কৃত্রিম সার সংকট ঠেকাতে ঈশ্বরগঞ্জে অভিযান, জেল-জরিমানা ২ ব্যবসায়ীর।

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার উচাখিলা বাজারে অবৈধভাবে সার মজুদের অভিযোগে এক ব্যবসায়ীকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই অভিযানে বৈধ কাগজপত্র দেখাতে না পারায় অপর এক সার ব্যবসায়ীকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে গোয়েন্দা সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে উচাখিলা বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান পরিচালনা করেন ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান।

অভিযানকালে খুচরা সার বিক্রেতা নুর এ আলমের গোডাউন থেকে বিভিন্ন ধরনের ৬৩৬ বস্তা সার জব্দ করা হয়। এর মধ্যে ৩৯১ বস্তা ইউরিয়া, ১৬০ বস্তা ডিএপি এবং ৮৫ বস্তা এমওপি সার রয়েছে।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, অবৈধভাবে সার মজুদের অপরাধে সার (ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০০৬-এর ১২ ধারায় উচাখিলা ইউনিয়নের ভাই ভাই ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ফজলুল হকের ছেলে নুর এ আলমকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এদিকে একই বাজারের খুচরা সার ব্যবসায়ী শ্যামল চন্দ্র সাহা বৈধ কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হওয়ায় একই আইনে তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

জব্দ করা ৬৩৬ বস্তা সার পরে উচাখিলা ইউনিয়নের মূল সার ডিলার শামছুল হকের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়।

অভিযানকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রিপা রাণী চৌহান অপরাধের বিষয়টি ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে উপস্থাপন করেন এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে সহযোগিতা করেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা রহমান বলেন, কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত মূল্যে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। অবৈধভাবে সার মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি কিংবা বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ব্যবসা পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের স্বার্থে এ ধরনের অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।