন স্টোর, জহির বেডিং স্টোর, মুসলিম ভ্যারাইটিজ প্লাস্টিক স্টোর, ইমন স্টোর গোডাউন, হাসান ফল ভান্ডার এবং হুসাইন দই-চিড়া ঘর।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী রিপন মোদক জানান, আগুনে দোকানের মালামাল ও আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র পুড়ে গেছে। এতে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
বকশীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন অফিসার আব্দুল কুদ্দুস বলেন, “আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট কাজ করেছে। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা চালানোর পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। এ ঘটনায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।”
বকশীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরাদ হোসেন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে। সরকারি পক্ষ থেকে সহযোগিতা করার যে সুযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দিকনির্দেশনা রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বিষয়টি অবগত রয়েছেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাব ও ব্যবসায়ীদের দাবিতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণে পার্থক্য রয়েছে। চূড়ান্তভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের পর প্রকৃত হিসাব জানা যাবে।
আব্দুল আওয়াল, জামালপুর জেলা প্রতিনিধি