কৃষি বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তর, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং তরুণদের নেতৃত্বে টেকসই সবুজ উদ্যোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যে রংপুরের কাউনিয়ায় ‘ব্যানকোটা—কলাগাছের বর্জ্য থেকে চক্রাকার সবুজ উদ্যোগ’ প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) কাউনিয়া উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রীন পিস ইয়ুথ নেটওয়ার্কের বাস্তবায়নে প্রকল্পটি আন্তর্জাতিক জলবায়ু পরিবর্তন ও উন্নয়ন কেন্দ্রের (আইসিসিসিএডি) যুব উদ্ভাবনী তহবিল-২০২৬-এর সহায়তায় পরিচালিত হচ্ছে। সভায় গ্রীন পিস ইয়ুথ নেটওয়ার্ক ও ব্যানকোটা প্রকল্পের ৩৫ জন সদস্য অংশ নেন।

সভায় প্রকল্পের আগামী ছয় মাসের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা, কার্যক্রমের সময়সূচি, দায়িত্ব বণ্টন, দলীয় সমন্বয়, প্রয়োজনীয় সম্পদ ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংরক্ষণ, কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিবেদন তৈরিসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো কলা চাষের পর পড়ে থাকা কলাগাছের অবশিষ্টাংশকে কৃষি বর্জ্য হিসেবে ফেলে না রেখে তা থেকে মূল্য সংযোজিত পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরি করা। চক্রাকার অর্থনীতির মডেলে কলাগাছের বর্জ্য থেকে আঁশ, হস্তশিল্পসহ বিভিন্ন পণ্য এবং জৈব সার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় কলাচাষীদের নিয়ে কাঁচামাল সংগ্রহের একটি সংগঠিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা, গ্রামীণ নারীদের দল গঠন ও দক্ষতা উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যবস্থা স্থাপন, পণ্যের গবেষণা ও উন্নয়ন, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ, বাজার সংযোগ এবং পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির পরিকল্পনা রয়েছে।

সভায় বক্তারা বলেন, কৃষি বর্জ্য সঠিকভাবে ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একদিকে পরিবেশের ওপর চাপ কমানো সম্ভব, অন্যদিকে বর্জ্যকে কাজে লাগিয়ে নতুন অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করা যায়। ‘ব্যানকোটা’ প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষক, নারী ও তরুণদের একটি সমন্বিত সবুজ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আয়োজকরা জানান, প্রকল্পটি শুধু পণ্য উৎপাদনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কৃষি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, তরুণদের নেতৃত্ব, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং পরিবেশ সুরক্ষাকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়াই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

বাস্তবায়ন পরিকল্পনা সভার মাধ্যমে আগামী ছয় মাসের কার্যক্রম পরিচালনায় দলের সদস্যদের দায়িত্ব ও সমন্বয় কাঠামো নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে সংরক্ষণ, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, পরিকল্পিত কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে কলাগাছের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি স্থানীয় কৃষক, নারী ও তরুণদের জন্য নতুন ও টেকসই আয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে। একই সঙ্গে কাউনিয়ায় কৃষি বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরের একটি কার্যকর চক্রাকার সবুজ অর্থনীতির মডেল গড়ে উঠবে।