পিরোজপুরের নেছারাবাদে ১৫ জন শিক্ষক ও তিনজন কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও একটি মাদ্রাসা থেকে চলতি বছরের দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া পাঁচজন শিক্ষার্থীর মধ্যে কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। শতভাগ ফেল করা নন-এমপিওভুক্ত পূর্ব আকলম দাখিল মাদ্রাসা-র এই হতশ্রী ফলাফলে প্রশ্ন উঠেছে প্রতিষ্ঠানের পাঠদান, শিক্ষক উপস্থিতি ও সার্বিক তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর নেছারাবাদ উপজেলার ২১টি মাদ্রাসা থেকে মোট ৫৪৫ জন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেয়। যার মধ্যে ৩০৯ জন উত্তীর্ণ হয়েছে, ২২ জন পেয়েছে জিপিএ-৫ এবং উপজেলায় গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৬.৬৯ শতাংশ। তবে উপজেলার ৮টি মাদ্রাসায় পাসের হার ছিল ৫০ শতাংশের নিচে।

এই তালিকার সবচেয়ে তলানিতে অবস্থান করছে ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত পূর্ব আকলম দাখিল মাদ্রাসা। বর্তমানে এমপিওভুক্তির আবেদনে থাকা মাদ্রাসাটিতে দুই শতাধিক শিক্ষার্থী এবং ১৮ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকা সত্ত্বেও পাঁচ পরীক্ষার্থীর সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

এছাড়া উপজেলার আরও বেশ কয়েকটি মাদ্রাসার ফল ছিল আশঙ্কাজনক। পাটিকেলবাড়ী দরগাহ শরীফ মাদ্রাসা থেকে ১৮ জনের মধ্যে মাত্র ২ জন, নেছারাবাদ মোজাদ্দেদিয়া মাদ্রাসায় ১১ জনের মধ্যে ২ জন এবং গাজীপুর মৈশানী হারুন অর রশিদ ফাজিল মাদ্রাসায় ১৫ জনের মধ্যে ৫ জন পাস করেছে। অন্যদিকে বিন্না নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৬ জনের মধ্যে ৭ জন, আউরিয়া হোসাইনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ৩৪ জনের মধ্যে ৯ জন, মাহমুদকাঠি দাখিল মাদ্রাসায় ২৭ জনের মধ্যে ১২ জন, হজরত রাবেয়া বসরি (রহ.) মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ১৬ জনের মধ্যে ৫ জন এবং গুয়ারেখা রাব্বানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৫ জনের মধ্যে ৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে।

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো নন-এমপিওভুক্ত। এ বছর পাঁচজন শিক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউ পাস করতে পারেনি। এর সুনির্দিষ্ট কারণ তারা বুঝে উঠতে পারছেন না।

তিনি বলেন, মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকদের বেতন হয় না। এ কারণে কখনো কখনো শিক্ষকরা অনুপস্থিত থাকতেন। ফল খারাপ হওয়ার পেছনে এটিও একটি কারণ হতে পারে। মাদ্রাসাটি এমপিওভুক্ত হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা করেন।

নেছারাবাদ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জহিরুল আলম বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানের ফলাফল ভালো হয়েছে। তবে কিছু প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও ফলাফল খারাপ হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি দিয়ে ফলাফল খারাপ হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হবে।