তাকওয়া, নৈতিকতা ও মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবনাদর্শ অনুসরণের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল, ন্যায়ভিত্তিক ও নৈতিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী চিন্তাবিদ ও আলেমরা।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতীস্থ শাহ্ মনজিল সীরাত ময়দানে অনুষ্ঠিত ১৯ দিনব্যাপী চুনতীর ৫৬তম আন্তর্জাতিক মাহফিলে সীরাতুন্নবী (সা.)-এর ষষ্ঠ দিনের আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

রোববার (৩০ আগস্ট) যুগশ্রেষ্ঠ আলেম হযরত মাওলানা হাফেজ আহমদ প্রকাশ শাহ্ সাহেব কেবলা চুনতী (রহ.) প্রবর্তিত এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলহাজ্ব মাওলানা মুনিরুল মন্নান কুতুবী। সঞ্চালনা করেন চুনতী হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফারুক হোসাইন।

অনুষ্ঠানে ‘তাকওয়ার পরিচয় ও মানবজীবনে এর অপরিহার্যতা’ বিষয়ে আলোচনা করেন ন্যাশনাল ইংলিশ স্কুলের অধ্যক্ষ মাওলানা আসাদুল্লাহ আদিল। তিনি বলেন, তাকওয়া মানুষের আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য নির্ণয়ের শক্তি জোগায়। আল্লাহভীতি ও কর্মের জবাবদিহির অনুভূতি ব্যক্তি ও সমাজজীবনে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

‘নৈতিক অবক্ষয় রোধে রাসূল (সা.)-এর সীরতের শিক্ষা’ বিষয়ে বক্তব্য দেন পতেঙ্গা ইসলামিয়া ফাযিল মাদ্রাসার সাবেক অধ্যাপক আলহাজ্ব মাওলানা মাহমুদুল হাসান। তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর চরিত্র ও জীবনব্যবস্থা মানবজাতির জন্য সর্বোত্তম আদর্শ। তাঁর শিক্ষা অনুসরণ করা গেলে সমাজ থেকে অন্যায়, অনাচার ও নৈতিক অবক্ষয় কমিয়ে আনা সম্ভব।

চুনতী হাকিমিয়া কামিল মাদ্রাসার সিনিয়র শিক্ষক আলহাজ্ব মাওলানা মুহাম্মদ জিয়াউল করিম ‘পোশাক-পরিচ্ছদ ও সাজ-সজ্জায় ইসলামের দিকনির্দেশনা’ বিষয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ইসলাম পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যকে গুরুত্ব দিলেও পোশাক ও সাজসজ্জার ক্ষেত্রে শালীনতা, সংযম এবং ধর্মীয় বিধিবিধান অনুসরণ করা প্রয়োজন।

‘সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় রাসূল (সা.)-এর অবদান’ বিষয়ে বক্তব্য দেন ঢাকার মারকাযুন নাহদা ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব মাওলানা এনামুল হক আযাদী। তিনি বলেন, মহানবী (সা.) তাঁর কর্ম ও আদর্শের মাধ্যমে ন্যায়বিচার, সাম্য এবং মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখে গেছেন। তাঁর ন্যায়নীতির অনুসরণ সমাজে বৈষম্য কমিয়ে শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হতে পারে।

মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মোতাওয়াল্লী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহজাদা মাওলানা আব্দুল মালেক মুহাম্মদ ইবনে দিনার নাজাত, মোতাওয়াল্লী কমিটির সদস্য আলহাজ্ব আবু তাহের ও আলহাজ্ব ইসমাইল মানিক, শাহজাদা তৈয়বুল হক বেদারসহ মাহফিলের বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মুহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম ও আবু রায়হান ছৈয়দ। পরে না’আতে রাসূল (সা.) পরিবেশন করেন মুহাম্মদ জমির আল হোসাইন ও মুহাম্মদ ওয়াহিদুল্লাহ ওয়াহিদ।

সদরে মাহফিলের বক্তব্য, মিলাদ ও বিশেষ মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সীরাতুন্নবী (সা.)-এর ষষ্ঠ দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।

প্রতিনিধি: কাউছার আলম