মাওশির তদন্তে অনিয়মের তথ্য উঠে আসার দাবি, সিনিয়রদের টপকে দায়িত্ব গ্রহণসহ আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন

কুড়িগ্রাম জেলা নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ডিগ্রী কলেজে নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়ম, দায়িত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে বিধি লঙ্ঘন এবং কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তদন্তে অনিয়মের তথ্য উঠে আসার পর কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আখেররুজ্জামানের মাসিক ভাতা স্থগিত করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কলেজের কয়েকটি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিয়মনীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। বিশেষ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান, যুক্তিবিদ্যা ও লাইব্রেরিয়ান সায়েন্স বিষয়ে কর্মরত তিনজন প্রভাষকের নিয়মিত উপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তারা নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত না থেকেও দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও সরকারি নথিপত্রের পূর্ণাঙ্গ যাচাই প্রয়োজন।

কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। অভিযোগ করা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে পাশ কাটিয়ে আখেররুজ্জামানকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া হয়। দায়িত্ব প্রদানের ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতা ও প্রচলিত বিধিবিধান যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না—এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কলেজসংশ্লিষ্টরা।

এদিকে কলেজের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়েও নানা অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে। কলেজের বিভিন্ন খাত থেকে আয়, ব্যয় এবং সংশ্লিষ্ট অর্থের ব্যবস্থাপনা নিয়ে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন। এসব বিষয়ে তদন্তে কী কী তথ্য উঠে এসেছে, তা প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মাউশির তদন্তে কলেজের নিয়োগ প্রক্রিয়াসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন বিষয়ে অনিয়মের তথ্য পাওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আখেররুজ্জামানের মাসিক ভাতা স্থগিত করা হয়েছে। তবে ভাতা স্থগিতের সুনির্দিষ্ট কারণ, আদেশের তারিখ ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাই করে প্রতিবেদন প্রকাশ করা জরুরি।

কলেজের কয়েকজন শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়োগ, শিক্ষক উপস্থিতি, দায়িত্ব বণ্টন এবং আয়-ব্যয়ের হিসাব স্বচ্ছ ও বিধিসম্মত হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিষয়ে অভিযোগ থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আখেররুজ্জামানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অভিযুক্ত তিন প্রভাষকের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।

কলেজসংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, মাউশির তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি প্রকাশের মাধ্যমে রায়গঞ্জ ডিগ্রি কলেজের নিয়োগ, শিক্ষক উপস্থিতি, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ এবং আয়-ব্যয় সংক্রান্ত অভিযোগের প্রকৃত চিত্র পরিষ্কার হবে।