লালপুর-বাগাতিপাড়ার কৃতিসন্তান, নাটোরের ইতিহাসের প্রথম মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মরহুম ফজলুর রহমান পটলের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ব্যতিক্রমী মানবিক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এ উপলক্ষে দোয়া মাহফিল, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের মাঝে খাবার বিতরণ এবং তাদের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে উপজেলার ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয় মিলনায়তনে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল এমপি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং প্রতিষ্ঠানের সভাপতি মো. বরকত উল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবীর হোসেন, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান হারুনার রশিদ পাপ্পু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিদ্দিক আলী মিষ্টু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুস সালাম, প্রতিষ্ঠান প্রধান মো. সিমানুর রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক নেতৃবৃন্দ ও সুধীজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল এমপি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে সময় কাটান, তাদের হাতে খাবার তুলে দেন এবং শিশুদের সঙ্গে একই টেবিলে বসে মধ্যাহ্নভোজে অংশগ্রহণ করেন।
ফজলুর রহমান পটলের স্মৃতিকে মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেয় ছায়া প্রতিবন্ধী ও অটিস্টিক বিদ্যালয়। আয়োজকদের মতে, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে একজন জননেতার স্মৃতিকে মানুষের কল্যাণে অর্থবহ করে তোলাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
অনুষ্ঠানের বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তাঁর স্মরণে ‘ফজলুর রহমান পটল স্মৃতি বৃক্ষ’ রোপণ করা হয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তাঁর স্মৃতি, মানবিক মূল্যবোধ ও জনকল্যাণের চেতনা পৌঁছে দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ফজলুর রহমান পটল ছিলেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। লালপুর-বাগাতিপাড়ার মানুষের কাছে তিনি দীর্ঘদিনের পরিচিত ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব, রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও জনসম্পৃক্ততার কারণে উত্তরবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন।
২০১৬ সালের ১১ আগস্ট কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর এক দশক পূর্তিতে এবার তাঁকে স্মরণ করা হলো একটি ভিন্নধর্মী ও মানবিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
বিশেষচাহিদাসম্পন্ন শিশুদের প্রতি সমাজের ভালোবাসা, সম্মান, অধিকার ও দায়িত্ববোধ আরও জোরদার করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য বলে জানান আয়োজকরা।
তাঁদের প্রত্যাশা, মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিশেষচাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে এই মানবিক মিলনমেলা শুধু একটি স্মরণ অনুষ্ঠান হিসেবে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি অন্তর্ভুক্তিমূলক, বৈষম্যহীন ও মানবিক সমাজ গঠনের একটি ইতিবাচক বার্তা হিসেবে মানুষের কাছে পৌঁছাবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক, সাংবাদিক, সুধীজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।