বিনম্র শ্রদ্ধা ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঈদগাঁওতে ঐতিহাসিক ৫ আগস্ট ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে। দিবস উপলক্ষ্যে ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃক আয়োজিত স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক পটভূমি ও তাৎপর্য এবং শহিদদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
আলোচনা সভায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বক্তারা উল্লেখ করেন যে, ১৬ জুলাই ‘শহীদ আবু সাঈদ দিবস’ এবং ৫ আগস্ট ‘নতুন বাংলাদেশ দিবস’ পালনে ছাত্র-জনতার অদম্য সংগ্রামের ইতিহাস চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। মূলত কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকেই এ গণঅভ্যুত্থানের বিশাল বিস্তার ঘটেছিল।
সভায় ফ্যাসিবাদী শাসন ও রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বলা হয় যে, গণআন্দোলন দমনের সব চেষ্টা প্রতিহত করে দেশের আপামর ছাত্র- জনতা এ মহাবিস্ফোরণ ঘটিয়েছিলেন। তৎকালীন কর্তৃত্ববাদী সরকার ছাত্র-ছাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা ও অধিকার হরণ করেছিল। তারাবিরোধী মত দমন ও কঠোর নিপীড়নমূলক আচরণে মেতে উঠেছিল। রাষ্ট্রীয় দুর্নীতি ও অর্থ পাচার চলছিল প্রকাশ্যে। মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে দেশের মানুষ হয়ে উঠেছিলেন দিশেহারা। তারুণ্যের বেকারত্ব ও হতাশা হতাশা থেকে সংঘটিত এ মহাজাগরণ শেখ হাসিনার পতন অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করা হয়। পরিচালিত হয় দেশাত্মবোধক গান ও আবৃত্তি সেশন।
প্রধান শিক্ষক খুরশীদুল জন্নাতের সভাপতিত্বে আয়োজিত এতে স্বাগত বক্তব্য দেন সিনিয়র শিক্ষক মোঃ রেজাউল করিম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সহকারি শিক্ষক মোজাম্মেল হক।
শিক্ষকদের মধ্যে জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ মূলক বক্তব্য দেন সহকারি শিক্ষক আব্দুল খালেক মিশু, মোঃ হাবিবুল্লাহ, নুরুল হুদা ও মোঃ জসিম উদ্দিন। দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করেন সহকারি শিক্ষক আবু বক্কর ছিদ্দিক। শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন ল্যাব সহকারি আনিসুর রহমান।
অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারি প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ সিরাজুল হক, সিনিয়র শিক্ষক নুরুল কবির, আব্দুল মজিদ খান, পূর্ণাম পাল, এস, এম, তারেক, দেলোয়ার হোছাইন, দেলোয়ার হোসেন, আশিকুর রহমান, আব্দুল্লাহ আল নোমান, নুরুল আবছার, ফাতেমা বেগম, রাশেদা কাউছার, নুসরাত সুলতানা, মোঃ আলম, মোঃ রফিকুল ইসলাম, ইফফত সানিয়া, শামসুল আলমসহ কর্মচারীবৃন্দ ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন।