সরকারি ভাতা, শিশু কার্ড ও পানির ট্যাংকি পাইয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রান্তিক ও অসহায় মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বর্ণি ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য বিলকিস বেগমের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ইউপি সদস্য বিলকিস বেগম এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোকে সরকারের নানা সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করছেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, শিশু কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে গজালিয়া গ্রামের নার্গিস বেগমের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা, জাহানারা বেগমের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা, নেহার বেগমের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা, শুকুর শরিফের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা এবং নূরজাহান বেগমের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এ ছাড়া সিঙ্গিপাড়া গ্রামের কুব্বুত আলীর কাছ থেকে সমিতি বাবদ ৬৭০ টাকাসহ মোট ছয়জনের কাছ থেকে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বিলকিস বেগম নিয়মবহির্ভূতভাবে নিজের মেয়ের নামে গর্ভবতী ভাতা ও শিশু কার্ড তৈরি করেছেন এবং নিজের নামেও একাধিক সরকারি সুবিধা কুক্ষিগত করে রেখেছেন। এর আগেও পানির ট্যাংকি প্রদান এবং উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে নানা অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

অর্থ খোয়ানো ভুক্তভোগীরা জানান, প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে টাকা ফেরত চাইলে দীর্ঘদিন ধরে নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করেন অভিযুক্ত নারী সদস্য। পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করলে তিনি টাকা ফেরত দিতে ৭ দিনের সময় চান। তবে নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও ভুক্তভোগীরা তাদের টাকা ফেরত পাননি। ফলে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে চরম মানসিকভাবে বিপর্যস্ত দিন কাটাচ্ছেন এলাকার সাধারণ মানুষ।

এ ঘটনায় বিচার ও অর্থ ফেরতের দাবিতে ভুক্তভোগী নার্গিস বেগমসহ অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্তরা যৌথভাবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। আবেদনে তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, আত্মসাৎ করা টাকা দ্রুত ফেরত এবং অভিযুক্ত ইউপি সদস্য বিলকিসের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।