মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় পৈতৃক সম্পত্তি দখল, গাছপালা কেটে ফেলা এবং একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে ভুক্তভোগী পরিবারকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিকার ও ন্যায়বিচার চেয়ে সম্প্রতি উপজেলা শিবচর প্রেসক্লাব চত্বরে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা ডাঃ নূর মোহাম্মদ মোড়লের প্রায় ১৬০ শতাংশ জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি বিরোধ চলে আসছে। এ বিষয়ে আদালতে একটি রিট পিটিশনও বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

তবে বিচারাধীন এই বিষয়টিকে তোয়াক্কা না করে প্রতিপক্ষ আব্দুল হাই মিয়া ও তার ছেলেরা ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক জমি দখলের পাঁয়তারা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ ওঠে।

গত বছরের ২৫ অক্টোবর প্রতিপক্ষরা জমিতে প্রবেশ করে গাছপালা কেটে ফেলেন এবং জমির একাংশ দখলের চেষ্টা করেন। বাধা দিতে গেলে ভুক্তভোগী পরিবারকে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

ভুক্তভোগী পরিবারের আকুতি
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে ডাঃ নূর মোহাম্মদ মোড়লের পরিবার জানায়, তাদের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ও গৃহকর্তা অত্যন্ত অসুস্থ। তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে দুটি বাইপাস সার্জারি সম্পন্ন করেছেন এবং বর্তমানে মৃত্যুশয্যায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
“আমার হাজবেন্ড খুব অসুস্থ… গত জানুয়ারি থেকে দুইবার বাইপাস করা হয়েছে, সে দুইবার হার্ট অ্যাটাক করছে। এখন সে মৃত্যুশয্যা, আমার হাজবেন্ডকে হসপিটালে রেখে, অচেতন অবস্থায় আমি মাদারীপুর গেছি হাজিরা দেওয়ার জন্য। ও (প্রতিপক্ষ) আমাকে মিথ্যা পাঁচটা মামলা দিয়ে কোথায় নিয়ে দাঁড় করিয়েছে! — বলছিলেন ভুক্তভোগী পরিবারের নারী সদস্য।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষ ফাইজুর ও তার পরিবারের লোকজন দীর্ঘদিন ধরে তাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। গত বছর ২৮ সেপ্টেম্বর সেনাবাহিনীর প্রভাব দেখিয়ে তাদের বসতবাড়ির বিল্ডিং ও ঘর-দরজা ভাঙচুর করা হয়। এমনকি বাড়িতে ভাড়াটিয়াদেরও নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।
প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি
মানববন্ধন থেকে বক্তারা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আদালতের বিচারাধীন বিষয়ে প্রভাব খাটিয়ে কোনো পক্ষ যেন জবরদস্তি করতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুল হাই মিয়া ও তার ছেলে মেজর ফাহিমের সঙ্গে তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রকাশ করা হবে।