চিলমারীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের হস্তক্ষেপে দেড়যুগ পর পূর্ব চরপাত্রখাতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন রাস্তার কাজ শুরু হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মাঝে আনন্দের বন্যা বইছে।
জানা গেছে, পূর্ব পাত্রখাতা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ১৯৮৮ ইং সনে এলাকাবাসীদের উদ্যোগে কোমলমতি শিশুদের লেখা-পড়ার সুবিধার্তে স্থাপিত হয়। প্রতিষ্ঠানটি বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধের খাল ঘেষে নির্মিত হওয়ায় শুরু থেকেই শিক্ষার্থীরা আইল রাস্তা ধরে নিয়মিত বিদ্যালয়ে লেখা পড়ার জন্য যাতায়াত করতো। নতুন বসতি নির্মানে আইল রাস্তাটি বন্ধ হয়ে গেলে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে যাওয়ার রাস্তা হারিয়ে ফেলে। ফলে এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষকগন স্কুলের চলাচলের জন্য বীরমুক্তি যোদ্ধা আইনুল হক মোল্লা ও পড়শি শামছুল হকের বাড়ির ভিতর দিয়ে দীর্ঘ দেড় যুগ ধরে চলাচল করে আসছিল। বিদ্যালয়টি পরিদর্শনে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সহ উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষ স্কুলটি পরিদর্শনে এসে বিদ্যালয়ের রাস্তাটি নির্মাণের উদ্যোগ নিলেও জমির মালিকানা বিরোধে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে একাধিকবার বিভিন্ন পত্র-পত্রকায় সংবাদ ও উপসম্পাদকীয় লেখা প্রকাশ হলেও দুই পড়শির জমির বিরোধে রাস্তা নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। অবশেষে চিলমারী নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসানের একান্ত প্রচেষ্টায় ও এলাকাবাসীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় দুই পড়শির বিরোধ নিষ্পত্তি করে মুক্তিযোদ্ধা আইনুল হক মোল্লার নিজ জমি দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণের জন্য প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করা হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি, চিলমারী উপজেলা শাখার আহব্বায়ক আব্দুল বারী সরকার, যুগ্ম আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক ফজলুল হক, চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ নয়ন কুমার, প্রেসক্লাব চিলমারীর সভাপতি হুমায়ূন কবির, সাংবাদিক আনোয়ারুল ইসলাম জুয়েল, সাংবাদিক আবু ওবায়দুল হক খাজা, সাংবাদিক আসিফ,সাংবাদিক বদরুদ্দোজা বুলু, স্থানীয় মেম্বার মনসুর আলী, স্থানীয় বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ,দুলাল মিয়া সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও শিক্ষার্থী অভিভাবকগন। উক্ত রাস্তার কাজটি দীর্ঘ দেড়যুগ পর শুরু হওয়ায় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এ মহতি পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে চিলমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল বারী সরকার জানান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের এ ধরণের পদক্ষেপ দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। চিলমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাহমুদুল হাসানের মুখমুখি হলে তিনি এ প্রতিনিধিকে জানান, এডিপির বরাদ্দ হতে সাড়ে আঠারো লক্ষ টাকা রাস্তাটির জন্য বিশেষ বরাদ্দ দান করা হলেও বিভিন্ন বাধার মুখে রাস্তাটি করা সম্ভব হয়নি।