কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য রেহানা খাতুনকে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও সমালোচনা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে আবেদনে নিজের পেশা ‘গৃহিণী’ উল্লেখ করায় বিষয়টি নিয়ে আরও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের কাজে সরকারি ও আধা-সরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত বেতনভুক্ত ব্যক্তিদের অযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হলে একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কীভাবে তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন—এ প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
সরকারের ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় সুপারভাইজার ও তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের আবেদন ও পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর রেহানা খাতুনের নাম তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে প্রকাশ পায়। এতে স্থানীয়দের মধ্যে নিয়োগের যোগ্যতা ও স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়োগে দলীয়করণ ও সুপারিশের অভিযোগও উঠেছে। তবে নিয়োগ কমিটির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য উপজেলায় মোবাইল নম্বরসহ নিয়োগের ফলাফল প্রকাশ করা হলেও ভূরুঙ্গামারীতে মোবাইল নম্বর ছাড়া ফলাফল প্রকাশ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ।
রেহানা খাতুন বলেন, সমাজসেবা অফিসে কাজের জন্য গেলে তিনি ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী নিয়োগের বিষয়ে জানতে পারেন। পরে একটি কম্পিউটার দোকান থেকে আবেদনপত্র নিয়ে আবেদন করেন। সেখানে পেশা হিসেবে ‘গৃহিণী’ উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষার মেসেজ পাওয়ার পর পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষায় চারটি প্রশ্নের উত্তর দিতে বলা হলে তিনি সঠিক উত্তর দেন। পরে ১৪ অক্টোবর ফলাফল দেখে নিজের নাম দেখতে পান। রেহানা খাতুন জানান, ইউপি সদস্য হিসেবে তিনি মাসে ৩ হাজার ৫০০ টাকা সম্মানী পান এবং তার স্বামী আবু সাঈদ অসুস্থ হওয়ায় তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে হয়।
নিজেকে ঘিরে সমালোচনার বিষয়ে রেহানা খাতুন বলেন, “একজন নাগরিক হিসেবে সরকারকে সহযোগিতা করতে পারি। তবে আইন বা নীতিমালা অনুযায়ী এটি সঠিক না হলে কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নিলে আমার কোনো সমস্যা নেই।”
নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ শামছুজ্জামান বলেন, “আবেদনে যদি ইউপি সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হতো, তাহলে বিষয়টি সহজ হতো। এ বিষয়ে সভাপতি ও ইউএনওর সঙ্গে কথা না বলে আমি কিছু বলতে পারব না।”
নিয়োগ কমিটির সভাপতি ও ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেব নাথ বলেন, যারা এ কার্যক্রমের আওতায় কাজ করতে পারবেন না, রেহানা খাতুন যদি নীতিমালায় উল্লেখিত সেই শ্রেণির মধ্যে পড়ে থাকেন, তাহলে বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলীয় ব্যক্তি বা সুপারিশপ্রাপ্তদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ প্রসঙ্গে ইউএনও বলেন, সঠিকভাবে পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
অন্য উপজেলায় মোবাইল নম্বরসহ ফলাফল প্রকাশের বিষয়ে তিনি বলেন, “একেকজন একেক ফরম্যাটে ফলাফল প্রকাশ করেছেন। তবে মোবাইল নম্বর ছাড়া প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রার্থীর যোগ্যতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা জরুরি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা স্থানীয় পর্যায়ে
উপকারভোগীর তালিকা যাচাই ও তদারকির সঙ্গে যুক্ত থাকলে একই ব্যক্তি সরাসরি তথ্য সংগ্রহের দায়িত্ব পালন করছেন কি না, সেটি নীতিমালার আলোকে স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন।
তাদের দাবি, রেহানা খাতুনের নিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো বিধিমালা লঙ্ঘন হয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা হোক। প্রয়োজন হলে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত করে অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নীতিমালা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। ফলে রেহানা খাতুনের তথ্য সংগ্রহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকবে কি না, তা এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।