৪৫তম বিসিএসে কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন দেখছিলেন মীর তানভীর আহমেদ (২৯)। কিন্তু সেই স্বপ্ন নিমেষেই চুরমার হয়ে গেছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) রাতে উপজেলার বোড়াগাড়ী নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় রেললাইন থেকে গলাকাটা ও খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধারে করা হয়, পরে মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) সকালে ঘটনাস্থলের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে তাঁর বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়। ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি নিছক কোনো ট্রেন দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো রহস্য?
নিহত মীর তানভীর আহমেদ মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার ভদ্রাসন ইউনিয়নের ডিগ্রিরচর এলাকার মীর বজলুর রশিদের ছেলে। পরিবারের দ্বিতীয় এই মেধাবী সন্তান দেবীগঞ্জ কৃষি ফার্মের গম গবেষণা কেন্দ্রের খামার ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ৪৫তম বিসিএসে কৃষি কর্মকর্তা পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হন এবং বর্তমান চাকরি থেকে পদত্যাগ করে নতুন ক্যাডার পদে যোগদানের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
কিন্তু গত সোমবার রাতে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের শিমুলতলী সংলগ্ন রেলগেট এলাকা থেকে তাঁর গলা থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। পরদিন সকালে পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে উদ্ধার করা হয় তাঁর বিচ্ছিন্ন মাথা।
মরদেহের এমন বীভৎস অবস্থা দেখে পরিবারের মনে তীব্র সন্দেহ দানা বেঁধেছে। তানভীরের বাবা মীর বজলুর রশিদ দাবি করেছেন, দিনাজপুরে কর্মরত থাকাকালীন কিছু দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ছেলের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। সেই বিরোধের জেরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এছাড়া তানভীরের মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ তার অফিসেই পাওয়া যাওয়ায় এই সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
এদিকে সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং সিআইডির ফিঙ্গারপ্রিন্ট পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিজ বাড়িতে জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশ ও মানুষের সেবা করার যে স্বপ্ন তানভীর দেখেছিলেন, তা আজ এক বুক কান্নায় রূপ নিয়েছে। পরিবার ও এলাকাবাসী এই মর্মান্তিক মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। এটি কি আসলেই দুর্ঘটনা, নাকি কোনো গভীর ষড়যন্ত্র—তার উত্তর মিলবে পুলিশি তদন্ত শেষেই।